শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ রেলওয়ে শ্রমিক কর্মচারী সংগ্রাম পরিষদের সাংবাদিক সম্মেলন

চট্টগ্রাম অফিস: বাংলাদেশ রেলওয়ে শ্রমিক কর্মচারী সংগ্রাম পরিষদ বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের ৮৬৫ খালাসিসহ সব পদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি,অনিয়মের অভিযোগ তুলে তদন্তের দাবি জানিয়েছে ।
গত রোববার সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংগঠনের এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই দাবী জানানো হয় এবং এ বিষয়ে  প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
বাংলাদেশ রেলওয়ে শ্রমিক কর্মচারী সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মোখলেছুর রহমান সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন,  বর্তমানে ৮৬৫ জন খালাসি নিয়োগের প্রক্রিয়া ঢাকার এক বাসায় চূড়ান্ত করা হচ্ছে। নিরাপদ ট্রেন চলাচল মনিটরিং এর কাজ উপেক্ষা করে জিএম কমিটির লোকজনকে ঢাকায় ডেকে নিয়ে কোটি কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্য বাস্তবায়নের কাজে লিপ্ত করানো হয়েছে।মন্ত্রীর বাসায় নিয়ে যদি লোক নিয়োগের কথা হয়, তাহলে সেই মন্ত্রী দিয়ে কীভাবে মন্ত্রণালয় ভালোভাবে চলবে এবং এই মন্ত্রী দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ভিশন ২০২১ বাস্তবায়ন হবে তা মনে করার কোনো কারণ নেই। তিনি বলেন, নিয়োগে মেধার কোনো মূল্যায়ন হচ্ছে না। টাকার মূল্যায়ন হচ্ছে। রাতের আঁধারে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ চূড়ান্ত হচ্ছে। পোষ্য-মুক্তিযোদ্ধা কোনো কোটাই মানা হচ্ছে না। এই নিয়োগ মানি না।কোনো রেল কর্মচারী সন্তানের পোষ্য কোটার চাকরির জন্য মন্ত্রীর সাথে দেখা করতে গেলে তিনি তাদের অফিস থেকে বের করে দেন- এটা হতে পারে না। ওই কর্মচারীরা সারাজীবন রেলের সেবা করেছেন।
মোখলেছুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, মন্ত্রীর আশপাশের লোকজনের গড়ে ওঠা একটি সিন্ডিকেট পুরো নিয়োগ নিয়ন্ত্রণ করছে। সব নিয়োগেই তাদের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী চূড়ান্ত করতে হচ্ছে। এতে পোষ্যসহ কোন ধরনের কোটা মানা হচ্ছে না। অন্যদিকে নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।টাকার নিয়ে নিয়োগ দেওয়ার কারণে অদক্ষরা নিয়োগ পাচ্ছে । এতে রেলে দক্ষ জনবল সৃষ্টি হচ্ছে না। এছাড়া টাকার মাধ্যমে নিয়োগ পেয়ে কাজ না করে নানা অপকর্মে লিপ্ত হচ্ছে। অন্যদিকে দেশের সবচেয়ে বড় পরিবহন খাত ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রেলকে গতিশীল করতে আলাদা মন্ত্রণালয় করে বিপুল বরাদ্দ দিলেও সেই টাকা লুটপাটের মাধ্যমে খরচ হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, মন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট কাজ নিচ্ছে। কিন্তু সঠিকভাবে কাজ না করে রেলের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এতে বড় ধরনের সংকটে পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
সম্মেলনে  বক্তব্যে পরিষদের কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব মোহাম্মদ আলী বলেন, রেলে লোকবল নিয়োগে গঠিত নিয়োগ কমিটি সংশ্লিষ্ট মহাব্যবস্থাপকের অনুমোদন নিয়ে নিয়োগ তালিকা প্রকাশ করার নিয়ম।কিন্তু রেল মন্ত্রণালয়ের নগ্ন হস্তক্ষেপের মাধ্যমে নিয়োগ হয়ে থাকে। অথচ এই নিয়োগ কার্যক্রম চট্টগ্রামেই হওয়ার কথা। মোহাম্মদ আলী বলেন, নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। ট্রেড অ্যাপ্রেন্টিস লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের একবছর পর পরীক্ষা বাতিল হলেও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।যদি তখন ব্যবস্থা নেওয়া হত তাহলে সদস্য সমাপ্ত অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার টাইপিস্ট ও মেটারিয়াল চেকার পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হতো না।
সাংবাদিক সম্মেলনে ২২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম সার্কুলার লাইন প্রকল্প চালুর তিন মাস পর বাতিল করা, ওই প্রকল্পে নির্মিত স্টেশন ভেঙ্গে ফেলা, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহে চট্টগ্রাম স্টেশনে গৃহীত ম্যাক্স প্রকল্প অনুপযোগী এবং দুর্বল চুক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে রেলের জমি বরাদ্দ দেয়া বিপুল আর্থিক ক্ষতিরও অভিযোগ করা হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে রেলওয়ে রানিং স্টাফ শ্রমিক-কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রিয় আহ্বায়ক আবদুস ছবুর, রফিক চৌধুরী, কাজী আনোয়ারুল হক, মাহবুবুর রহমান মিন্টু, মো ফারুক আলম, এসকে বারী উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ