মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

কর্মসংস্থান প্রবৃদ্ধি কমেছে ৭১ শতাংশ

স্টাফ রিপোর্টার: গত চার বছরে (২০১২-২০১৬) তৈরি পোশাকখাতে কর্মসংস্থানের প্রবৃদ্ধি কমলেও বেড়ে গেছে পরিবারতন্ত্র। তাই রপ্তানি প্রবৃদ্ধি বাড়াতে এই খাতের পরিচালনা পর্ষদে পরিবারতন্ত্র কমিয়ে কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে জোর দিতে হবে।
 বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ১৯৩টি প্রতিষ্ঠানের দুই হাজার শ্রমিকের মধ্যে জরিপ চালিয়ে এ গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করেছে সিপিডি।
এসময় সংস্থাটির চেয়ারম্যান রেহমান সোবহান, সিপিডির রিসার্চ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ইসরাফিল আলম, কলকারখানা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক শামসুজ্জামান ভূঁইয়া, বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, বিকেএমইএ’র সহ-সভাপতি ফজলে শামীম, শ্রমিক নেতা বাবুল আক্তার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
গতকাল শনিবার রাজধানীর গুলশানে একটি হোটেলে পোশাকখাতের সার্বিক পরিস্থিতির ওপর সিপিডির এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।  সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. গোলাম মোয়াজ্জেম হোসেন এই প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত এই চার বছরে পোশাক খাতে কর্মসংস্থানের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ।  যা ২০০৫ থেকে ২০১২ পর্যন্ত ছিল ৪ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ।  সেই হিসেবে চার বছরে কর্মসংস্থানের প্রবৃদ্ধি কমেছে দশমিক ৭১ শতাংশ।  আর সার্বিকভাবে এই খাতে নারী শ্রমিকের সংখ্যাও কমেছে।
এতে বলা হয়, রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর গেলো কয়েক বছরে দেশের পোশাক খাতে সামাজিকভাবে অগ্রগতি হলেও অর্থনৈতিকভাবে অগ্রগতি পিছিয়ে রয়েছে।
 পোশাক কারখানাগুলোর পরিচালনা পর্ষদে পরিবারতন্ত্র বাড়ছে উল্লেখ করে  প্রতিবেদনে বলা হয়, এ খাতে পরিবারতন্ত্রে পরিচালিত বোর্ডের হার শতকরা ৮৯ শতাংশ।  অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা বোর্ডের অধিকাংশই একই পরিবারের সদস্য।
নারী-পুরুষের বেতন বৈষম্য কমেছে উল্লেখ করে এতে আরো বলা হয়, পোশাক খাতে পুরুষ ও নারীর মজুরির ক্ষেত্রে গড়ে তিন শতাংশ বেতন বৈষম্য রয়েছে। পুরুষদের গড় বেতন ৭ হাজার ২৭০ টাকা, অপরদিকে নারীদের গড় বেতন ৭ হাজার ৫৮ টাকা।  এছাড়া নারীদের কর্মসংস্থানের হার কমেছে বলেও জানানো হয়।
 রানা প্লাজা উত্তর পরিস্থিতিতে বিনিয়োগ থেমে থাকেনি।  নতুন নতুন পোশাক কারখানা হচ্ছে। যা উৎসাহব্যঞ্জক ফলাফল। এমনকি কারাখানা পর্যায়ে এসেছে ইতিবাচক বেশ কিছু পরিবর্তন।
গবেষণা জরিপের মূল উদ্দেশ্য হলো পোশাক খাতের প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে কী ধরনের অগ্রায়ণ হচ্ছে। আজ প্রাথমিক গবেষণার ফল তুলে ধরা হয়েছে। চূড়ান্ত গবেষণা ফলাফলে আরো গভীর তথ্য উপাত্ত পাওয়া যাবে বলে সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
গবেষণার ফলাফল নিয়ে সিপিডি এর সম্মন্বিত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, এই গবেষণায় প্রধান প্রধান পাঁচটি অংশ রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে রানা প্লাজার দুর্ঘটনার পরে আমাদের পোশাক খাতে বড় কী ধরনের পরিবর্তন হচ্ছে। সেটাকে সামনে রেখে একটি নমুনা জরিপ পরিচালনা করা। ১৯৩টি প্রতিষ্ঠান ও দুই হাজারের ওপর শ্রমিকদের নিয়ে এ নুমনা জরিপ পরিচালিত হয়েছে।
উৎসাহব্যঞ্জক ফলাফল হচ্ছে রানা প্লাজা উত্তর পরিস্থিতিতে  বিনিয়োগ থেমে থাকেনি, নতুন নতুন পোশাক কারখানা হচ্ছে। এমনকি কারাখানা পর্যায়ে বেশ কিছু পরিবর্তন আসছে। যেমন- ব্যক্তি মালিকানা থেকে গার্মেন্টেস লিমিটেডে পরিণত হচ্ছে। যদিও পরিচালনা পর্ষদে পরিবারের সদস্যদের অধিক্য দেখা গেছে। তবে পেশাদারি মনোভাব নিয়ে পরিচালনা পর্ষদ ব্যবস্থাপনা করছেন। এর মধ্যে অনেক পোশাক কারখানা নতুন ভবনে গেছেন।
১২ শতাংশ কারখানা এখনো পুরাতন ভবনে অবস্থান করছেন এমন তথ্য উপস্থাপন করে তিনি বলেন, রানা প্লাজা উত্তর পরিস্থিতে ছোট-বড় অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের কারখানা পরিবর্তন করলেও এখনো ১২ শতাংশের মতো কারখানা পুরাতন ভবনে রয়েছে। অন্যদিকে ১৬ শতাংশের মতো বিদেমি কর্মকর্তা এখাতে কাজ করছেন। তাদের আর্থিক মূল্যও গবেষণায় উঠে এসেছে।
তিনি বলেন, সামাজিক অগ্রায়নের ক্ষেত্রে যে তথ্য এসেছে এখনো শ্রমিকদের গড় বেতন ৭ হাজার ২০০ এর মতো। অর্থ্যাৎ ৮ হাজার টাকার নিচে। তবে নারী শ্রমিক ও পুরুষ শ্রমিকের মধ্যে গড় আয়ের ক্ষেত্রে পার্থক্য কমছে। নারীরা এগোচ্ছে। কিন্তু সামগ্রিকভাবে নারী শ্রমিকের সংখ্যা কমছে। নতুন প্রযুক্তির ব্যবহারের ক্ষেত্রে বড় প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এবং নারী শ্রমিকরা পিছিয়ে আছে। ট্রেড ইউনিয়নের উপস্থিতি কম। কল্যাণ সংঘ তুলনামূলকভাবে ক্রমন্বয়ে শক্তিশালী হচ্ছে। তবে ট্রেড ইউনিয়নের পরিস্থিতি দুর্বল।
সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রায়নে অসম পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে সম্মানিত ওই ফেলো বলেন, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রায়ণের হিসেবে অসম পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অসম অগ্রায়ণের প্রবণতা রয়েছে, অবস্থানগত অগ্রায়ণের দেখা যাচ্ছে ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো তেমনভাবে এগিয়ে যাচ্ছে না। সকল প্রতিষ্ঠান সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রায়ণের ক্ষেত্রে টিকতে পারছে না। এক্ষেত্রে ছোটরা অন্য সেক্টরে চলে যেতে পারে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ