শুক্রবার ২০ মে ২০২২
Online Edition

উন্নত  দেশ গড়তে নারী ও পুরুষের সমান  অধিকার নিশ্চিত করতে হবে- প্রধানমন্ত্রী

 

সংগ্রাম ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, উন্নত দেশে গড়তে হলে অবশ্যই নারী ও পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’ এর অনুষ্ঠানে বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মেয়েরা পিছিয়ে নেই। তাদের সামনে যে বাধা ছিল তা ডিঙিয়ে সবক্ষেত্রে নারী এগিয়ে চলেছে, এগিয়ে যাবে। সুযোগ পেলে নারীরা নিজেদের প্রমাণ করতে পারে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।  আমাদের সময়.কম / শীর্ষনিউজ

তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর আমরা দেখি সচিব পর্যায়ে তখন কোনো নারী ছিল না। এমনকি একজন নারী জজও ছিল না। প্রত্যেকটি জায়গায় নারীকে এগিয়ে নিতে আমরা নানা সুযোগ-সুবিধা দিতে থাকি। এখন সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, বর্ডার গার্ড প্রতিটি পর্যায়ে নারীরা এগিয়ে চলছে। আমাদের মেয়েরা এভারেস্টে পর্যন্ত চলে যাচ্ছে। আমাদের মেয়েরা এখন আর খেলাধুলায়ও পিছিয়ে নেই। নারীরা যে সুযোগ পেলে পারে, তা আজ প্রমাণিত। সেজন্য স্থানীয় সরকারে পর্যন্ত মেয়েদের  কোটা করে দিয়েছি, যেন নারী নেতৃত্বটা গ্রাম থেকে উঠে আসে।

প্রধানমন্ত্রী নারীদের মেধা কাজে লাগিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মেয়েদের বসে থাকলে চলবে না।  নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। বেশি করে পড়ালেখা  করতে হবে। অর্থনৈতিকভাবে নারীদের স্বনির্ভর হতে হবে।  নারী উন্নয়ন বাস্তবায়নে আমরা সর্বদা কাজ করে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, আমরা যতই নারীর অধিকার নিয়ে স্লোগান দেই না কেন সেই অধিকার পায়ে হেঁটে আসবে না। নারীদের সেই অধিকার আদায় করে নিতে হবে। অর্থনৈতিক সক্ষমতা অর্জন করতে হবে তাদের। স্বাবলম্বী হতে হবে নিজেদের। তাহলেই নারীদের অধিকার নিশ্চিত হবে। অনুষ্ঠানে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য পাঁচ নারীর হাতে জয়িতা পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত এ আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক সচিব নাসিমা বেগম।

নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাধীন দেশ গড়ার পর জাতির পিতা মুক্তিযুদ্ধে সম্ভ্রম হারানো লাঞ্ছিত নারীদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি এই নিপীড়িতদের বীরাঙ্গনা খেতাব পর্যন্ত দেন।

এসময় তিনি বঙ্গবন্ধুর সফল আন্দোলনের পেছনে প্রেরণা  যোগানো নারী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের অবদানের কথাও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সরকার নারীদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার তৈরি করে দিয়েছে। এখন পর্যন্ত ৭৪টি ডে কেয়ার সেন্টার চালু করেছি, আরো চালু করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। আগে মাতৃকালীন ছুটি ছিল চার মাস আমরা সরকারে এসে মাতৃকালীন ছুটি করেছি ছয় মাস।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ