শুক্রবার ৩০ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

নবাবগঞ্জে দারিদ্র্যকে জয় করে জীবনযুদ্ধে জয়ী দুই নারী

নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) থেকে এম রুহুল আমিন প্রধান: দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে দারিদ্র্যতাকে জয় করে জীবনযুদ্ধে জয়ী দুই আদিবাসী নারী দুলালী ও চানমনি। বসবাস উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলে। স্বামীর সংসারে দু’মুঠো ভাত আর মোটা কাপড় পাওয়া ছিল বড় কামনা। স্বামী সংসারে দারিদ্র্যতার কারণে অসহায়ত্ব জীবন যাপন করত ওই দুই নারী। দারিদ্র্যতার নির্মম কষাঘাত এত বেশী আক্রমন করেছিল সংসার জীবন তাদের জীবনে ছিল একটি দুষ্কর জীবন। ল্যাম্ব দুর্যোগ ঝুকি হ্রাস প্রকল্পের আওতায় এসে বেসরকারি সংস্থার মাঠ পর্যায়ে কর্মী ও কর্মকর্তাদের সহায়তায় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে দুলালী গ্রামেই দেয় মুদিখানার দোকান। আর চানমনি বাড়ি সংলগ্ন পরিত্যক্ত জায়গায় গড়ে তোলে সবজি বাগান। এখন ওই দুই নারী ভাগ্যের উন্নয়নের চাকা ঘুরিয়েছে। সমাজে অবস্থান করে নিয়েছে সচ্ছল্যতা। দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার বিনোদনগর ইউনিয়নের অন্তর্গত একটি গ্রাম খামার দেবীপুর। এই গ্রামের আদিবাসী পাড়ায় বসবাস করেন দুলালি সরেন। দুলালির স্বামীর নাম সুধীর কিস্কু, তিনি একজন দিনমুজুর। অন্যের জমি নিয়ে মাঝে মাঝে বর্গাচাষ করেন। তাদের একজন ছেলে ও তিনজন মেয়ে সন্তান আছে। বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছে, দ্বিতীয় মেয়ে কলেজে পড়াশুনা করে এবং ছেলে ও সবেমাত্র কলেজে পা দিয়েছে। সবার ছোট মেয়েটি প্রাথমিক স্কুলে পড়াশুনা করছে। দুলালি তার পরিবার নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে শ্বশুরের সঙ্গে ছোট ছোট ঘরে বসবাস করে। তারা শালোম প্রেসবিটারিয়ান চার্চের সদস্য। পরিবারের সকলে নিয়মিত উপাসনায় যায়। দুলালি লেখাপড়া তেমন না করলেও লেখাপড়ার গুরুত্ব সম্পর্কে অবগত ও সচেতন। সে বলে আমাদের বর্তমান হাতিয়ার লেখাপড়া। তাই সে তার সন্তানদের লেখাপড়া করিয়ে চলেছে। লেখাপড়া গুরুত্ব সম্পর্কে জানলেও সে সন্তানদের পড়াশুনা করাতে বাধাগ্রস্থ পারিবারিক অভাবের কারণে। ল্যাম্বের সহযোগীতায় ২০১৬খ্রি. ৭ই আগষ্ট ১১জন সদস্য নিয়ে একটি দল গঠিত হয়। দলটিতে সদস্যরা প্রতি সপ্তাহে মুষ্ঠি চাল জমা রাখে। দলটির নাম জবা উন্নয়ন দল। দলটির জমার পরিমাণ আনুমানিক ১০,০০০/- টাকা। পরিবার যখন অভাবের কারণে সন্তানদের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাবে এমন অবস্থায় দুলালি তার স্বামীর সঙ্গে পরামর্শ করে দল থেকে ৩,০০০/- টাকা ঋণ নিয়ে বাড়িতেই একটি ছোট মুদির দোকান দিয়ে বসে। দুলালির স্বামী মাঠে কাজ করে এবং দুলালি সেই দোকান পরিচালনা করে। দোকানে নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী অল্প করে রাখে। মহিলা দোকানী হওয়ার দরুন মহিলারাও তার দোকানে আসতে ইতস্তঃ করে না। অল্প দিনেই দুলালির দোকান অনেক বড় হতে থাকে। বর্তমানে দুলালি প্রতিদিন ৫০০-৬০০/- টাকার মালামাল বিক্রি করে। দুলালি মনে করে সে যদি আরো পুঁজি বিনিয়োগ করতে পারে তবে আরো লাভ করা সম্ভব। বর্তমানে তার দোকানে ৮-১০ হাজার টাকার মালামাল রয়েছে। সন্তানদের স্কুল ফি, টিউশন ফি, খাতা কলম ও স্কুল ড্রেসের জন্য আর কোন চিন্তা করতে হয় না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ