বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট ২০২০
Online Edition

তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করতে যাচ্ছে নেপাল

১০ অক্টোবর, দি হিন্দু : হিমালয়ান রাষ্ট্র নেপালে আসন্ন প্রাদেশিক ও সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বামপন্থী দলগুলোর নির্বাচনী জোট গঠনের পর সংসদে প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবার সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। বর্তমান জোট সরকারের শরিক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী পুস্প কমল দহলের দল ‘কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল’ (মাওবাদি কেন্দ্র) (সিপিএন-মাওইস্ট) বর্তমান বিরোধী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি’র ‘কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল’ (সম্মিলিত) (সিপিএন-ইউনাইটেড)-এর সঙ্গে নির্বাচনী জোট গঠন করে। সরকারে থেকে বিরোধী দলের সঙ্গে জোট গঠন প্রধানমন্ত্রী দেউবার ওপর প্রবল রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে।
জোট গঠনের পর দহল কাঠমান্ডুতে সাংবাদিক সম্মেলন করে জানান যে প্রধানমন্ত্রী তাকে সরকার ত্যাগ করতে বললে তাতেও তিনি রাজি আছেন। নেপালে একটি নতুন তত্বাবধায়ক গঠন নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরুর মধ্যে দহল ওই বক্তব্য দেন।
আগামী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল নেপাল কংগ্রেস (এনসি) থেকে অংশ নিতে গত সপ্তাহে আগাম অবসর গ্রহণ করেন ভারতে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত দীপ কুমার উপাধ্যায়। তিনি ভারতের পত্রিকাকে বলেন, ‘অলির সঙ্গে দহল নির্বাচনী জোট গঠন করায় পার্লামেন্টে দেউবা সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। তাই নির্বাচনের আগে একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের সম্ভাবনা প্রবল।’
একটি জাতীয় ঐক্য সরকার গঠন নিয়েও সব দলের সঙ্গে বর্তমানে আলোচনা চলছে জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে রাজনৈতিক শৃঙ্খলা রক্ষায় নির্বাচনের আগে একটি ঐকমত্যে পৌঁছা যাবে।ভারতীয় পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, নেপালে গত কয়েক দিন ধরে একটি নতুন তত্বাবধায়ক সরকারের দাবি ক্রমেই প্রবল হয়ে উঠছে। অন্য রাজনৈতিক দলগুলোও একটি সংযোজক (কোহেসিভ) রাজনৈতিক ব্যবস্থা চান।মাধেসি নেতা উপেন্দ্র যাদব বলেন, ‘বর্তমানে নেপালের রাজনীতিতে এক অদ্ভুত অবস্থা তৈরি হয়েছে। বিরোধী দলের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে ক্ষমতাসীন জোটের শরিক দল। তাই পার্লামেন্ট নির্বাচন আয়োজন করা খুবই জরুরি।’তার মতে রাজনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে নির্বাচন আয়োজনের প্রতি সকল মনযোগ দেয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।
ভারতের সমালোচনা  সরকারের শরিক দল বিরোধী দলের সঙ্গে হাত মেলানো এনসি নেতা প্রধানমন্ত্রী দেউবার জন্য একটি গুরুতর রাজনৈতিক আঘাত।
২০১৫-১৬ সালে ভারত যখন নেপালের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করে তখন অলি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তাকে ভারতের নীতি বিরোধী হিসেবে মনে করা হয়।২০১৭ সালের মার্চ থেকে নেপালে তিন ধাপে যে স্থানীয় পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে তাতে সর্বোচ্চ সংখ্যক আসনে বিজয়ী হয় অলির দল। আগামী মাসে দেশটিতে প্রাদেশিক পরিষদ ও সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ