বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

কাশ্মীরে পালিত হচ্ছে ‘কালো দিবস’

২৭ অক্টোবর, কাশ্মীর মনিটর : জম্মু-কাশ্মীরে যৌথ প্রতিরোধ নেতৃত্বের আহ্বানে বনধ ও কালো দিবস পালনকে কেন্দ্র করে গতকাল শুক্রবার জুমা নামাজ শেষে প্রতিবাদ বিক্ষোভ ও সহিংসতার আশঙ্কায় শ্রীনগরের ৭ থানা এলাকায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
শুক্রবার গোটা কাশ্মীর উপত্যাকা জুড়ে সর্বাত্মক বনধ পালিত হচ্ছে। সেখানে দোকানপাট ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও গণপরিবহণ ব্যবস্থা বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে, কাশ্মীর উপত্যাকায় নিরাপত্তাজনিত কারণে সেখানে সমস্ত রেল চলাচল বন্ধ রয়েছে।
রেলওয়ে দফতরের এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, মধ্য কাশ্মীরে শ্রীনগর- বাডগাম থেকে উত্তর কাশ্মীরের বারামুল্লা এবং দক্ষিণ কাশ্মীরের শ্রীনগর-অনন্তনাগ-কাজিগান্ড ও জম্মু এলাকার বানিহালের মধ্যে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে।
শ্রীনগর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আজ রায়নাওয়াড়ি, নৌহাট্টা, খানইয়ার, সাফাকদল, এম আর গঞ্জ এলাকায় সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা এবং ক্রালখুদ ও মৈসুমা এলাকায় আংশিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট এলাকায় রাজ্য পুলিশের পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনী সিআরপিএফ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এসব এলাকায় পথচারী ও যানবাহন চলাচলে বিধিনিষেধ করা হয়েছে। 
যৌথ প্রতিরোধ নেতৃত্ব সাইয়্যেদ আলী শাহ গিলানি, মীরওয়াইজ ওমর ফারুক ও মুহাম্মদ ইয়াসীন মালিক একটি রেজল্যুশন পাস করে ১৯৪৭ সালের ২৭ অক্টোবরকে ‘কাশ্মীরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় কালো দিন’ হিসেবে অভিহিত করেন। ওইদিন জম্মু-কাশ্মীরের জনতার সম্মতি ছাড়াই ভারত সেখানে সশস্ত্র বাহিনী পাঠিয়েছিল বলে রেজুল্যেশনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রেজল্যুশনে কাশ্মীরি জনতা বাধ্যতামূলক নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে এবং সেখানে আট লাখ ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর উপস্থিতিতে ইচ্ছেমত দমনপীড়ন, হত্যা ইত্যাদি চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে অভিযোগে নিন্দা জানানো হয়েছে।
তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় ইতিবাচক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।
গত মঙ্গলবার যৌথ প্রতিরোধ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়েছে, ৭১ বছর আগে কোনো সাংবিধানিক ও নৈতিক ন্যায়পরায়ণতা ছাড়াই জোরপূর্বক ভারত একইদিনে জম্মু-কাশ্মীরের রাজ্যে দখলদারিত্ব চালিয়েছিল। তারপর থেকে ভারতীয় বাহিনী নিরীহ ও নিরস্ত্র কাশ্মীরিদের হত্যা ও তাদের সম্পত্তি তছনছ ও নারীদের যৌন নির্যাতনে জড়িত রয়েছে।
কাশ্মীরি নেতারা বলেন, ২৭ অক্টোবর 'কালো দিবস' হিসেবে পালন করা হবে যাতে গোটা বিশ্ব কাশ্মীর পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হতে পারে। স্বাধীনতা ছাড়া তাদের কাছে অন্য কোনো কিছু গ্রহণযোগ্য নয় বলেও তারা ঘোষণা দিয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ