শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণকারীদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে

রাজশাহী অফিস : সংবাদপত্রের কালো দিবস উপলক্ষে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন (আরইউজে) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেছেন, বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ ও খবরদারির খড়গ চাপিয়ে তাদের পুরোনো পথেই আবারো যাত্রা শুরু করেছে। সরকারের কর্মকান্ডে মনে হয়, তারা গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় নিয়ন্ত্রণ আরোপের মাধ্যমে সরকার গণতন্ত্রকে সংকুচিত করে ফেলেছে। মেয়র গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণকারীদের বিরুদ্ধে সাংবাদিক সমাজসহ সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান।
গত শুক্রবার (১৬ জুন) বিকেলে আরইউজে কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সরদার আবদুর রহমান সভায় সভাপতিত্ব করেন। পরিচালনা করেন আরইউজে’র সাধারণ সম্পাদক মুহা: আব্দুল আউয়াল। বিশেষ অতিথি ছিলেন ডক্টর্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ড্যাব’র রাজশাহী জেলা সভাপতি ডা. ওয়াসিম হোসেন। প্রধান আলোচক ছিলেন আরইউজের সাবেক সভাপতি কথাশিল্পী ডা. নাজিব ওয়াদুদ। আলোচনায় অংশ নেন, নদী ও পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এনামুল হক, রাজশাহী আইনজীবী সমিতির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট জানে আলম, রাবি সাদা দলীয় শিক্ষক গ্রুপের আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মো. এনামুল হক, রাবির আরবী বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ, সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট মো. দেলোয়ার হোসেন, আরইউজে’র যুগ্ম সম্পাদক সাদিকুল ইসলাম স্বপন, কোষাধ্যক্ষ মঈন উদ্দিন, নির্বাহী সদস্য মাইনুল ইসলাম, রাবি প্রেসক্লাবের সভাপতি তাসলিমুল আলম তৌহিদ প্রমুখ। আলোচনা সভা শেষে আরইউজে’র উদ্যোগে ইফতার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সিটি মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, আরইউজে’র সহ-সভাপতি আব্দুস সবুর, অ্যাডভোকেট রজব আলী, আরইউজে’র নির্বাহী সদস্য তৌফিক ইমাম পান্নাসহ বিভিন্ন প্রিণ্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, অবিলম্বে দিগন্ত টেলিভিশনসহ বন্ধ সকল গণমাধ্যম খুলে দিতে হবে। তারা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণকারীদের বিরুদ্ধে সাংবাদিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান। বক্তারা আরো বলেন, সরকার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদ কর্মীদের ওপর নির্যাতন অব্যাহত রেখেছে এবং অনেক ক্ষেত্রে বিচারও হচ্ছে না। সাগর-রুনীর হত্যাকা-ের বিচার না হওয়া এর অন্যতম উদাহরণ। তারা বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৬ জুন বাক-স্বাধীনতা হরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ইতিহাসে এক কালো দিন। এই দিনে তৎকালীন একদলীয় বাকশাল সরকার তাদের অনুগত চারটি সংবাদপত্র রেখে বাকিগুলো বন্ধ করে মুক্তচিন্তা ও মত প্রকাশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছিল। ফলে বিভিন্ন সংবাদপত্রে কর্মরত বহু সংবাদ কর্মী চাকরি খুইয়েছিলেন, অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল তাদের রুজি-রোজগার ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ। পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ওই ধারা বাতিল করে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেন।
রাজশাহীতে ট্রেনযোগে
ভারতীয় ১২ হনুমান
মালবাহী ট্রেনটির পুরো একটি বগি খালি। হনুমান পরিবারটির কর্তা হয়তো ভেবেছিল- খালি বগিতে পরিবার নিয়ে বেশ ভালই একটা ভ্রমণ করা যাবে। কিন্তু সেই ট্রেন তাদের ভারত থেকে নিয়ে এসেছে বাংলাদেশে।
এখন ভারতের ১২ সদস্যের এই হনুমান পরিবারটি রাজশাহীর গোদাগাড়ী ও পবা উপজেলার কয়েকটি গ্রামে অবস্থান করছে। গাছে-গাছে লাফিয়ে বেড়াচ্ছে, দাঁত খিচিয়ে ভেংচি কাটছে, আবার কেউ কোনো খাবার দিলে খাচ্ছে। হনুমানগুলো দেখতে রীতিমতো ভিড়ও জমে যাচ্ছে এলাকায়। গত শনিবার বিকেলে পবার দামকুড়াহাট এলাকায় গিয়ে ৪টি হনুমান দেখা যায়। একটি হনুমান বসে ছিল রবার্ট রিচার্ড মুর্মুর বাড়ির টিনের ছাদে। রবার্ট জানান, গ্রামের কয়েকটি বাড়ি ঘুরে ঘণ্টা দুয়েক আগে হনুমানটি তার বাড়িতে এসেছে। রবার্ট বলেন, ‘কলা দিচ্ছি, পাউরুটি দিচ্ছি, পানি দিচ্ছি-সবই খাচ্ছে। খুব খিদে পেয়েছে মনে হয়। লোকজন দেখার জন্য আসছে। কেউ কেউ বিরক্ত করছে। বিরক্ত যেন কেউ না করে সে জন্য ইউপি সদস্যকে জানিয়েছি।’ খোঁজ নিয়ে জানা গেল, পবার শিতলাই, কাদিপুর, রায়পাড়া ও গোদাগাড়ীর আলোকছত্র গ্রামে আরও ৮টি হনুমান অবস্থান করছে। আলোকছত্র গ্রামের ফিরোজ কবির বলেন, হনুমানগুলোর মুখ কুচকুচে কালো। কেউ কাছে গিয়ে ছবি তোলার চেষ্টা করলেই দাঁত খিচিয়ে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে। শিতলাই গ্রামের মজিবর রহমান বলেন, ‘শুক্রবার ভোরে বাড়ির সামনে বসে ছিলাম। তখন রেললাইনে একটি ট্রেনকে ক্রস করার জন্য মালবাহী আরেকটি ট্রেন দাঁড়িয়েছিল। এ সময় একটি খালি বগি থেকে একসঙ্গে নেমে এলো ১২টি হনুমান। তারপর হনুমানগুলো বিভিন্ন গ্রামে ছড়িয়ে গেছে।’ এই গ্রামের আবদুর রাকিব নামে আরেক ব্যক্তি জানান, সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পাথর আমদানি করে বাংলাদেশ। পাথরের ট্রেনে চড়ে মাঝে মাঝেই ভারতীয় হনুমান এসব এলাকায় আসে। অনেক সময় হনুমান মানুষকে বিরক্ত করে, আবার বেশিরভাগ সময় মানুষ তাদেরকে বিরক্ত করে। রাকিব বলেন, উপযুক্ত পরিবেশ এবং খাবারের অভাবে ভারত থেকে আসা হনুমান মারাও যায়। কিন্তু সেগুলো উদ্ধার করে না বনবিভাগ। বাংলাদেশে যেহেতু হনুমান সব এলাকায় দেখা যায় না, তাই এসব হনুমান উদ্ধার করে নিরাপদ পরিবেশে নিয়ে গিয়ে অবমুক্ত করা প্রয়োজন। জানতে চাইলে বিভাগীয় বন বিভাগের সহকারি বন সংরক্ষক একেএম রুহুল আমিন বলেন, হনুমানরা সাধারণত একটা পরিবার এক সঙ্গে থাকে। তাই তাদের সবাইকে ধরা খুব কঠিন। তবে বিচ্ছিন্নভাবে কেউ একটি-দুটি ধরে রাখলে এবং খবর পেলে সেগুলো উদ্ধার করা হয়। পবা-গোদাগাড়ীর নতুন এসব হনুমানের ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না বলেও জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ