বুধবার ২১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

২ লক্ষ ৮৮ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব টার্গেট জনগণের বিরুদ্ধে সরকারের যুদ্ধ ঘোষণা

 

 

চট্টগ্রাম অফিস : চট্টগ্রামে ঘোষিত বাজেট সর্ম্পকে বিভিন্ন মহল প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, সরকার ১৫% ভ্যাট আরোপের মাধ্যমে জনগণের পকেট কাটার চেষ্টা চালাচ্ছে। ২ লক্ষ ৮৮ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব টার্গেটে সরকার এক প্রকার জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। একদিকে বর্তমানে রপ্তানী আয় নি¤œমূখী, বিশাল মুদ্রাস্ফীতি, প্রবাসী আয় নি¤œমূখী, শিল্প কলকারখানা ধ্বংসের মূখে। দিন দিন অবকাঠামো বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, জমির অভাবে শিল্প কলকারখানা এবং ব্যক্তিগত বিনিয়োগ যেখানে শূন্যের কোটায় সেখানে জি.ডি.পি. ৭% এর উপরে। কোনক্রমেই সম্ভব নয়। জি.ডি.পি ৭ এর উপরে বলে সরকার হয়ত আত্মতৃপ্তিতে ভুগবে কিন্তু বাস্তবিকভাবে সেটা কখনো অর্জন হবে না। ডা. শাহাদাত হোসেন বাজেট প্রতিক্রিয়ায় আরো বলেন, ৪ লক্ষ ২৬৬ কোটি টাকার বাজেটে ১ লক্ষ ১২ হাজার ২৬৬ কোটি টাকার ঘাটতি এটাও বাংলাদেশের বাজেট ইতিহাসের অন্যতম রেকর্ড। রাজস্ব আদায়ের নামে জনগনের কষ্টে অর্জিত ঘামের টাকা আজকে আওয়ামীলীগ পন্থী বড় বড় ব্যবসায়ীরা রাষ্ট্রায়ত্ব সমস্ত ব্যাংকগুলো যখন লুটপাট করে দিচ্ছে, সেখানে জনগণের কষ্টার্জিত করের টাকা দিয়ে ব্যাংকের মূলধন ভরা হচ্ছে। গত ৭ বছরে সরকার ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যাংকে লুটপাট হওয়ার টাকা মূলধন ভরার জন্য দিয়েছে। অর্থ্যাৎ দুর্নীতির টাকা ভরা হচ্ছে জনগণের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পরিবহন, যোগাযোগ বাজেট কর্তন করে। 

বাজেট প্রতিক্রিয়ায় ডা. শাহাদাত হোসেন আরো বলেন, বাজেটের শিরোনাম হচ্ছে উন্নয়নের মহা সড়কে বাংলাদেশ। প্রকৃত পক্ষে উন্নয়নের মহাসড়কে নয়, “দুর্নীতির মহা সড়কে বাংলাদেশ”। আমাদের স্মৃতি থেকে এখনো মুছে যায়নি বাংলাদেশের শেয়ার মার্কেটের ৯০ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি, সোনালী ব্যাংকের হলমার্ক গুলোর ৪ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি, এছাড়াও বিসমিল্লাহ গ্রুপের দুর্নীতি, বেসিক ব্যাংকের ৩৮০০ কোটি টাকার দুর্নীতি, পদ্মা সেতুর দুর্নীতি। ৮ হাজার কোটি টাকার পদ্মা সেতু এখন দাড়ায় ২৮ হাজার কোটি টাকায়। ভারতে যেখানে (৯.৫ কিলোমিটার) ধলাসেতু নির্মাণে লাগে ৯ হাজার ৫ শত কোটি টাকা। সেখানে পদ্মা সেতু মাত্র ৫.৯ কিলোমিটার নির্মাণে আমাদের লাগে ২৮ হাজার কোটি টাকা। দুর্নীতি মাত্রা কোন পর্যায়ে গেলে সেটা সম্ভব হয়। ঢাকা চট্টগ্রাম ৪ লাইনের রাস্তার ব্যয় দুর্নীতির কারণে ৮ থেকে ১০ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এভাবে প্রতিটি মেগাপ্রজেক্টে উন্নয়নের নামে চলছে হরিলুট। বাজেট প্রতিক্রিয়ায় ডা. শাহাদাত হোসেন আরো বলেন, সর্বশেষ বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮০০ কোটি টাকার লুট বাংলাদেশ যে একটি দুর্নীতির মহাসড়কে অবস্থান করছে তাতে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই। গ্যাসের দাম, বিদ্যুতের দাম দফায় দফায় বৃদ্ধি করা হচ্ছে কিন্তু চট্টগ্রামে গ্যাসের অভাবে, বিদ্যুতের অভাবে, সমস্ত শিল্প কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বাসা বাড়ীতে গ্যাসের অভাবে, বিদ্যুতের অভাবে মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। আওয়ামী পন্থী ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিত্য প্রয়োজনীয় সমস্ত দ্রব্যের মূল্য আকাশচুম্বী করেছে। কিন্তু এই অবৈধ সরকার সেটা দেখেও না দেখার ভান করছে। অর্থ্যাৎ বাজারের মূল্য নিয়ন্ত্রণ করতেও তারা সম্পূর্ণ ভাবে ব্যর্থ হয়েছে। আর সামাজিক নিরাপত্তার দিক থেকে বাংলাদেশ ধর্ষণের দেশে পরিণত হয়েছে। ধর্ষকরা মন্ত্রী-এমপির ছত্র ছায়ায় ঘুরে বেড়ায় কিন্তু সরকার তাদের বিচার করতে পারে না। কারণ প্রধান বিচারপতির নিজের ভাষ্যে- “দেশে আইনের শাসন নেই”। তিনি পহেলা জুন বিকালে পাঁচলাইশস্থ নিজ কার্যালয়ে বাজেট প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের সাথে আলাপ কালে উপরোক্ত কথা বলেন। 

চিটাগাং চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলমের প্রতিক্রিয়া- জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী কর্তৃক উত্থাপিত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট বিষয়ে এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র সভাপতি মাহবুবুল আলম চেম্বারের দাবীর প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম মহানগরীর যানজট নিরসনে লালখান বাজার হতে চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমান বন্দর পর্যন্ত প্রায় ১৬ কি.মি. দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলওয়ে করিডোর ডাবল লাইন উন্নীতকরণ এবং দোহাজারী-কক্সবাজার-ঘুনধুম রেললাইন সম্প্রসারণকে স্বাগত জানিয়েছেন। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে চট্টগ্রাম মহানগরের যানজট নিরসন, চট্টগ্রাম-ঢাকা ও বৃহত্তর চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড আরো গতিশীল হবে। তিনি বলেন-ব্যক্তিগত করমুক্ত আয়ের সীমা ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। মূল্যস্ফীতি এবং অবচয়ন বিবেচনাপূর্বক এ সীমা বৃদ্ধি করা উচিত। একইভাবে মহিলা এবং ৬৫ উর্ধ্ব করদাতাদের ক্ষেত্রেও করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লক্ষ টাকা থেকে বৃদ্ধি করা উচিত। চেম্বার ও ব্যবসায়ীদের বারংবার দাবীর পরও ১৫% ভ্যাট হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। দেশীয় ব্যাটারী চাহিদা পূরণ ও রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে সংশি¬ষ্ট কাঁচামাল আমদানি শুল্ক হ্রাস করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে দেশীয় উৎপাদনকারীদের উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে তৈরীকৃত সোলার প্যানেল আমদানি শুল্ক ৫-১০% বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মোবাইল, আইপ্যাড ইত্যাদি উৎপাদন ও সংযোজনে ব্যবহৃত কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশে রেয়াতি সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। জুয়েলারী শিল্পের জন্য যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়নের প্রস্তাব করা হয়েছে যা এ শিল্পের বিকাশে অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। সামগ্রিকভাবে বাজেট উন্নয়নমূখী তবে ভ্যাট হার হ্রাস করা না হলে ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জিং হবে বলে আমরা মনে করি।

 চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির তাৎক্ষণিক প্রতি্িক্রয়া-’উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশ’ শিরোনামে অগ্রসরমান অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে অর্থমন্ত্রী কর্তৃক দেশের ইতিহাসে সব চেয়ে বড় ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকার সাহসী বাজেট উপহার দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। বাজেটে উন্নয়ন প্রস্তাবনা দেখে আমরা মনে করছি যে এই বাজেট আসলেই একটি গণ উন্নয়ণমূখী বাজেট, যাহা দেশের জনগনের মঙ্গলের লক্ষ্যেই প্রনীত হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি লক্ষ্যণীয় বিষয় হবে, সংশ্লিষ্ট সকল সরকারী সংস্থা কর্তৃক এডিবি বাস্তবায়ন হার শত ভাগ সম্পন্ন করনের পদক্ষেপ নেয়া। এক্ষেত্রে এডিবি শতভাগ বাস্তবায়ন হলে, আশা করা যায় দেশে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বন্দর উন্নয়ন হলে প্রচুর বৈদেশিক বিনিয়োগ, শিল্পায়ণ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে, যার ফলে বাংলাদেশের জিডিপি ৭.৫ ছাড়িয়ে যাবে।বাজেট প্রনয়নে নানামূখী নির্দেশনা দানের জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। 

মনোয়ারা হাকিম আলী, প্রেসিডেন্ট, চিটাগাং উইম্যান চেম্বার কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি-অর্থমন্ত্রী ঘোঘিত ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উৎপাদনমুখী কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ বান্ধব বলে আখ্যায়িত করেন চিটাগাং উইম্যান চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি এর প্রেসিডেন্ট মনোয়ারা হাকিম আলী। ঘোষিত বাজেট এর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি বলেন, বাজেট বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা থাকার ফলে শিল্পস্থাপনে আগ্রহী হবেন। ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তিনি আরো বলেন করমুক্ত আয়ের সীমা ২,৫০,০০০.০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩,০০,০০০.০০ টাকা করলে ব্যক্তিশ্রেনীর করদাতারা উপকৃত হতেন। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে করমুক্ত আয়ের সীমা বর্ধিত করা প্রয়োজন ছিল। শিক্ষাখাতে সর্ব্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার মান-উন্নয়ন ও কারিগরি শিক্ষার ক্ষেত্রে উন্নয়ন আমাদেরমত দেশে খুবই প্রয়োজন। তিনি বলেন, ভ্যাট-আইন সংশোধন এবারকার বাজেটে একটি উল্লেখযোগ্য বিষয়। বিশেষ করে টার্ণওভার তালিকা ভূক্তির সীমা ৩৬ লক্ষ টাকা পর্যন্ত কর অব্যহতি দেওয়ায় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা উপকৃত হবেন। কৃষি-পণ্য এবং কৃষিকাজে ব্যবহৃত উপকরন ডেইরি শিল্প, জীবন রক্ষাকারী ঔষধ ইত্যাদির ক্ষেত্রে ভ্যাট অব্যহতির ফলে সাধারণ কৃষক থেকে শুরু করে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ উপকৃত হবেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ