বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

উত্তর জনপদের নবান্ন উৎসবের সাথে চলছে আমন ধান কাটার ধুম

নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) সংবাদদাতা: উত্তরাঞ্চলের মাঠে কৃষকের সোনালি স্বপ্ন বাতাসে দুলছে। ধানে ধানে ভরে উঠছে মাঠ। সেই সাথে রঙিন হয়ে উঠছে প্রান্তিক কৃষকের স্বপ্ন। মাঠজুড়ে এখন সোনালি স্বপ্নের ছড়াছড়ি। নতুন ধানের উপস্থিতিতে কৃষক পরিবারে লেগেছে আনন্দের ঢেউ। আর সেই আনন্দে আমন ধান কাটা শুরু করেছে কৃষাণ-কৃষাণীরা। আর কদিনের মধ্যে পুরোদমে আমন কাটার ধুম পড়ে যাবে। কৃষি বিভাগ বলছে, চলতি মওসুমে প্রবল বর্ষণ ও ঝড়ে ক্ষেতের ফসলের ক্ষতি হলেও আমন চাষাবাদ ও ফলন ভাল হয়েছে। চাষাবাদের জমির লক্ষ্যমাত্রাও ছাড়িয়ে গেছে। এসব কারণে বাম্পার ফলন আশা করা হয়েছে। বাজারে নতুন ধানের দামও ভাল। ফলে হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে। পাবনায় এবার আমনের আশানুরুপ ফলন হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার মাঝেও ভাল ফলন পেয়ে খুশি কৃষক। কৃষি বিভাগের মতে, বিরুপ আবহাওয়ার কারণে যে ক্ষতি হয়েছে তা সামান্য। বরং লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ফলন পাওয়া গেছে। আর ফলন ভাল হওয়ায় কৃষকের ঘরে ঘরে এখন নবান্ন উৎসবের আমেজ। আত্মীয়-স্বজনের পিঠাপুলি খাওয়ানোর। জোর প্রস্তুতি চলছে তাদের মধ্যে। প্রতি বছর আমনের ফলন ঘরে ওঠার পর নবান্ন উৎসব যেন বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্য। সরেজমিন জেলার সদর উপজেলার মালিগাছা, আটঘরিয়া উপজেলার বাঐকোলা, চাটমোহর উপজেলার চড়ইকোল, কাটাখালি, হরিপুর, লাউতিয়াসহ বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন ধান কাটা নিয়ে। দিনমজুররা ধান কেটে আটি বেঁধে মাথায় করে কিংবা গাড়িতে করে নিয়ে যাচ্ছেন বাড়িতে। সেখানে বাড়ির উঠানে অথবা মাঠের পাশে খোলা করে চলছে ধান মাড়াই করার কাজ। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জানান, এ বছর জেলায় রোপা আমন ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৪৯ হাজার ৩২৫ হেক্টর জমিতে। আবাদ হয়েছিল ৫২ হাজার ৪১২ হেক্টর জমিতে। সে হিসেবে ৩ হাজার ৮৭ হেক্টর জমিতে বেশি আবাদ হয়েছিল। অপরদিকে ফলনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় প্রতি হেক্টরে ৩.৬ মে.টন। এখন পর্যন্ত পাওয়া উৎপাদনের তথ্য মতে প্রতি হেক্টরে ৪ মে.টন করে ফলন মিলছে। তিনি জানান, কেবল ধান কাটা শুরু হয়েছে। সব কাটা শেষ হলে ফলনের সর্বমোট তথ্য পাওয়া যাবে। এ বিষয়ে দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা আবু রেজা মো. আসাদুজ্জামান জানান, বন্যা পরবর্তী দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জে কৃষকেরা আগাম জাতের ধান আবাদ করে ঘাটতি পুষিয়ে নিয়েছে। এছাড়াও সরকারি ভাবে বিনামূল্যে বীজ, সার বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের হেয়াতপুর গ্রামের কৃষক জামাল উদ্দিন, বিনোদনগর ইউনিয়নের কপালদাঁড়া গ্রামের বাবুল মিয়া ও শওগুনখোলা গ্রামের লোকমান হাকিম তারা জানান, ধানের আবাদ ভালো হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ২১ হাজার ৬১০ হেক্টর জমিতে আমন ধান রোপন করা হয়েছে। বাঙালির নবান্ন উৎসবের পাল্লা দিয়ে চলছে আমন ধান কর্তনের মহা উৎসব।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ