মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

ফররুখ আহমদ জাতীয় ঐতিহ্য মননকে ধারণ করে কাব্য চর্চায় ব্রতী হন

গতকাল শনিবার গাইড হাউজ মিলনায়তনে ফররুখ জন্মশতবর্ষ উদযাপন জাতীয় কমিটির উদ্যোগে কবি ফররুখ আহমদের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয় -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : কবি ফররুখ আহমদ জন্মশতবর্ষ উদযাপন জাতীয় কমিটির আলোচনা সভায় বক্তারা দেশের তরুণ সমাজকে ফররুখ গবেষণায় সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, বাংলা সাহিত্যের মৌলিক কবি হিসেবে রবীন্দ্রনাথ এবং নজরুলের পরেই কবি ফররুখ আহমদের অবস্থান। নজরুলের কবিতার মত ফররুখের কবিতাও মনে শিহরণ জাগায়।
গতকাল শনিবার রাজধানীর বেইলি রোডস্থ গাইড হাউস মিলনায়তনে এক আলোচনার আয়োজন করা হয়। এতে কবির কর্মের ওপর আলোচনা ছাড়াও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়।  অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক মুস্তফা জামান আব্বাসীর সভাপতিত্বে কবির জীবন কর্মের ওপর আলোকপাত করেন বিশিষ্ট লোক-বিজ্ঞানী ড. আশরাফ সিদ্দিকী, আব্দুল হান্নান, ড. মাহমুদ শাহ কোরেশী, অধ্যাপক মুহাম্মদ মতিউর রহমান, হাসনাত আব্দুল হাই, অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল গফুর, কবি আল মুজাহিদী, ড. মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ, মিন্টু রহমান, সেলিম আউয়াল, মাজহারুল হান্নান, অধ্যাপিকা গুলশান আরা প্রমুখ। অনুষ্ঠানে প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন কথা সাহিত্যিক মাহবুবুল হক।
প্রসঙ্গত, কালজয়ী কবি ফররুখ আহমদ বাংলা সাহিত্যের এক অমর কবি-প্রতিভা। এ মহান কবির জন্মের একশত বছর পূর্ণ হচ্ছে এ বছরই।
ড. আশরাফ সিদ্দিকী কবির সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করে বলেন, কবি ফররুখ তরুণদের কাছে ছিলেন আইকন। কাউকে একবার দেখলে তিনি ভুলতেন না। তিনি ছিলেন সরল প্রকৃতির। তিনি ফররুখ গবেষণায় তরুণদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান।
মুস্তফা জামান আব্বাসী বলেন, বর্তমান অনেক জনপ্রিয় লেখকের সঙ্গে আমার দেখা হয়। তাদের জিজ্ঞেস করি আপনারা নজরুল নিয়ে কিছু লিখেছেন ? তারা না বোধক উত্তর দেন।  কিন্তু আমাদের কাছে নজরুল দ্রোহের কবি। আর ফররুখ বেদনাহতের কবি। তাকে আমরা বিস্তৃত হতে দিতে পারি না।
তিনি আরও বলেন, ফররুখ আহমদ জাতীয় ঐতিহ্য ও মননকে ধারণ করে কাব্য-চর্চায় ব্রতী হন। তিনি একান্তভাবে স্বদেশ, স্বজাতি ও সমকালীনতাকে ধারণ করে স্বতন্ত্র ভাষা ও অসাধারণ শিল্প-নৈপুণ্যে বাংলা সাহিত্যে স্বাতন্ত্র্যিক উজ্জ্বল ধারা সৃষ্টি করেছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পটভূমিতে সৃষ্ট মনান্তরে লাখ লাখ মানুষের দুর্দশাগ্রস্থ জীবন ও করুণ মৃত্যুর বিষয় নিয়ে তিনি অসাধারণ কবিতা লিখেছেন। তিনি বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন। একাধারে রোমান্টিক কাব্য, মহাকাব্য, সনেট, ব্যঙ্গকবিতা, শিশুসাহিত্য, কাব্যনাট্য, গীতিনাট্য, ব্যঙ্গনাট্য, ছোটগল্প, উপন্যাস ও প্রবন্ধ রচনা করেছেন। বিচিত্র ভাব-বিষয়, বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ভাষা, আধুনিক শিল্প-কৌশল এবং সর্বশ্রেণির মানুষের উপযোগী কাব্য-কর্মের বিশাল ভান্ডার তিনি উপহার দিয়েছেন। 
কবি আল মুজাহেদী ফররুখের জন্মদিন  সরকারীভাবে পালন করতে রাষ্ট্র বাংলা একাডেমি এবং নজরুল ইন্সিটিটিউকে আহ্বান জানান। সেইসাথে ঢাকা একটি ফররুখ স্কয়ার বানানোর আহ্বান জানান।
অধ্যাপক আবদুল গফুর বলেন, কবি ফররুখ একাধারে ভাষা আন্দোলন এবং ইসলামী জাগরণের আন্দোলন করেছেন।
 হাসনাত আবদুল হাই বলেন, কবির ‘সাত সাগরের মাঝি’ পৃথিবীর ১০টি কবিতার মধ্যে একটি। এই কবিতাকে নজরুলের বিদ্রোহী কবিতার সঙ্গে তুলনা করা যায়।
ড. আবদুল মজিদ মনে করেন, জাতির পক্ষ থেকে ফররুখ চর্চা বাড়ানো প্রয়োজন। কবি ডাহুক কবিতা দিয়ে মুসলীম জাতিকে জাগিয়ে তুলতে চেয়েছেন।
গুলশান আরা বলেন, ফররুখ ছিলেন মৌলিক এবং মুসলীম জাগরণের কবি। তিনি মুসলীম নায়কদের টেনে এনেছেন। এর মধ্যে রয়েছে হাতিম তাই, সিন্দাবাদ। তার সনেটও ছিল মহাকাব্যিক ব্যঞ্জনাময়। তবে ’৭৪ সালে কবিকে তিলে তিলে মেরে ফেলা হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন কবির লাশ নিয়েও নানা নাটক করা হয়েছে। 
কবির ছেলে আহমদ আক্তার কথা বলতে গিয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তিনি বলেন, কবি ফররুখের কবি হয়ে ওঠার পেছনে তার মা (কবির স্ত্রী) তৈয়বা খাতুনের যথেষ্ট ভূমিকা ছিল। শত সমস্যা থাকলেও তার কোন অভিযোগ ছিল না। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ