বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

তাড়াশের হাট-বাজারে ছেয়ে গেছে নিষিদ্ধ পলিথিন

শাহজাহান তাড়াশ সিরাজগঞ্জ থেকে: সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার হাট বাজার গুলোতে অবাদে হচ্ছে নিষিদ্ধ পলিথিন। ধ্বংস হচ্ছে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য। দেখার কেউ নেই। সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার বেশির ভাগ হাট বাজার গুলোতে অবাদে বিক্রি করা হচ্ছে নিষিদ্ধ পলিথিন। সকল প্রকার পলিথিন নিষিদ্ধ করার পরও চলনবিল অধ্যুশিত তাড়াশ উপজেলার হাট বাজারে গিয়ে দেখা গেছে প্রশাসনের নাকের ডগার উপর বসে ইচ্ছে মতো বিক্রি করছে নিষিদ্ধ পলিথিন। বিভিন্ন অভিজাত শপিং মহল থেকে শুরু করে ফুটপাত হকার ও অভিজাত বিপণি বিতান গুলোতে প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করে প্রকাশ্যেই পলিথিন ব্যবহার করে চলছে। সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বিশেষ করে মুদি দোকান, কাঁচা বাজার, মাছের বাজার সর্বত্রই নিষিদ্ধ ছোট, বড়, মাঝারি পলিথিন ব্যাগের ছড়াছড়ি। প্রকাশ্যেই আইন ভঙ্গ করে ব্যবসায়ী ও ব্যবহারকারীরা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যকে হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে। নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যবহার আইনের সঠিক প্রয়োগ না থাকায় প্রকাশ্যেই অবাদে বিক্রি করছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা। ফলে অপচনশীল এ দ্রব্যের ব্যাবহারে   আমাদের চার পাশ হয়ে উঠেছে বসবাসের অযোগ্য। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে প্রথম বারের মত ২০০২ সালের ১ জানুয়ারী ঢাকা ও ১ মার্চ সরাদেশে পলিথিনের তৈরী ব্যাগ ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়। পলিথিনের বহুল ব্যবহারের করণে ১৯৯৮ সালের বন্যায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পয়ঃ নিস্কাসন ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়লে পলিথিনের ব্যবহার নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২০০২ সালে নিশিদ্ধ হওয়ার পর জোরালো অভিযান ও আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে পলিথিনের ব্যবহার প্রায় শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব হয়। কিন্তুু এর পর ২০০৬ সালের শেষের দিকে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের সময় থেকে এ ব্যপারে নজরদারী সিথিল হয়ে পড়ায় আবার দাপটের সঙ্গে পলিথিনের আবির্ভাব ঘটে। আরও উল্লেখ্য,পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) অনুযায়ী নিষিদ্ধ পলিথিন উৎপাদন,আমদানি ও বাজারজাতকরণের অপরাধে সর্বোচ্চ ২ বছরের সশ্রম কারাদন্ড অথবা ২ লাখ টকার জরিমানা অথবা উভয়দন্ডে দন্ডিত হবে। একই ব্যক্তি যদি পরবর্তিতে অপরাধ করে তাহলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের সশ্রম কারাদন্ড বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয়দন্ডে দন্ডিত করার বিধান রয়েছে।
এ ছাড়া বিক্রয়, প্রদর্শন, বিতরণ, পরিবহন ও বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হলে সর্বোচ্চ ১ বছরের সশ্রম কারাদন্ড বা ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড অথবা উভয়দন্ডে দন্ডিত করার বিধান রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ