শুক্রবার ১০ জুলাই ২০২০
Online Edition

বিএনপির পর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের পাল্টা শো-ডাউন আজ

স্টাফ রিপোর্টার : সোহরাওয়ার্দী উদ্যান্যে বিএনপির বিশাল সমাবেশের পর এবার বিশাল শো ডাউনের প্রস্তুতি নিয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ। তবে দলীয় ব্যানারে বাদ দিয়ে এবার নাগরিক সমাজের ব্যানারে আজ শনিবার এ শো ডাউন করবে দলটি।  এজন্য একই ভেনুতে  সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নাগরিক সমাবেশের ডাক দেয় নাগরিক সমাজ।  সমাবেশে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এখানে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে সভাপতিত্ব করবেন এমিরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান। তবে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গতকাল বলেছেন বিএনপির সাথে পাল্টাপাল্টি সমাবেশ নয়। নাগরিক সমাজের সমাবেশ কোন রাজনৈতিক সমাবেশ নয়।
১৯৭১ সালের ৭ মার্চে দেয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণকে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে ইউনেস্কো। এ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হচ্ছে নাগরিক সমাবেশ। শনিবার দুপুর আড়াইটায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এর আয়োজন করেছে দেশের নাগরিক সমাজ।
সমাবেশ আয়োজনে ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্ততি  নিয়েছে নাগরিক কমিটি। রাজধানীর মূল সড়কসহ বিভিন্ন অলিগলিতে সাজানো হয়েছে ডিজিটাল ব্যানার। সমাবেশ স্থলের আশপাশের এলাকায় রয়েছে আলোকসজ্জা। নাগরিক সমাবেশ সফল করতে ঢাকায় চলছে মাইকিং প্রচারণা। এগিয়ে এসেছে বিভিন্ন সামাজিক, পেশাজীবী, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রস্ততি নিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দফায় দফায় যৌথ সভা করে নেতাকর্মীসহ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনগুলোকে বিশেষ দিকনির্দেশনা দিয়েছে ক্ষমতাসীন দলটি।
সমাবেশের কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে। এর সদস্যরা হলেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু, ডা. সারওয়ার আলী, হারুন-অর-রশিদ ও অসীম কুমার উকিল।
৭ মার্চের ভাষণকে ইউনেস্কোর ‘ মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে । ৪৫ বছর আগে ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ ১৮ মিনিটের ভাষণে শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন ‘এবারের সংগ্রাম, মুক্তির সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম।
এদিকে সমাবেশের গতকাল শুক্রবার সকালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নাগরিক কমিটির আয়োজনে আয়োজিত এ সমাবেশস্থল পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের কাছে  মন্তব্য করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, সাহরাওয়ার্দী উদ্যানে যে সমাবেশ ডাকা হয়েছে, সেটি নাগরিক কমিটির সমাবেশ কোনো রাজনৈতিক সমাবেশ নয় ।
যাঁরা বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসেন, মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাস করে এবং স্বাধীনতার অস্তিত্বে বিশ্বাস করে তাঁরা সবাই একত্রে এ সমাবেশে উপস্থিত থাকবেন বলে আশা প্রকাশ করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।  এই নাগরিক সমাবেশ বিএনপির সমাবেশের পাল্টা কোনো কর্মসূচি নয় বলেও মন্তব্য করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, এটা কোনো ধরনের পাল্টাপাল্টি সমাবেশ নয়। আওয়ামী লীগ বিএনপির সঙ্গে পাল্টাপাল্টি কোনো ধরনের কর্মসূচি পালন করে না। আওয়ামী লীগ আগেই কর্মসূচি নেয়, পরে বিএনপি সেটা অনুসরণ করে।
এদিকে নাগরিক সমাবেশকে ঘিরে রাজধানীর পার্শ্বের জেলা নারায়ণগঞ্জ মুন্সিগঞ্জ ও গাজীপুর থেকে বিপুল সংখ্যক নেতা কর্মী নিয়ে আসার প্রস্তুতি চলছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই জানান, সৌহরাওয়াদী উদ্যানের সমাবেশ বিপুল সংখ্যক নেতা কর্মী নিয়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে যাওয়া হবে। সমাবেশে যোগদান করতে আমাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ