বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

বন্ধুরাষ্ট্রগুলো নিজ নিজ দেশের স্বার্থে মিয়ানমারের পক্ষাবলম্বন করছে

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশের বন্ধুরাষ্ট্রগুলো রোহিঙ্গা ইস্যুতে নিজ নিজ দেশের স্বার্থে মিয়ানমারের পক্ষাবলম্বন করছে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক রাষ্ট্রদূত রাশেদ আহমেদ। তিনি বলেন, স্থায়ী বন্ধু, স্থায়ী শত্রু বিষয়টি পররাষ্ট্রনীতিতে নেই। এখানে কাজ করে জাতীয় স্বার্থ। যেসব দেশ মনে করে এখানে তাদের জাতীয় স্বার্থ রয়েছে, তারা সেটাই করবে। জাতিসংঘের ভোটাভুটিতেও চীন, রাশিয়া তাই করেছে। এ কারণে আমাদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরো শক্তিশালী করতে হবে।
গতকাল শুক্রবার সকালে রাজধানীর পরীবাগে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে এক সংলাপ অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে এ জাতীয় সংলাপ যৌথভাবে আয়োজন করে বাংলাদেশ হেরিটেজ ফাউন্ডেশন (বিএইচএফ) ও ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যান্ড কাউন্টার টেররিজম। আয়োজক সংগঠন দুটোর চেয়ারম্যান ড. ওয়ালিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার বেনয়েট প্রিফন্টেইন, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মো. মোজাফফর হোসেন পল্টু, মরক্কো দূতাবাসের কর্মকর্তা হামিদ মাশরই, কানাডিয়ান দূতাবাসের কর্মকর্তা জুলিয়া ফ্রান্সিস প্রমুখ।
বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতির উপর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উন্মুক্ত ভোটের মাধ্যমে একটি রেজুলেশন গৃহীত হয়েছে। এতে ১৩৫টি দেশ রেজুলেশনের পক্ষে ভোট দেয়। বিপক্ষে ভোট দিয়েছে চীন, রাশিয়াসহ ১০টি দেশ। আর ভারতসহ ২৬টি দেশ ভোট দানে বিরত থাকে।
রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে জানিয়ে ড. রাশেদ বলেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ভোটাভুটিতে অধিকাংশ দেশ আমাদের পক্ষে। ভারত ভোটদানে বিরত থেকেছে এটাও বড় ধরনের সাফল্য। চীন-রাশিয়াকে ভোটদানে বিরত রাখতে পারলে নিরাপত্তা পরিষদে বাংলাদেশের অবস্থান সুবিধাজনক হবে। মোট কথা, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে পরিস্থিতি পরিবর্তন হবে।
কানাডীয় হাইকমিশনার বেনয়েট প্রিফন্টেইন বলেন, মিয়ানমার বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, যা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত। দু’মাস যাবত বাংলাদেশ কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। বর্তমানে অনেক দেশ রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে ভাবছে। পরিস্থিতি আগের থেকে উন্নত হয়েছে। রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে আমরা সব ধরনের সহযোগিতা বাংলাদেশকে করবো। মিয়ানমার ও বাংলাদেশের উচিত সুসম্পর্ক বজায় রেখে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান করা। এ সময় রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে নাগরিক সমাজকেও সরকারকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
ড. ওয়ালিউর রহমান বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে মিয়ানমারের সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলার চেষ্টা করছি। প্রধানমন্ত্রী চাচ্ছেন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এ কথাগুলো বলুক। আমি আশাবাদী, আমরা রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফল পাচ্ছি। এ প্রচেষ্টা চালিয়ে গেলে দ্রুত রোহিঙ্গা সংকট সমাধান হবে।
সংলাপে অন্য বক্তারা বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে তা জোরদার করেতে হবে। মিয়ানমারের জনগোষ্ঠী সেই অর্থে জানে না তাদের দেশে গণহত্যা বা জাতিগত নিধন চালানো হচ্ছে। এই বার্তা তাদের কাছে পৌঁছাতে হবে। রোহিঙ্গারা যে সে দেশের নাগরিক এই জনসমর্থনও নিতে হবে। সবকিছুর উপরে মিয়ানমার প্রতিবেশী দেশ- বিষয়টি মনে রেখে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় রোহিঙ্গা ইস্যু সমাধান করতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ