শনিবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২১
Online Edition

ক্রিকেট লিগে আবাহনী রূপগঞ্জ ও মোহামেডানের জয়

স্পোর্টস রিপোর্টার : প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে জয় পেয়েছে আবাহনী, লিজেন্ড অব রূপগঞ্জ ও  মোহামেডান স্পোটিং ক্লাব। আবাহনী হারিয়েছে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবকে। ভিক্টোরিয়াকে হারিয়ে রূপগঞ্জ আর প্রাইম দোলেশ্বকে হারিয়ে জয় পেয়েছে মোহামেডান স্পোটিং ক্লাব। বিকেএসপির ৩ নম্বর মাঠে জয় পেয়েছে আবাহনী। আবাহনী হারিয়েছে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবকে। সাদমান ইসলামের শতক ও শুভাগত হোমের স্পিনে আবাহনী জিতেছে ১০৭ রানে। টানা ৫ ম্যাচে জয়ের পর হঠাৎ করে খেই হারাল প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবটি। গতকাল লিগে টানা দ্বিতীয় হারের তেতো স্বাদ পেল তারা।  টস জিতে ব্যাট করতে নামে আবাহনী। টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের নৈপুণ্যে তারা তিনশ’র উপরে রান তোলে। ৪৯.২ ওভারে ৩০৫ রান করে আবাহনী। উদ্বোধনী জুটিতে লিটন দাস ও সাদমান ইসলাম ১১৯ রান করেন। ৬৩ বলে লিটন ৪টি চার ও ৩টি ছয়ে ৬৫ রানে আউট হলে সাদমান আরেকটি শতাধিক রানের জুটি গড়েন সাইফ হাসানকে নিয়ে। দ্বিতীয় উইকেটের জুটিটি ছিল ১০১ রানের। সাইফ ৫৩ বলে ২টি চার ও ৩ ছয়ে ৫১ রান করেন। তিনি ক্রিজ ছাড়ার কিছুক্ষণ পর ওপেনার সাদমান সেঞ্চুরি করে আউট হন। ১০০ বলে ১০৩ রানে সাজানো সাদমানের ইনিংস, রয়েছে ৯ চার ও ৩ ছয়। পরে আর কোনও ব্যাটসম্যান বড় অবদান রাখতে না পারলেও এ তিনজনের ব্যাটিং শক্ত ভিত গড়ে দেয়। প্রাইম ব্যাংকের আরিফুল হক ও আল-আমিন হোসেন বল হাতে ৩টি করে উইকেট নেন। জবাব দিতে নেমে শুভাগত হোমের অফস্পিনে ভেঙে পড়ে প্রাইম ব্যাংকের ব্যাটিং লাইনআপ। মাত্র ৪৪.৫ ওভারে ১৯৮ রানে গুটিয়ে যায় তারা। শুভাগত ৯.৫ ওভারে ৪৭ রান দিয়ে ৫ উইকেট নেন। লিস্ট এ’র ক্যারিয়ারে প্রথমবার এক ইনিংসে ৫ উইকেট পেলেন এ অফস্পিনার। প্রাইম ব্যাংকের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬১ রানে অপরাজিত ছিলেন সালমান হোসেন। ৩১ রান করে করেছেন অধিনায়ক মেহেদী মারুফ ও আল-আমিন। এ জয়ে সমান ১০ পয়েন্ট পেয়ে প্রাইম ব্যাংককে তিনে নামিয়ে টেবিলের দুইয়ে উঠেছে আবাহনী।
বিকেএসপির চার নম্বর মাঠে জয় পেয়েছে রূপগঞ্জ। রূপগঞ্জ ৬ উইকেটে হারিয়েছে ভিক্টোরিয়া স্পোটিং ক্লাবকে। লিগে ৭ ম্যাচে এটি রূপগঞ্জের চতুর্থ জয়। অন্য দিকে ভিক্টোরিয়ার এটি টানা সপ্তম হার। হারের চক্র থেকে বের হতে পারছে না ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটের অন্যতম বড় এই দলটি।  টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৪৫ ওভার ৩ বলে ১৫৫ রানে অলআউট হয়ে যায় ভিক্টোরিয়া। জবাবে ৪৫ ওভার ৩ বলেই ৪ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় রূপগঞ্জ। ছোটো লক্ষ্য তাড়ায় দলকে পথ  দেখান চলতি মৌসুমে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে নিজের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা পিনাক। ১৮ বছর বয়সী এই তরুণ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ছিলেন ধৈর্যের প্রতিমূর্তি। এক-দুই নিয়ে সচল রেখেছেন রানের চাকা, বাজে বলে পার করেছেন সীমানা। দলকে জয়ের খুব কাছে নিয়ে ফিরেছেন ম্যাচ সেরা পিনাক। ১১০ বলে খেলা ৬২ রানের ইনিংসটি গড়া চারটি চারে। মোহামেডানের কাছে আগের ম্যাচে হারের পর নেতৃত্ব খুইয়েছেন মোশাররফ হোসেন। নতুন অধিনায়ক নাঈম ইসলাম মাঠ  ছেড়েছেন দলকে জিতিয়ে, অপরাজিত ছিলেন ২৯ রানে। আগের ম্যাচে মোহামেডানকে ১৩৫ রানে বেধে রেখেও ৫১ রানে হেরেছিল রূপগঞ্জ। তেমন কিছুর আশায় নয় জন বোলার ব্যবহার করেছিলেন ভিক্টোরিয়ার অধিনায়ক। তরুণ পিনাকের দারুণ ইনিংসে সফল হয়নি সেই প্রচেষ্টা। এর আগে ব্যাটিং ব্যর্থতায় লড়াইয়ের পুঁজিই গড়তে পারেনি ভিক্টোরিয়া। উদ্বোধনী জুটির ৩৮ রানে শুরুটা ভালোই হয়েছিল তাদের। কিন্তু পরের ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় সেটাই হয়ে  থেকেছে সেরা জুটি। উত্তম সরকারের ৩৫, রুবেল মিয়ার ২৮ আর শেষের দিকে ইমামুল মুস্তাকিমের ২২ রানের ওপর ভর করে কোনোমতে দেড়শ ছাড়ায় সাবেক ভিক্টোরিয়ার সংগ্রহ। মরিয়া রূপগঞ্জকে ঠেকাতে ওই রান যথেষ্ট ছিল না। রূপগঞ্জের পাকিস্তানী অলরাউন্ডার রাজা আলি দার ৩ উইকেট নেন ১৩ রানে। মোশাররফ ও  মোহাম্মদ শরীফ নেন দুটি করে উইকেট। 
ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে জয় পেয়েছে মোহামেডান স্পোটিং ক্লাব। মোহামেডান ৬ উইকেটে হারিয়েছে প্রাইম দোলেশ্বরকে। এই জয়ে চার নম্বরে উঠে এসেছে মোহামেডান। পঞ্চম জয় পাওয়া দলটি রান রেটে আবাহনী ও প্রাইম ব্যাংকের পিছনে পড়েছে। অন্য দিকে সাত ম্যাচে তৃতীয় হারের স্বাদ  পেয়েছে দোলেশ্বর। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৯ উইকেটে ২২৮ রান করে  দোলেশ্বর। জবাবে ১৪ বল অব্যবহৃত রেখে ৪ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্য পৌঁছায়  মোহামেডান। রনি তালুকদারের সঙ্গে ৫৭ রানের জুটিতে দলকে ভালো শুরু এনে  দেন অভিষেক। শামসুর রহমান ও রকিবুল হাসানের সঙ্গে ৫৫ রানের আরও দুটি দারুণ জুটিতে দলকে নিয়ে যান জয়ের কাছে। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে নিজের দ্বিতীয় শতকের পথে ছিলেন ম্যাচ সেরা অভিষেক। রান আউট হওয়ায় মাত্র ৫ রানের জন্য শতক পাওয়া হয়নি তার। ১৩৪ বলে খেলা তার ৯৫ রানের ইনিংসটি গড়া ৩টি চার আর দুটি ছক্কায়। অভিষেকের বিদায়ের পর নাজমুল হোসেন মিলনকে নিয়ে বাকিটুকু সেরেছেন রকিবুল। ৫টি চারে ৪৯ রানে অপরাজিত থাকেন  মোহামেডানের অধিনায়ক। এর আগে মন্থর শুরু করা দোলেশ্বরের বিপদ বাড়ায়, নিয়তিম উইকেট পতন। থিতু হয়েও ব্যাটসম্যানরা নিজের ইনিংস বড় করতে পারেননি। উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান আব্দুল মজিদ ফিরেন ৫০ রান করে, জাকের আলীর ব্যাট থেকে আসে ৪০ রান। শেষের দিকে ফরহাদ রেজা ও হাবিবুর রহমানের ব্যাটে দুইশ ছাড়ায় দোলেশ্বরের সংগ্রহ। আগের ম্যাচে ৬ উইকেট  নেওয়া তাইজুল ইসলামকে ঠিকঠাক সামাল দেন দোলেশ্বরের ব্যাটসম্যানরা। তাদের কঠিন পরীক্ষায় ফেলেন সাজেদুল ও আসালঙ্কা। দুই জনে নেন তিনটি করে উইকেট। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ