বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

রেকর্ড রান গড়ে বৃষ্টি আইনে জয় পেলো আবাহনী

 

স্পোর্টস রিপোর্টার : প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে সর্বোচ্চ ৩৯৩ রানের রেকর্ড গড়েই জয় পেয়েছে। তবে জয়টা আরো বড় হতে পারত আবাহনীর। কিন্তু আবাহনী বৃষ্টি আইনে মাত্র  ২০ রানে হারায় প্রাইম দোলেশ্বরকে।  আর এই জয়ে এবারের লিগের শিরোপাটা প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছে তারা। গতকাল ব্যাট নকরতে নেমে প্রাইম দোলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাবের বিপক্ষে ৩৯৩ রানের বিশাল স্কোর গড়ে আবাহনী।  কিন্তু সে লক্ষ্যটাও মামুলিই বানিয়ে ফেলছিলেন দোলেশ্বরের দুই ব্যাটসম্যান ফজলে রাব্বি ও মার্শাল আইয়ুব। কিন্তু বৃষ্টি কেড়ে নেয় তাদের স্বপ্ন। বৃষ্টি থামার পর অনেকটা দুরূহ লক্ষ্যে ছুটতে গিয়ে কুলিয়ে উঠতে পারেনি দলটি। ফলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে আবাহনী। বৃষ্টি আইনে ২০ রানের জয় পেয়েছে দলটি। যদিও কাগজে কলমে এখনও কিছু পথ বাকি। তবে তাতে রয়েছে জটিল সমীকরণ। আর এ হারে শিরোপা লড়াই থেকে ছিটকে গেল দোলেশ্বর। ১৪ ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট তাদের। সমান সংখ্যক ম্যাচে শীর্ষে থাকা আবাহনীর সংগ্রহ ২০ পয়েন্ট। আবাহনীর  দেওয়া বিশাল লক্ষ্য তারা করতে শুরুটা ভালো করতে পারেনি দোলেশ্বর। দলীয় ৩৩ রানেই ফিরে যান দুই ওপেনার ইমতিয়াজ হোসেন তান্না ও লিটন কুমার দাস। চাপে পড়া দলের হাল তৃতীয় উইকেট জুটিতে ধরেন ফজলে মাহমুদ ও মার্শাল আইয়ুব। তবে ৩০ ওভারে ২ উইকেটে ২১৭ রানে বৃষ্টি নামলে খেলা বন্ধ থাকে প্রায় দেড় ঘণ্টা। এরপর বৃষ্টি থামলে নতুন লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩৫ ওভারে ২৭৮ রান। সে লক্ষ্য তাড়া করার আগেই আবার বৃষ্টি নামে মাঠে। সে সময় ৩ উইকেটে দলটির সংগ্রহ ছিল ২৪৪ রান। ফলে বৃষ্টি আইনে হারতে হয় তাদের। রাব্বি এবং মার্শাল দুইজনই সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন। ৮৭ বলে ৯টি চার ও ৪টি ছক্কায় ১০০ রান রাব্বি আউট হলেও শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন মার্শাল। ৮৮ বলে ১০৮ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। ৯টি চার ও ৩টি ছক্কায় নিজের ইনিংস সাজিয়েছেন এ ব্যাটসম্যান। আবাহনীর পক্ষে ৬২ রানের খরচায় ৩টি উইকেট পান তাসকিন আহমেদ। এর আগে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নামে আবাহনী। দুই ওপেনার এনামুল হক বিজয় আর নাজমুল হোসেন শান্ত উপহার দেন দারুণ এক জুটি। ২৩৬ রানের অবিশ্বাস্য এক জুটি গড়েন তারা। ফলে দল পেয়ে যায় বড় রানের ভিত। বিজয়ের রান আউটে ভাঙে এ জুটি। এরপর ভারতীয় ক্রিকেটার হানুমা বিহারির সঙ্গে ৬৪ রানের জুটি গড়েন শান্ত। এরপর শান্ত আউট হলে বিহারি ও  মোহাম্মদ মিঠুনের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে রেকর্ড গড়া সংগ্রহ পায় আবাহনী। এর আগের রেকর্ডটিও ছিলে তাদেরই। ২০১৬ সালে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের বিপক্ষে ৫ উইকেটে ৩৭১ রান তুলেছিল তারা। ১২৬ বল  মোকাবেলা করে ১২৮ রান করেন বিজয়। ৭টি চারের সঙ্গে ৬টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন ডানহাতি এই ওপেনার।  সেঞ্চুরি তুলে নেন শান্তও। ১০৬ বলে ১২টি চার ও ২টি ছক্কায় ১০৯ রান করেন শান্ত। এছাড়া ৩৬ বলে ৭টি চার ও ২টি ছক্কায় ৬৬ রান করেন বিহারি। কম যাননি মিঠুনও। মাত্র ২৪ বলে ৫টি চার ও ২টি ছক্কায় ৪৭ রান করে অপরাজিত থাকেন এ ব্যাটসম্যান। দোলেশ্বরের পক্ষে ৮১ রানের খরচায় ২টি উইকেট পান সালাউদ্দিন শাকিল।

সংক্ষিপ্ত স্কোর 

আবাহনী লিমিটেড : ৫০ ওভারে ৩৯৩/৪ (বিজয় ১২৮, শান্ত ১২১, বিহারি ৬৬, মিঠুন ৪৭*, নাসির ৭,  মোসাদ্দেক ৬*; শাকিল ২/৮১, রেজা ১/৮০, শরিফুল্লাহ ০/৪৮, আবদুল্লাহ ০/৬৪, সানী ০/৬৯, জাকারিয়া ০/৪৮)

প্রাইম দোলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাব : ওভারে (ইমতিয়াজ ১২, লিটন ১৪, মাহমুদ ১০০, মার্শাল ১০৮, রেজা ০*; মাশরাফী ০/৩৪, তাসকিন ৩/৬২, সানজামুল ০/৪১, মিরাজ ০/৪৮, সাকলাইন ০/২৫, বিহারি ০/২১, নাসির ০/৯)

ফলাফল : আবাহনী লিমিটেড বৃষ্টি আইনে ২০ রানে জয়ী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ