শনিবার ১৭ এপ্রিল ২০২১
Online Edition

সোনারগাঁয় চাঁদার দাবিতে চার জনকে জখম করেছে ছাত্রলীগ-যুবলীগ

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা: নারায়ণগঞ্জের  সোনারগাঁ উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের বস্তল এলাকায় চাঁদার দাবিতে এক নেটওয়ার্ক ক্যাবল ব্যবসায়ীসহ চার জনকে পিটিয়ে জখম করেছে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ। গতকাল রোববার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় নেটওয়ার্ক ক্যাবল ব্যবসায়ীর বাবা মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক ভূ্ইঁয়া বাদী হয়ে চার জনের নাম উল্লেখ করে ৮-১০ জনকে আসামী করে সোনারগাঁ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
সোনারগাঁ থানায় দায়ের করা অভিযোগে মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক ভূূঁইয়া উল্লেখ্য করেন, জামপুর ইউনিয়নের সেকেরহাট গ্রামের বাসিন্দা, তার ছেলে সাখাওয়াত হোসেন রকি দীর্ঘ এক বছর ধরে জামপুর ও নোয়াগাঁও ইউনিয়নের প্রায় ২০টি গ্রামে ক্যাবলের মাধ্যমে ইন্টারনেট সংযোগ দিয়ে ব্যবসা করে আসছে। স্থানীয় ইউনিয়ন যুবলীগের নামধারী নেতা আল আমিন ওরফে ডিস আল আমিন এলাকায় ডিসের ব্যবসা করে থাকে। ফলে উভয়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। এ দ্বন্দ্বের জের ধরে আল আমিন রকির কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এ চাঁদা পরিশোধ করে এলাকায় ইন্টার নেটের ব্যবসা পরিচালনার হুমকি দেয়। গতকাল রোববার ব্যবসায়ী সাখাওয়াত হোসেন রকি বস্তল এলাকায় তার কর্মচারী  রিয়াদ, সাজন ও মোবারকে নিয়ে ইন্টারনেট সংযোগ দিতে গেলে পুনরায় চাঁদা দাবি করে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে তর্ক বিতর্ক শুরু হয়। এক পর্যায়ে জামপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুর নূরের নেতৃত্বে যুবলীগ নামধারী আল আমিন ওরফে ডিস আল আমিন, গোলজার ও আলমগীরসহ ৮-১০জনের একটি দল লাঠিসোটা, রড, হকিস্টিক নিয়ে তাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় মুক্তিযোদ্ধার ছেলে সাখাওয়াত হোসেন রকিসহ ৩ কর্মচারী আহত হয়। আহদের সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ঘটনার পর ৫টি মোবাইল সেট ভাংচুর করে এবং এক ড্রাম ইন্টারনেটের তার ছিনিয়ে নেয়।  এঘটনায় ব্যবসায়ী রকির বাবা মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক ভূঁইয়া বাদী হয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলামের অভিযোগ, জামপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুর নূর ও ডিস আল আমিনের নেতৃত্বে একটি চক্র স্থানীয় এক প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতার ছত্র-ছায়ায় জামপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি, ভূমিদস্যুতাসহ বিভিন্ন অপকর্ম করে থাকে।    
জামপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুর নূরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ডিসের ব্যবসায়ের সঙ্গে আমি জড়িত না। এ ব্যবসায়ে এরিয়া ভাগ করা থাকে। আল আমিনের এরিয়াতে রকি ঢুকে তার ব্যবসা নষ্ট করায় তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে ব্যবসায়ের মূল মালিকের মধ্যস্থতায় মিমাংসা হয়েছে।
সোনারগাঁ থানার ওসি মোরশেদ আলম বলেন, অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বে সঙ্গে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ