বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

ভারতকে ঐতিহাসিক সীমান্ত চুক্তি মেনে চলার আহ্বান চীনের

৯ অক্টোবর, এনডিটিভি : ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সীতারাম নাথু লা সীমান্ত ফাঁড়ি পরিদর্শন করে আসার এক দিনের মাথায় বেইজিং ১৮৯০ সালের যুক্তরাজ্য-চীন সীমান্ত চুক্তি মেনে চলতে দিল্লির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। এই চুক্তি চীন-ভারত সীমান্তের সিকিম সেক্টরের সীমানা নির্ধারণ করেছে।
সীতারামনের সিকিম পরিদর্শনের পর এক প্রতিক্রিয়ায় চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলে, চীন-ভারত ঐতিহাসিক সীমান্ত চুক্তি দ্বারা সিকিম সেক্টরের সীমানা নির্ধারিত হয়েছে। ঐতিহাসিক সীমান্ত চুক্তি সংক্রান্ত বাস্তবতা ভারত যেন মেনে নেয়। আর সীমান্তে যেন চীনের সঙ্গে শান্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে।
 ডোকলাম সংঘাত চলাকালেও বারবার এই চুক্তির প্রসঙ্গ তোলে চীন।
সীতারামন শনিবার চীন-ভারত সীমান্তে নাথু লা এলাকা পরিদর্শন করেন এবং ভারত-তিব্বত সীমান্তে নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেন। ডোকলামে ভারত ও চীনা সেনাদের মধ্যে ৭৩-দিনের অচলাবস্থা অবসানের পর ওই এলাকায় এটি প্রথম উচ্চ পর্যায়ের সফর। নাথু লা ভারতের সিকিম ও চীনের তিব্বতকে আলাদা করে রেখেছে।
জম্মু ও কাশ্মীর থেকে অরুণাচল প্রদেশ পর্যন্ত ভারত ও চীনের মধ্যে ৩,৪৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তের ২২০ কিলোমিটার পড়েছে সিকিম সেকশনে। এই সীমান্তে বিরোধের সমাধান করতে দুই পক্ষ এখন পর্যন্ত ১৯টি বিশেষ প্রতিনিধি-বৈঠক করেছে।
গত ১৬ জুন থেকে ডোকলামে ভারত-চীন অচলাবস্থা শুরু হয়। চীনা সেনাবাহিনী সীমান্ত অঞ্চলে রাস্তা নির্মাণ শুরু করলে ভারতীয়রা তাতে বাঁধা দিলে অচলাবস্থা শুরু হয়। দীর্ঘ দু’মাস ভারত ও চীনের সেনাবাহিনী মুখোমুখি অবস্থানে ছিলো ওই অংশে। চীন-ভারত-ভুটান ত্রিমুখী জংশনের মত কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ ওই এলাকায় রাস্তা নির্মাণ করা হলে তা ভারতের উত্তরপূর্ব রাজ্যগুলোর সংযোগস্থল ‘চিকেন নেক’ এর জন্য নিরাপত্তা হুমকি হবে বলে দিল্লী মনে করে।
 ডোকলাম অচলাবস্থার সময় চীন নাথু লা গিরিপথ বন্ধ করে দেয় এবং এখনো তা খোলা হয়নি। ভারতীয় তীর্থযাত্রীরা কৈলাশ এবং মানসসরোবর ভ্রমণের জন্য দীর্ঘদিন ধরে এই পথ ব্যবহার করছে।
আপনার সঙ্গে পরিচিত হয়ে খুশি হলাম
অরুণাচল প্রদেশ ও সিকিম সফরে গিয়ে ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সিতারমন সীমান্তের ওপারের চীনা সৈন্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার সিকিমের নাথু-লা সীমান্ত পরিদর্শনে গিয়ে চীনা সৈন্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি এবং এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে শেয়ার করা হয়েছে।
রোববার ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাপ্তরিক টুইটার একাউন্টে এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও আপলোড করা হয়। এতে দেখা যায়, সিকিমের নাথু-লা সীমান্তে গিয়ে সিতারমন চীনা সৈন্যদের সঙ্গে কথা বলছেন।
সংক্ষিপ্ত ওই ক্লিপটিতে ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে চীনা সৈন্যদের সম্ভাষণ জানিয়ে হাতজোড় করে ‘নমস্তে’ বলতে দেখা গেছে। দোভাষীর কাজ করা এক চীনা সৈন্যকে তিনি বলেন, “নমস্তে! আপনি জানেন ‘নমস্তে’ কী?
ধারণা করে হাসি মুখে ওই চীনা সৈন্য বলেন, “আপনার সঙ্গে পরিচিত হয়ে খুশি হলাম।”
“চীনা ভাষায় আপনারা কী বলেন?” জিজ্ঞেস করেন মন্ত্রী।  
“নাই হাও,” উত্তরে বলে চীনা সৈন্য।
এরপর চীনা সৈন্যরা একজনের পর একজন ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে ‘নমস্তে’ ও ‘নাই হাও’ বলে সম্ভাষণ জানান।
সিকিমের সীমান্তের নিকটবর্তী দোকলামে দুদেশের সৈন্যদের মধ্যে উত্তেজনা অবসানের পর থেকে ওই এলাকায় নতুন করে চীনারা কোনো উন্নয়ন কাজ করেনি, ভারত সরকারের এমন দাবির পর ওই সীমান্ত পরিদর্শনে যান সিতারমন।
জুনের মাঝামাঝিতে মালিকানা নিয়ে বিরোধপূর্ণ একটি এলাকায় চীনারা রাস্তা তৈরি করার সময় ভারতীয় সৈন্যরা সিকিম সীমান্ত অতিক্রম করে গিয়ে নির্মাণকাজে বাধা দেয়। এলাকাটি ভারতের তথাকথিত ‘চিকেন নেকের’ কাছে; ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো দেশটির মূল অংশের সঙ্গে যে একচিলতে ভূখ- দিয়ে যুক্ত তাকেই ‘চিকন নেক’ বলা হয়। এরপর থেকে দোকলাম মালভূমিতে দুদেশের সৈন্যরা মাত্র ১৫০ মিটার দূরত্বে পরস্পরের মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে থাকে। চীন ও ভুটান দোকলাম মালভূমিকে নিজের এলাকা বলে দাবি করে আসছে। ভুটানের দাবিকে সমর্থন দিচ্ছে ভারত।
দুদেশের সৈন্যরা প্রায় ৭০ দিন মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে থাকার পর দুটি দেশই সৈন্য প্রত্যাহারে সম্মত হলে উত্তেজনার অবসান হয়। ব্যাপক শেয়ার হওয়া ভিডিওটি নিয়ে করা কয়েক হাজার মন্তব্যের মধ্যে একটিতে এক ভারতীয় বলেন, “প্রতিরক্ষামন্ত্রী শুধু একজন ভাল প্রশাসক না, একজন ভাল কূটনীতিকও।”
আরেক মন্তব্যে আরেক ভারতীয় বলেন, “চীনা ক্যাপ্টেনের জন্য ভালবাসা। আমাদের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে শান্ত এবং সহজভাবে কথা বলেছেন তিনি। ভাল ইংরেজিও বলেছেন।”

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ