রবিবার ১২ জুলাই ২০২০
Online Edition

খুলনার ৬ রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের সাড়ে তিনশ’ অস্থায়ী কর্মচারী হতাশ

খুলনা অফিস:খুলনা-যশোর অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ছয়টি পাটকলের অস্থায়ী কর্মচারীদের স্থায়ী না করে চাকরিচ্যুতিসহ নতুন কর্মচারী নিয়োগের ঘটনায় সাড়ে তিনশ’ কর্মচারীর পরিবারে হতাশা নেমে এসেছে। এ ব্যাপারে উচ্চ আদালতের নির্দেশও অমান্য হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বাংলাদেশ জুট মিল করপোরেশন (বিজেএমসি) নিয়ন্ত্রিত খুলনা-যশোর অঞ্চলের ক্রিসেন্ট, প্লাটিনাম, স্টার, ইস্টার্ন, জেজেআই ও কার্পেটিং মিলের ভুক্তভোগী শ্রমিকরা জানান, খুলনা অঞ্চলের ৬টি মিলের সেট-আপ কর্মচারীর শূন্যপদে সাড়ে তিনশ’ অস্থায়ী শ্রমিক রয়েছেন। তাদের অধিকাংশের শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি থেকে ¯œাতক বা ¯œাতকোত্তর। তারা দীর্ঘ পাঁচ থেকে ১০ বছর ধরে স্থায়ী হওয়ার আশায় কাজ করলেও তাদেরকে বাদ দেয়ার কৌশল হিসেবে বিজেএমসি ২০১৬ সালের ২২ জুলাই সাড়ে ৫শ’ শূন্যপদে একটি জাতীয় পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ ৩৫০ জন শ্রমিকের পক্ষে গত বছর জুলাই মাসে নাজমুল বাশার নামের এক শ্রমিক হাইকোর্টে রীট পিটিশিন নং ৮৯৫৮/২০১৭ করেন।

ওই পিটিশনে অভিযোগ করা হয়, বিজেএমসি বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ এর ধারা ৪ এর উপধারা ৭ও ৮ লংঘন করছে। বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাসের বেঞ্চে ওই রীট পিটিশনে শ্রমিকরা মিলগুলিতে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে ৫-১০বছর কাজ করেছেন বলে উল্লেখ করেন। ২০১৭ সালের ৩ জুলাই আদালত এ বিষয়ে রুল জারি করেন। পরবর্তীতে বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি কামরুল কাদের বিজেএমসি ওই নিয়োগ কার্যক্রমের পর ২০১৭ সালের পয়লা ডিসেম্বর থেকে ৬মাসের নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, মামলাটি বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ কোন কারণ ছাড়া তাদের চাকরী থেকে অপসারণ করছে। কাজ বন্ধ করে দিচ্ছে। ইতোমধ্যে ক্রিসেন্ট, প্লাটিনাম, জেজেআসহ বিভিন্ন মিল থেকে ১৫-২০জনকে চাকরীচ্যুত করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে একশ্রেণির শ্রমিক নেতা মিল কর্তৃপক্ষের সাথে হাত মিলাচ্ছে। ফলে সাধারণ শ্রমিকরা অসহায় হয়ে পড়েছেন।

রীটের বাদী নামজুল বাশার বলেন, ‘মামলা বিচারাধীন অবস্থায় চাকরীচ্যুতসহ বিভিন্ন কৌশলে শ্রমিকরা অসহায় হয়ে পড়েছে। অনেক আশা নিয়ে আমরা মিলগুলোতে স্বল্প বেতনে কঠোর পরিশ্রম করছি। কিন্তু এখন এমন ঘটনায় শত শত পরিবার পথে বসতে চলেছে। আমরা এ অবস্থা মুক্তি চাই।’

বিজেএমসির খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয়ের লিয়াজোঁ কর্মকর্তা গাজী শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘মামলাসহ সামগ্রিক বিষয়ে ঢাকা অফিস নিয়ন্ত্রণ করে। তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত জানেন না। তবে অভিজ্ঞ শ্রমিকদের স্থায়ী করার বিষয়ে আলোচনা রয়েছে বলেও তিনি শুনেছেন বলে জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ