বুধবার ২৫ মে ২০২২
Online Edition

চাহিদা মতো ওষুধ সরবরাহ নেই খুলনা জেনারেল হাসপাতালে

খুলনা অফিস ঃ খুলনা জেনারেল হাসপাতালে সরবরাহ নেই পর্যাপ্ত ওষুধ। যার কারণে রোগীদের প্রেসক্রিপসনের সরকারি ওষুধের কোর্স সম্পূর্ণ দেয়া হয় না। আর একই সাথে হাসপাতালের ডিসপেনসারির চাহিদা মোতাবেক ওষুধ সরবরাহ করা হয় না হাসপাতালের স্টোর থেকে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, খুলনা জেনারেল হাসপাতালের বহিঃবিভাগ ডিসপেনসারি থেকে বিভিন্ন ধরণের সরকারি ওষুধ সরবরাহ করা হয়। এ ওষুধের জন্য রোগীদের কাছ থেকে কোন ধরণের টাকা নেওয়া হয় না। কিন্তু দেওয়া হয় না প্রেসক্রিপসনের সম্পূর্ণ ওষুধ। কারণ হাসপাতালের চিকিৎসকরা প্রেসক্রিপসনের পাশাপাশি ছোট কাগজে বিনামূল্যে সরবরাহকৃত ওষুধের নাম ও পরিমাণ লেখে দেয়। আর এই ছোট কাগজে লেখা থাকে প্রেসক্রিপসনে যে পরিমাণ ওষুধ রয়েছে তার চেয়ে কম। আর রোগীরা এ বিষয়ে সচেতন না বলে তারা যে পরিমাণ ওষুধ পায় তাতেই খুশি থাকে। বাকি ওষুধ তাদেরকে বাইরে ফার্মেসি থেকে কিনতে হয়। গেল সপ্তাহে হাসপাতালের ডিসপেনসারি থেকে স্টোরে ১০ হাজার প্যারাসিটামলের চাহিদা দেয়। কিন্তু স্টোর থেকে ডিসপেনসারির জন্য প্যারাসিটামল বরাদ্দ হয় মাত্র ৩ হাজার। যা সপ্তাহে রোগীদের চাহিদা পূরণের জন্য একবারেই অপ্রতুল। এরকম আরো ওষুধ চাহিদার খুব সামান্য অংশ দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। এজন্য সপ্তাহের শেষ দিকে রোগীদের ছোট কাগজে প্যারাসিটামল লেখা থাকলেও ডিসপেনসারি থেকে নেই বলে জানানো হয়।

আকলিমা (৩৫) নামের কানের রোগী বলেন, তার প্রেসক্রিপসনের সম্পূর্ণ ওষুধ দেওয়া হয়নি। আর যে দুটো ওষুধ দিয়েছে তাও সম্পূর্ণ কোর্সের দেয়নি। বাইরের দোকান থেকে কিনে নিতে বলেছে।

নগরীর বাগমারা থেকে আসা হাফিজা (৩০) বলেন, হাসপাতাল থেকে যে ফ্রি ওষুধ দেয় তা প্রেসক্রিপসনের সম্পূর্ণ দেয় না। ছোট কাগজে ১০টা-১৫টা করে লেখা থাকে। তাই দেয়। কিন্তু প্রেসক্রিপসন অনুযায়ী সেই ওষুধ ৩০টা-২০টা করে লাগে। কিন্তু বাকি ওষুধ কিনে নিতে বলে।

জেলখানা ঘাটের ওপার থেকে আসা আসমা বলেন, প্রেসক্রিপসনের মাত্র দুই দিনের ওষুধ দিছে। আর এখান থেকে দিতে পারবে না। ছোট কাগজে যা লেখা থাকে তাই দেয়। আর বাকি দিনগুলোর ওষুধ বাইরে থেকে কিনে খেতে বলে।

হাসপাতালের বহিঃবিভাগ ডিসপেনসারি’র ইনচার্জ এস এম আব্দুল মফিজ বলেন, ওষুধের যে চাহিদা দেওয়া হয় সেই মোতাবেক ওষুধ তারা পায় না। আর ওষুধ রয়েছে কিন্তু স্টোর থেকে আনতে না যাওয়ায় ওষুধ সঙ্কট পড়ে। এ বিষয়ে বারবার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এ সপ্তাহে দুই-তিনটা নতুন ওষুধ সরবরাহ করেছে।

হাসপাতালের বহির্বিভাগ ডিসপেনসারি’র ফার্মাসিস্ট তপতী বিশ্বাস বলেন, শর্ট স্লিপে ডাক্তাররা যে পরিমাণ ওষুধ লেখেন এখান থেকে সেই পরিমাণ ওষুধ দেয়া হয়। কিন্তু প্রেসক্রিপসনে যা প্রয়োজন তার থেকে কম লেখেন কেন তা তিনি বলতে পারেন না। তবে ওষুধ এসেছে এবং কিছু ওষুধ পেয়েছেন বলে জানান তিনি।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, হাসপাতালে ওষুধ আনা হয়েছে। সেগুলো সার্ভে বোর্ড থেকে যাচাই বাছাই করে গেল সপ্তাহে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এখন থেকে রোগীদের জন্য ওষুধ পাওয়া যাবে।

সিভিল সার্জন ডা. এ এস এম আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মূলত হাসপাতালের বহিঃবিভাগের জন্য কোন ওষুধ বরাদ্দ থাকে না। এজন্য ওষুধ সরবরাহে কিছুটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তারপরেও রোগীদের অবস্থা বিবেচনা করে কমবেশি করে ওষুধ দেওয়া হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ