রবিবার ২৫ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

সব বিভাগীয় শহরে প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক বিএনপির

স্টাফ রিপোর্টার: দ্বিতীয় দফাও অনুমতি না  পেয়ে আবারো আগামী ১৯ মার্চ রাজধানীর সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে জনসভা করার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। একইসাথে অন্যান্য বিভাগীয় শহরেও সমাবেশ করার ঘোষণা দেয় দলটি। গতকাল সোমবার সকালে নয়াপল্টনের বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, আমরা সরকারের এই সিদ্ধান্তের (বিকেলে সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে জনসভা করতে না দেয়ার) নিন্দা করছি, ক্ষোভ প্রকাশ করছি, প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমরা কোনো প্রতিবাদ কর্মসূচি না দিয়ে ভিন্ন ধরণের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছি। আগামী ১৯ মার্চ সোমবার আমরা সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে বিএনপির উদ্যোগে জনসভা অনুষ্ঠানের ঘোষণা করছি।
সাংবাদিক সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মইন খান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, আতাউর রহমান ঢালী, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা প্রত্যাশা করছি, তাদের (সরকার) শুভ বুদ্ধির উদয় হবে। বিশেষ করে যিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন তার কাছে আমরা আশা করবো যে, তিনি গণতন্ত্রের প্রতি ন্যুনতম শ্রদ্ধা পোষণ করেন তাহলে আমাদেরকে জনসভার অনুমতি দেবেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, সোহরাওয়ার্দি উদ্যানের ব্যাপারে আমরা এখনো ধৈর্য্য ধরছি, ধৈর্য্যরে সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে চাচ্ছি। আমরা আবারো জনসভার অনুমতি চাচ্ছি। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় যে কাগজপত্র তার আমরা যথাযথ জায়গায় দেবো।
তিনি বলেন, দেশনেত্রীর মুক্তির দাবিতে আমরা চট্টগ্রামে ১৫ মার্চ, বরিশালে ২৪ মার্চ এবং রাজশাহীতে ৩১ মার্চ জনসভা অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা আশা করি, সরকার এসব জনসভা অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করবেন। যাতে করে দেশে একটি গণতান্ত্রিক অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়া ৫ বছর কারাদন্ড নিয়ে কারাগারে যাওয়ার পর বিএনপি তার মুক্তির দাবিতে গত ২২ ফেব্রুয়ারি এবং সর্বশেষ আজ ১২ মার্চ দুই দফায় জনসভার জন্য পুলিশের কাছে অনুমতি চেয়ে ব্যর্থ হলো। সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে জনসভার জন্য গত ২ মার্চ মহানগর পুলিশ ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের কাছে অনুমতির জন্য চিঠি দেয়।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, গতকাল সামবার ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির উদ্যোগে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে জনসভা অনুষ্ঠিত করতে আমরা সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিলাম। এ উপলক্ষে দলের পক্ষ থেকে যথাযথ কর্তৃপক্ষ অর্থাৎ গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী ও পুলিশ কমিশনার বরাবর আবেদন করা হয়েছিল। জনসভা সফল করতে প্রচারপত্র বিলি থেকে শুরু করে ঢাকা মহানগর এবং বৃহত্তর ঢাকা জেলার নেতৃবৃন্দসহ দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সাথে বৈঠক করা হয়। গত ২২ ফেব্রুয়ারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বা দলীয় প্রধান কার্যালয়ের সামনে জনসভার জন্য উদ্যান কর্তৃপক্ষসহ পুলিশকে চিঠি দিয়ে অবহিত করি। কিন্তু বই মেলার দোহাই দিয়ে পুলিশ সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অথবা দলীয় কার্যালয়ের সামনে কোথাও জনসভা করার অনুমতি দেয়নি। সে সময় মৌখিকভাবে তারা পরবর্তী মাস অর্থাৎ এই মার্চ মাসে জনসভা অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে কোনো অসুবিধা হবে না বলে জানিয়েছিল।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, গণবিচ্ছিন্ন সরকার জন-আতঙ্কে ভোগে। জনগণের বিপুল সমাগমের সম্ভাবনা থাকলে সরকার অজানা আশঙ্কায় বিপন্নবোধ করে। এই কারণে বিএনপির জনসভাকে বানচাল করতে সরকার ধারাবাহিক বাধা প্রদান অব্যাহত রেখেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ