শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

জেরুসালেমে ‘ক্ষোভ দিবসে’ সংঘর্ষে হতাহত ৭০০

সংগ্রাম ডেস্ক : জেরুসালেমকে ইসরাইলি রাজধানী হিসেবে মার্কিন স্বীকৃতির প্রতিবাদে ক্ষোভ পালনের দিনে পৃথিবীর বৃহত্তম উন্মুক্ত কারাগারখ্যাত গাজা উপত্যকায় বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হামাসের রকেট হামলার প্রতিক্রিয়ায় শুক্রবার ওই হামলা হয়েছে বলে দাবি করেছে তেল আবিব। ওই হামলায় বেশ কয়েকজন শিশু আহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবারের ওই বিক্ষোভে ফিলিস্তিনজুড়ে ৭০০ মানুষ আহত হয়েছে। এদিন ইসরাইলী বাহিনীর গুলীতে গাজা উপত্যকায় ২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। কাতারভিত্তিক আল জাজিরা, ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এবং মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর খবর থেকে এসব কথা জানা গেছে।
জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতির প্রতিবাদে শুক্রবার অধিকৃত পূর্ব জেরুসালেম, পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকায় ক্ষোভ দিবসে’ পালিত হয়। ইসরাইলী বাহিনী বলপ্রয়োগে ওই বিক্ষোভ সহিংস হয়ে ওঠে। শুধু গাজা উপত্যকাতেই ইসরাইলী বাহিনীর গুলীতে নিহত হয়েছেন অন্তত দুইজন।
গাজা সীমান্তের কাছে ইসরাইলী সেনাদের গুলীতে ৩০ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিন নিহত হওয়ার পর গুলীতে নিহত হন ৫৮ বছর বয়সী আরেকজন। এদিকে ফিলিস্তিনের গাজা শহরে ইসরাইলের বিমান হামলায় ছয় শিশুসহ কমপক্ষে ২৫ ফিলিস্তিনি আহত হয়েছে। গাজা উপত্যকার শাসক দল হামাসের রকেট হামলার জবাবে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।
স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে এ বিমান হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে রাশিয়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আরটি। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম টুইটারে আইডিএফ জানায়, শুক্রবার হামাসের রকেট হামলার জবাব দিতে গাজায় এ হামলা চালানো হয়েছে। হামাসের একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও অস্ত্রাগার এ হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল। এ সময় বিমান হামলায় আহতদের জন্য হামাসকেই সম্পূর্ণ দায়ী করে আরডিএফ। ইসরাইল দাবি করে, শুক্রবার প্রথমে ইসরাইলকে লক্ষ্য করে তিনটি রকেট ছোঁড়ে হামাস। তবে ওই রকেট হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা জানা যায়নি।
ফিলিস্তিনি নেতারা শুক্রবার ইন্তিফাদার ডাক দেওয়ার সহিংসতার আশঙ্কায় ইসরাইল পশ্চিম তীরে আগে থেকেই অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছিল। পূর্ব জেরুসালেমে ওল্ড সিটির বাইরে পুলিশ শত শত বিক্ষোভকারীকে হটিয়ে দিতে গেলে ধস্তাধস্তি হয়।
টিভিতে প্রচারিত দৃশ্যে বেথলেহেমে পাথর ছুড়ে মারা ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদের ওপর ইসরাইলী সেনাদেরকে জলকামান ব্যবহার করতে দেখা গেছে। সেনাদের টিয়ারগ্যাস আর বিক্ষুব্ধ ফিলিস্তিদের টায়ার পোড়ানোয় ঘন কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে যায় চারিদিক। ইসরাইলি সেনারা বিক্ষোভকারীদের ওপর রাবার বুলেটও ছুঁড়েছে। অন্যান্য যেসব স্থানে সংঘর্ষ হয়েছে সেসব জায়গাতেও দেখা গেছে একই দৃশ্য।
গাজা উপত্যকা, পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুসালেমে সংঘর্ষে অন্তত ৭০০ ফিলিস্তিনি আহত হয়েছে।
 জেরুজালেম নিয়ে ট্রাম্পের বিতর্কিত ঘোষণায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। তার নীতির পরিবর্তনকে ইসরাইল স্বাগত জানালেও আরব এবং মুসলিম বিশ্ব নিন্দা জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমা মিত্রদেশগুলোও কয়েকদশকের নীতি বদলে দেওয়ার এ পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করেছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ বিষয়টি নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছে।
ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিশ্বের অন্যান্য জায়গাতেও বিক্ষোভ হচ্ছে। জর্ডান, মিসর, ইরাক, তুরস্ক, তিউনিশিয়া এবং ইরানে ফিলিস্তিনপন্থি হাজার হাজার বিক্ষোভকারী বিক্ষোভ করেছে। মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইন্দোনেশিয়ার মত মুসলিমপ্রধান বিভিন্ন দেশেও বিক্ষোভ মিছিল হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানীর স্বীকৃতি দেওয়ার প্রতিবাদে ঘোষিত ‘ক্ষোভ দিবসে’ ইসরাইলি সেনা ও ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, শুক্রবার পশ্চিমতীর ও গাজায় হাজার হাজার ফিলিস্তিনি বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে।
শান্তি প্রচেষ্টার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ওয়াশিংটন তার ‘গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে’ বলে মন্তব্য করেছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস।
ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট অম্ব্যুলেন্স সার্ভিসের তথ্যনুযায়ী, পশ্চিমতীর ও গাজায় ইসরাইলী সেনাদের গুলি ও রাবার বুলেটে ৮০ জনেও বেশি ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। পাশাপাশি সেনাদের ছোড়া কাঁদুনে গ্যাসেও অনেকে আক্রান্ত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার আরও ৩১ জন আহত হয়েছিলেন।
শুক্রবার জেরুসালেমের আল আকসা মসজিদে জুমার নামাজ শেষ হওয়ার পরপরই ফিলিস্তিনিরা দেয়ালঘেরা পুরনো জেরুসালেমের গেইটে গিয়ে জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে।
এ সময় তারা স্লোগান তোলে, ‘জেরুজালেম আমাদের, আমাদের রাজধানী জেরুসালেম’ এবং ‘ফাঁকা কথা চাই না, চাই পাথর, কালাশনিকভ’। পরে ইসরাইলি পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ শুরু হয়।
হেব্রন, বেথেলহেম, নাবলুসে বহু ফিলিস্তিনি ইসরাইলী সেনাদের ওপর পাথর ছুড়ে মারে, জবাবে কাঁদুনে গ্যাস ছোড়ে ইসরাইলী সেনারা।
গাজা সীমান্তের কাছে ইসরাইলী সেনাদের গুলিতে একজন ফিলিস্তিনী নিহত হন। দুই দিনের ‘ক্ষোভ দিবসে’ এটিই প্রথম মৃত্যুর ঘটনা। পরে আহত আরেকজন মারা যান বলে গাজা হাসপাতালের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
টিভিতে প্রচারিত দৃশ্যে বেথলেহেমে পাথর ছুঁড়ে মারা ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদের ওপর ইসরাইলি সেনাদেরকে জলকামান ব্যবহার করতে দেখা গেছে।
সেনাদের কাঁদুনেগ্যাস আর বিক্ষুব্ধ ফিলিস্তিদের টায়ার পোড়ানোয় ঘন কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে যায় চারিদিক। ইসরাইলি সেনারা বিক্ষোভকারীদের ওপর রাবার বুলেটও ছুঁড়ে।
অন্যান্য যেসব স্থানে সংঘর্ষ হয়েছে সেসব জায়গাতেও দেখা গেছে একই দৃশ্য।
ফিলিস্তিনি নেতারা শুক্রবার ইন্তিফাদার ডাক দেওয়ার সহিংসতার আশঙ্কায় পশ্চিম তীর ও গাজা সীমান্তে আগে থেকেই অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছিল ইসরাইল।
 জেরুসালেমে পুরনো শহরের বাইরে পুলিশ শত শত বিক্ষোভকারীকে হটিয়ে দিতে গেলে ধস্তাধস্তি হয়। পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুসালেমে সংঘর্ষে অন্তত ২১৭ ফিলিস্তিনি আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে চিকিৎসাকর্মীরা।
রাত নেমে আসার পর অধিকাংশ এলাকায়ই বিক্ষোভ স্তিমিত হয়ে আসে। রাতে গাজা সীমান্তের কাছে ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরগুলোতে রকেট হামলার সতর্কীকরণ সাইরেন বেজে ওঠে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনী গাজা থেকে নিক্ষেপ করা দুটি রকেট প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে।
রকেট হামলার জবাবে গাজায় ‘জঙ্গিদের লক্ষ্যস্থলগুলোতে’ বিমান হামলা চালানোর হয়েছে বলেও জানিয়েছে তারা। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরাইলি ওই বিমান হামলায় ছয় শিশুসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন।
অপরদিকে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা ‘জঙ্গিদের’ প্রশিক্ষণ শিবির ও অস্ত্র গুদামে হামলা চালিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিমান হামলায় আহতদের অধিকাংশই ওই প্রশিক্ষণ শিবিরের পাশের একটি ভবনের বাসিন্দা।
জেরুসালেম নিয়ে ট্রাম্পের বিতর্কিত ঘোষণায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। তার নীতির পরিবর্তনকে ইসরাইল স্বাগত জানালেও আরব ও মুসলিম বিশ্ব নিন্দা জানিয়েছে।
এক বিবৃতিতে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেছেন, “জেরুজালেম বিষয়ে মার্কিন সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করছি আমরা। এই অবস্থান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র শান্তি উদ্যোগের মধ্যস্থতাকারীর যোগ্যতা হারিয়েছে।”
যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমা মিত্রদেশগুলোও কয়েকদশকের নীতি বদলে দেওয়ার এ পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করেছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ বিষয়টি নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছে।
ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আরব অঞ্চলজুড়ে বিক্ষোভের পাশাপাশি বিশ্বের অন্যান্য জায়গাতেও বিক্ষোভ হয়েছে। জর্ডান, মিসর, ইরাক, তুরস্ক, তিউনিশিয়া এবং ইরানে ফিলিস্তিনপন্থি হাজার হাজার বিক্ষোভকারী বিক্ষোভ করেছে।
মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইন্দোনেশিয়ার মত মুসলিমপ্রধান বিভিন্ন দেশেও বিক্ষোভমিছিল হয়েছে। জার্মানির বার্লিনে যুক্তরাষ্ট্র দূতবাসের সামনেও বিক্ষোভ করেছে কয়েকশ বিক্ষোভকারী।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আর কোন আলোচনায় বসবে না ফিলিস্তিন
ফিলিস্তিনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অদূর ভবিষ্যতে তারা আর কোনো মার্কিন কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনায় বসবেন না। এমনকী, তিনি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স হলেও না।
 পেন্স বেথেলহেমে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে আগামী ১৯ ডিসেম্বর বৈঠকে বসার দিন নির্ধারণ করলেও সিনিয়র ফাতাহ নেতা জিব্রিল রাজোব বলেছেন, ‘এই বৈঠক হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই নেই।’
রাজোব সৌদি আরবের আঞ্চলিক নেতাদেরকেও মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যপ্রাচ্য সফর বর্জনের আহ্বান জানান।
ফাতাহ মুখপাত্র জিয়াদ খলিল আবু জায়য়াদ এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘বল এখন আরবের কোর্টে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আরব বিশ্বের পরিষ্কারভাবে বুঝতে হবে যে, জেরুসালেম বিষয়ে মার্কিন সিদ্ধান্ত তাদের নিজ স্বার্থ অনুযায়ীই হবে।’
ফাতাহ’র কেন্দ্রীয় কমিটির আরেক সদস্য মোহাম্মদ শায়েহ বেথেলহেম ভিত্তিক এক ফিলিস্তিনী সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘পেন্সের সঙ্গে আব্বাসের বৈঠক ট্রাম্পের জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণার আগেই নির্ধারিত হয়েছিল। তবে এই পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট আব্বাসের সঙ্গে পেন্সের বৈঠক অথবা ওয়াশিংটন সফর কোনভাবেই সম্ভব না। আরব নিউজ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ