সোমবার ২৫ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

খুলনায় স্কুল-কলেজে নাম সর্বস্ব কমিটির মনিটরিং-এ চলছে অতিরিক্ত ক্লাস

খুলনা অফিস : শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান চলাকালে কোন শিক্ষক কোচিং করাতে পারবেন না। তবে পাঠদানের নির্ধারিত সময়ের পরে বা আগে অতিরিক্ত ক্লাস নিতে পারবেন। সেই অতিরিক্ত ক্লাস মনিটরিং এর জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে নাম সর্বস্ব কমিটি রয়েছে। তারা শুধু নামেই কোন ক্ষমতা নেই বলেও জানা গেছে।
জানা গেছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করার জন্য করা হয়েছে নীতিমালা। যা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা-২০১২ নামে পরিচিত। এ নীতিমালা অনুযায়ী আগ্রহ শিক্ষার্থীদের অভিভাবকের আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠান প্রধান অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা করতে পারবেন। আর এই ক্লাস দেখভালের জন্য থাকবে পরিচালনা কমিটি। তবে খুলনার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্ধারিত সময়ের আগে পরে অতিরিক্ত ক্লাস হচ্ছে ঠিকই। তবে পরিচালনা কমিটির নামে রয়েছে নাম সর্বস্ব কমিটি। যাদের এ বিষয়ে কোন ক্ষমতা নেই বললেই চলে। এদিকে অতিরিক্ত ক্লাস বাবদ প্রাপ্ত অর্থ সম্পূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জমা দেয়ার কথা রয়েছে। তারপরে সংগৃহীত অর্থের ১০% অর্থ প্রতিষ্ঠান প্রধানের নিয়ন্ত্রণাধীন তহবিলে জমা রেখে বাকি অর্থ অতিরিক্ত ক্লাসের শিক্ষকদের বন্টন করতে হবে।
কতিপয় স্কুল ও কলেজের শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্কুল সময়ের পরে ক্লাস নিচ্ছে। তারা তাদের সন্তানদের সেখানে পাঠাচ্ছে। তবে কী নীতিমালা রয়েছে বা আছে কিনা তা বিষয় নয়। আর স্যারদের বেতন দিলে রশিদ দেবে কি দেবে না তা তাদের জানা নেই। এটা নিয়ে তারা এতটা চিন্তিতও না।
মো. জাহাঙ্গীর আলম নামের এক অভিভাবক বলেন, তারা তাদের সন্তানদের স্কুল শিক্ষকদের কাছে ব্যাচ করতে পাঠান। কিন্তু সেখানে অতিরিক্ত ক্লাস হচ্ছে না কী নীতিমালা অনুসরণ হচ্ছে তা তাদের বিষয় নয়। তারা শুধু সন্তানদের লেখাপড়া চায় বলেও জানান তিনি।
বয়রা মডেল স্কুল এন্ড কলেজের অতিরক্ত ক্লাস পরিচালনা কমিটির আহবায়ক মো. শফিউল আলম বলেন, প্রতিষ্ঠানে কমিটি আছে ঠিকই। তবে নামে কমিটি থাকলেও এ ক্ষেত্রে দেখভালের তেমন ক্ষমতা নেই।
একই প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত ক্লাস নেয়া শিক্ষক ভবেশ চন্দ্র ঘোষ, সমরেশ ও কৃষ্ণপদ মন্ডল বলেন, নীতিমালা কী রয়েছে তা খুব বেশি জানা নেই। আর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে যে অর্থ নেয়া হয় তার ১০% কলেজ ফান্ডে জমা দেয়া হয়। আর রশিদ না থাকায় এবং শিক্ষার্থীদের রশিদের প্রতি আগ্রহ না থাকায় রশিদ দেয়া হয় না বলেও জানান তারা।
খুলনা সরকারি করোনেশন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রাত. শাখার সহকারী প্রধান শিক্ষক ঠাকুরদাস তরফদার বলেন, অতিরিক্ত ক্লাসের কমিটি রয়েছে। কমিটিতে প্রধান শিক্ষক আর সহকারী প্রধান শিক্ষকরা রয়েছেন। আর মর্নিং শিফটের শিক্ষার্থীদের আবেদন তার কাছে রয়েছে এবং তাদেরকে রশিদও দেয়া হয় বলে জানান তিনি।
অপরদিকে একই প্রতিষ্ঠানের দিবা বিভাগের সহকারী প্রধান শিক্ষক জেসমিন আক্তার বলেন, মাঝে রশিদ না থাকায় শিক্ষার্থীদের রশিদ দেয়া হয়নি। তবে তিনি দিতে বলেছেন। আর স্কুলে প্রধান শিক্ষক থাকায় রশিদ দিচ্ছেন কিনা তা তিনি জানেন না। আর কমিটি বিষয়ে তিনি বলেন, কমিটি আর কী, প্রধান শিক্ষক আছেন। আর দুই শিফটের সহকারী প্রধান শিক্ষকরা দেখভাল করেন। আর টাকা সম্পূর্ণ জমা দেন। তারপরে ১০% রেখে বাকি টাকা ওই শিক্ষকদের ভাগ করে দেয়া হয়।
বয়রা মডেল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ শেখ হারুন-অর রশিদ বলেন, প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক শফিউল আলমকে আহবায়ক করে একটি কমিটি করে দেয়া হয়েছে। তবে কমিটির কার্যক্রম ঠিকভাবে হচ্ছে কিনা তা তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন।
খুলনা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক টিএম জাকির হোসেন বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত ক্লাস পরিচালনা কমিটি অতিরিক্ত ক্লাসের সার্বিক বিষয় নীতিমালা অনুযায়ী হচ্ছে কিনা তা মনিটরিং করবেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ