শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

শ্রীলংকায় চীনা প্রকল্পকে হুমকি হিসেবে দেখছে ভারত

 

২৬ ডিসেম্বর, গ্লোবাল টাইমস : শ্রীলংকায় চীনা বাণিজ্যিক প্রকল্প নিয়ে বিগত কয়েক সপ্তাহে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে ভারত। শুধু তাই নয়, শ্রীলংকায় ক্রমহ্রাসমান প্রভাব পুনরুদ্ধারে জাপানের সহায়তায় ভারত সেখানে বেশ কিছু প্রকল্পও শুরু করতে যাচ্ছে।

চীনের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত পত্রিকাকে চীনা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত শ্রীলংকাকে সার্বভৌম রাষ্ট্র মনে করে না, মনে করে তাদের পেছনের উঠান। তারা অন্যান্য দেশের সাথে চীনের সহযোগিতার সম্পর্ককে নিজেদের জন্য ক্ষতিকর হিসেবে বিবেচনা করছে, যেটা খুবই ভয়ঙ্কর। আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার জন্য এই মনোভাব ভালো নয়।

৯ ডিসেম্বর শ্রীলংকা ১.২ বিলিয়ন ডলারের চুক্তির বিনিময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে হামবানতোতা বন্দরের পরিচালনা কার্যক্রম চায়না মার্চেন্টস পোর্ট হোল্ডিংস কোম্পানির হাতে তুলে দেয়। চুক্তি অনুযায়ী চীনা প্রতিষ্ঠানটি আগামী ৯৯ বছর বন্দর পরিচালনা করবে। চীনা অর্থায়নে এ বন্দর নির্মাণ করেছে বেশ কিছু চীনা প্রতিষ্ঠান। ২০১০ সালে বন্দরের কার্যক্রম শুরু হলেও এ পর্যন্ত এখান থেকে মুনাফা করতে পারেনি শ্রীলংকা।

বন্দরের কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব চীনের কাছে হস্তান্তর করায় বিষয়টি বিশ্ব মিডিয়ায় বিশেষ করে ভারতীয় মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।

১৪ ডিসেম্বর হিন্দুস্তান টাইমসের সম্পাদকীয়তে হামবানতোতা বন্দরের চুক্তিকে তুলনা করা হয় ‘সোনার চেনে বাঁধা সাদা হাতি’র সাথে। এতে চীনের অবকাঠামো বিনিয়োগকে নব-ঔপনিবেশিক প্রকল্পের চেয়েও বেশি কিছু বলে মন্তব্য করা হয়।

রাজনৈতিক নয় বাণিজ্যিক

বন্দর নিয়ে চুক্তির বিষয়ে গ্লোবাল টাইমসের সাথে কথা বলতে রাজি হয়নি চায়না মার্চেন্টস পোর্ট হোল্ডিংস কোম্পানি। তবে দলিলপত্রে দেখা যাচ্ছে, এ চুক্তি পুরোপুরিই বাণিজ্যিক, রাজনৈতিক নয়।

গ্লোবাল টাইমস যে দলিল পেয়েছে, সেখানে দেখা যাচ্ছে হামবানতোতা বন্দরের কার্যক্রম শতভাগ বাণিজ্যিক। কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই এখানে। শ্রীলংকার আইনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এবং আন্তর্জাতিক নিয়ম নীতি মেনেই সবকিছু করা হচ্ছে।দলিলে এটাও উল্লেখ রয়েছে যে, এই চুক্তিটি চীনা প্রতিষ্ঠান ও শ্রীলংকার জন্য সমান লাভজনক। এখানে আরো উল্লেখ করা হয়েছে যে, হামবানতোতা বন্দরে কর্মরতদের অধিকাংশই শ্রীলংকান। চীনা জনবল সেখানে খুবই সামান্য।

কলম্বো ইন্টারন্যাশনাল কন্টেইটার টার্মিনাল লিমিটেড প্রকল্পেও বিনিয়োগ রয়েছে এই চীনা প্রতিষ্ঠানের। সেখানে ১৩০০ জনের জনবলের মধ্যে মাত্র ২৫ জন রয়েছে চীনা।ভারতের পরাজিত মানসিকতাগুয়াংডং রিসার্চ ইন্সটিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিসের অধ্যাপক ঝাউ ফ্যাঙ্গিন এবং চায়না ফরেন অ্যাফেয়ার্স ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ঝাউ ইয়ংশেং বলেন, শ্রীলংকায় চীনের সহযোগিতার বিষয়টাকে ভারতের কিছু কর্মকর্তা এবং মিডিয়া তাদের পরাজয় হিসেবে বিবেচনা করছে। এটা আন্তর্জাতিক আইন সম্পর্কে তাদের জ্ঞানের স্বল্পতারই প্রমাণ।ঝাউ ফাংগিন বলেন, ‘নেপাল, বাংলাদেশ, শ্রীলংকাসহ দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের পররাষ্ট্রনীতির ওপর ভারতের যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে, যেসব দেশকে ভারত আসলে তাদের বাড়ির উঠান মনে করে। তবে এ ধরনের উদ্ধত মানসিকতা আর কাজ করবে না।’ঝাউ ইয়ংশেং বলেন, ভারতের সমস্ত মন্তব্যই আঙ্গুরফল টকের মতো। ‘ভারতের নেতিবাচক মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, আন্তর্জাতিক আইন সম্পর্কে তাদের জ্ঞানের ঘাটতি রয়েছে। এই একই কারণে তারা মনে করে যে ভারত মহাসাগরের মালিকানা তাদের।’ঝাউ ইয়ংশেং আরো বলেন, ভারত দ্বিমুখী আচরণ করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সাথে তাদের আচরণ এক রকম, আর চীনের সাথে তাদের আচরণ ভিন্ন।তিনি বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় সামরিক ঘাঁটি বসিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জাপানের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে জিবুতিতে। ‘এগুলোকে যদি নব-ঔপনিবেশবাদী বলা না হয়, তাহলে চীনের বাণিজ্যিক চুক্তিকে এ ধরনের বিশেষণ দেয়ার কোনো মানেই হয় না।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ