সোমবার ০১ মার্চ ২০২১
Online Edition

রাজশাহীর মেয়রের ব্যানার সরিয়ে ফেলার প্রতিবাদে রাজপথে অবস্থান বুলবুলের

রাজশাহী : মেয়রের ব্যানার আ’লীগ কর্মীরা সরিয়ে ফেলার প্রতিবাদে রাজপথে অবস্থান নেন রাজশাহী সিটি মেয়র বুলবুল। এ সময় জনতার ভিড় -সংগ্রাম

রাজশাহী অফিস : রাজশাহী মহানগরীর প্রাণকেন্দ্র সাহেব বাজার আরডিএ মার্কেটের সামনের ফুট ওভার ব্রিজে টানানো রাজশাহী সিটি মেয়রের রমযানের শুভেচ্ছা জানিয়ে একটি ব্যানার আ’লীগ কর্মীরা সরিয়ে ফেলার প্রতিবাদে রাজপথে অবস্থান নেন রাজশাহী সিটি মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। গতকাল মঙ্গলবার দুপরে এ ঘটনার সময় বিপুল সংখ্যক জনতা ভিড় করে। মেয়র বুলবুল জনতা ও মিডিয়ার উদ্দেশ্যে বলেন, আওয়ামী লীগ দেশটাকে মগের মুল্লুকে পরিণত করেছে। এর প্রতিবাদে জনতার মাঠে নামার বিকল্প নেই।
অভিযোগে প্রকাশ, রাজশাহী সাহেব বাজার আরডিএ গেটের সামনে ফুট ওভার ব্রীজে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের পক্ষ থেকে জনসাধারণকে রমযানের শুভেচ্ছা ও নগরবাসীকে বিভিন্ন পরামর্শ সম্বলিত ব্যানার টাঙ্গানো ছিল। কিন্তু গত সোমবার রাত ৮টার দিকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা এই ব্যানারটি তুলে ফেলে এএইচএম খায়রুজ্জমান লিটনের নির্বাচন-প্রচারাণার ব্যানার লাগিয়ে দেয়। মহানগর বিএনপি’র সভাপতি ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল জানান রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে এর প্রতিবাদ জানান এবং বিষয়টি পুলিশ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। তিনি মঙ্গলবার বেলা ১২টার মধ্যে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীর ব্যানার সরিয়ে নেয়ার আল্টিমেটাম দেন। এরমধ্যে আগের অবস্থান ফিরে না আসলে রাসিকের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ স্বরূপ আরডিএ গেটের সামনে অবস্থান নেয়ার ঘোষণা দেন। সে মোতাবেক গতকাল দুপুরে তিনি তার কর্মসূচি শুরু করেন। এসময় মেয়র বলেন, সিটি কর্পোরেশনের জায়গাতে সিটি কর্পোরেশনের তথ্যসহ ব্যানার টাঙানো হয়। কিন্তু অনির্বাচিত, অগণতান্ত্রিক ও অবৈধ সরকার আওয়ামী লীগের দাপটে তার সন্ত্রাসী বাহিনী দেশে যা ইচ্ছা তাই করছে। দেশটাকে মগের মুল্লুকে পরিণত করেছে আওয়ামী লীগ। এই অবস্থা বেশীদিন চলতে দেয়া হবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারী দেন। তিনি আরো বলেন, আগামী সিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের কর্মীরা নগরীতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। ষড়যন্ত্রের ফাঁদে ফেলে বিএনপি ও অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও জেলে প্রেরণ করার পাঁয়তারা করছে। এই ফাঁদে কোনভাবেই পা না বাড়ানোর জন্য নেতাকর্মীদের পরামর্শ প্রদান করেন তিনি। বতর্মান পরিস্থিতি সিটি কর্পোরেশনের আইন অনুযায়ী সমাধান করা হবে বলে তিনি জানান। সেইসাথে আজকে কর্পোরেশনের সকল কাউন্সিলরদের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। এদিকে, ঘোষনা অনুযায়ী প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে কোন পদক্ষেপ না নেওয়ার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে মেয়র অবস্থান শুরু করেন। তার অবস্থানের খবরে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এছাড়াও পূর্ব থেকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আশেপাশে অবস্থান নেয়। পরে ছাত্রদলের নেতা কর্মীরা ঘটনাস্থলে মেয়রের সঙ্গে যুক্ত হলে পরিস্থিতি উপ্তপ্ত হয়ে ওঠে। ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে মেয়রকে উদ্দেশ্য করে উত্তেজক স্লোগান দিতে দেখা যায়। বেশ কিছু সময় এই অবস্থা চলার পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাহিরে চলে যাওয়ার আশংখ্যায় পুলিশ উভয়কে স্থান ত্যাগ করার অনুরোধ করলে উভয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে উভয় দলের মধ্যে টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে। এসময়ে মেয়র সঙ্গে ছিলেন মহানগর বিএনপি’র সহ-সভাপতি হসরত মোহানী, কাউন্সিলর নুরুন্নাহার বেগম, শাহনাজ পারভীন শিখা, মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ওয়ালিউল হক রানা, মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি আসাদুজ্জামান জনি, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রেজাউলি করিম টুটুল, মহানগর ছাত্র দলের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রবি, ১নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকবর আলী জ্যাকি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাহিন আহম্মেদ নাহিন সহ ছাত্রদলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
রাজশাহীতে ছুরিকাঘাতে পুলিশের গাড়িচালক প্রশান্ত নিহত
রাজশাহী মহানগরীর কোর্ট ভেড়িপাড়া মোড়ে একদল সন্ত্রাসীর ছুরিকাঘাতে প্রশান্ত কুমার ঘোষ (২২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা শাকিল নামে আরো এক যুবক গুরুতর আহত হন।
সোমবার রাত ১০টার দিকে নগরীর পুলিশলাইন হাসপাতালের সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত প্রশান্ত কুমার নগরীর বুলনপুর ঘোষপাড়া এলাকার স্বপন কুমার ঘোষের ছেলে। তিনি পুলিশের টহল গাড়ি (হিউম্যান হলার) চালাতেন বলে পরিবারের লোকেরা জানিয়েছেন। স্থানীয়রা জানান, প্রশান্ত ঘোষ ও শাকিল নামে আরেক যুবক মিলে পুলিশলাইন হাসপাতালের সামনে দিয়ে হেঁটে যাবার সময় ৪/৫ জন যুবক পথরোধ করে তাদের ওপর হামলা মারধর ও প্রশান্তর বুকের বাম পাশে ছুরিকাঘাত করে। এ সময় ওই এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। তা ছাড়া পাশের মসজিদে তারাবির নামাজ চলছিল। এলাকাবাসী দ্রুত উদ্ধার করে তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা প্রশান্তকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে শাকিলকে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রাজপাড়া থানার পুলিশ জানায়, প্রশান্ত পুলিশের ভাড়া করা গাড়ি চালাত। তার খুনের কারণ সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। তবে পূর্বশক্রতার জেরে এ খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ