শনিবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২১
Online Edition

ক্রিকেট লিগে জয় পেয়েছে গাজী গ্রুপ ও শেখ জামাল

স্পোর্টস রিপোর্টার : ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে জয় পেয়েছে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স ও শেখ জামাল। বিকেএসপির তিন নম্বরে মাঠে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে টানা চতুর্থ জয় পেয়েছে গাজী গ্রুপ। মুমিনুল হকের সেঞ্চুরি প্রাইম দোলেশ্বরের বিপক্ষে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সকে এনে দিয়েছেন দারুণ এক জয়। নিজের আগের সেরা ১২৯ ছাড়িয়ে এবার খেলেছেন ১৫২ রানের ইনিংস। এছাড়া ৩৫ রানের জয়ে অলরাউন্ড নৈপুণ্যে উজ্জ্বল অধিনায়ক নাসির হোসেন। গতকাল টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৪৮ ওভার ২ বলে ৩০৭ রানে অলআউট হয়ে যায় গাজী। জবাবে ৯ উইকেটে ২৭২ রানে থামে দোলেশ্বর। গতকাল ব্যাট করতে নেমে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স ৯ রানের মধ্যে হারায় ২ উইকেট। তবে নাসিরের সঙ্গে ১৫৩ রানের জুটিতে প্রতিরোধ গড়েন মুমিনুল। ২৪.১ ওভার স্থায়ী জুটিতে নাসিরের অবদান ৭৬ বলে ৬৪ রান। ৫৪ বলে অর্ধশতক করা মুমিনুল লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে নিজের তৃতীয় শতকে পৌঁছান ৮৯ বলে। শতকের পর আরও চড়াও হন মুমিনুল। দ্রুত পৌঁছে যান দেড়শ রানে। তার তৃতীয় অর্ধশতক আসে মাত্র ২৮ বলে। চতুর্থ উইকেটে পারভেজ রসুলের সঙ্গে ১২.৪ ওভারে উপহার দেন ১০১ রানের বিধ্বংসী এক জুটি। গাজীর নজর তখন সাড়ে তিনশ’ রানে। সব মিলিয়ে মুমিনুলের ১২০ বলের অসাধারণ ইনিংসটি গড়া ১৬টি চার ও ৬টি ছক্কায়। দলকে তিনশ রানের কাছাকাছি নিয়ে ফিরেন ভারতীয় অলরাউন্ডার রসুল। ৫৪ বলে ৫৩ রান করতে হাঁকান তিনটি ছক্কা। গাজীর প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যান ছাড়া আর কারোর এর আগে ব্যাটিংয়ে নামার সুযোগ মেলেনি। এবার তাদের সামনে সুযোগ ছিল দলকে কিছু দেয়ার। মেহেদী হাসান ছাড়া তাদের কেউ তা করতে পারেননি। শেষ ছয় ব্যাটসম্যানের মধ্যে দুই অঙ্কে যান কেবল মেহেদী (১৫ বলে ২২*)। শূন্য রানে ফিরেন সোহরাওয়ার্দী শুভ, আবু হায়দার। ১ রান করে ফিরেন নাদিফ চৌধুরী, আলাউদ্দিন বাবু ও শফিউল ইসলাম। ৪১ রানে ৪ উইকেট নিয়ে দোলেশ্বরের সেরা বোলার ফরহাদ। দেলোয়ার হোসেন ৩ উইকেট নেন ৩৯ রানে। জয়ের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ইমতিয়াজ হোসেনের ৪২ আর শাহরিয়ার নাফীসের ৩৬ রানের পরও ৯৮ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ভীষণ চাপে পড়ে দোলেশ্বর। জাকের আলীর সঙ্গে ১০৩ রানের জুটিতে প্রতিরোধ গড়েন সামিউল্লাহ সেনওয়ারি। দ্রুত রান তোলা এই জুটি ভাঙেন পেসার শফিউল ইসলাম। ৫৯ বলে ৫২ রান করা জাকেরকে বিদায় করে ম্যাচ নিজেদের মুঠোয় নিয়ে আসেন এই পেসার। আফগান অলরাউন্ডার সামিউল্লাহও (৫৫) এরপর বেশিক্ষণ টিকেননি। আবু হায়দারকে উড়ানোর চেষ্টায় তালুবন্দী হন নাদিফ চৌধুরীর। শেষের দিকে এনামুল হক ও আরাফাত সানির দৃঢ়তায় পরাজয়ের ব্যবধান কমায় দোলেশ্বর। ৪০ রানে ৩ উইকেট নিয়ে গাজীর সেরা বোলার নাসির। শফিউল ২ উইকেট নেন ৫১ রানে।
ফতুল্লায় আবাহনী লিমিটেডকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে শেখ জামাল ধানম-ি ক্লাব। আবাহনীর ২৬৯ রান শেখ জামাল পেরিয়ে যায় দুই ওভার বাকি থাকতে। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা আবাহনীকে উদ্বোধনী জুটিতে ৫৯ রান এনে দেন লিটন দাস ও সাইফ হাসান। আগের ম্যাচে ৪৮ রানে আউট হওয়া লিটন এবার দেখা পেয়েছেন লিগের প্রথম অর্ধশতকের। লিটনের আগেই অবশ্য ফিরে গেছেন দুই তরুণ সাইফ ও নাজমুল হোসেন শান্ত। ৮২ বলে ৬২ করা লিটনকে ফিরিয়ে তানবীরের শিকার শুরু। এই লেগ স্পিনার পরে ফিরিয়ে দেন স্পিনে দক্ষ মোসাদ্দেক হোসেন ও মোহাম্মদ মিঠুনকে। একপাশে নিয়মিত উইকেট হারানোর এই সময়ে আবাহনীকে টেনেছেন মাহমুদউল্লাহ। ফর্মে থাকা আবাহনী অধিনায়ক এদিনও খেলেছেন দারুণ। আগের তিন ম্যাচে করেছিলেন ৫৯, ৭৭, অপরাজিত ৪৯। এবার করেছেন ৬৬ বলে ৬২। মাহমুদউল্লাহকেও ফেরান তানবীর। জাতীয় দলে জায়গা হারানো লেগ স্পিনার লিস্ট ‘এ’ ক্যারিয়ারে প্রথমবার নিলেন ৪ উইকেট। দুশর নিচে প্রথম ছয় ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে ফেলা আবাহনীকে টেনেছে লোয়ার মিডল অর্ডার। আগের ম্যাচে টর্নেডো ইনিংস খেলা শুভাগত হোম এদিনও করেছেন ২৭ বলে ৩২। পাশাপাশি সাউফ উদ্দিন, সানজামুলদের ছোট ছোট অবদানে আবাহনী যেতে পারে ২৬৯ পর্যন্ত। সাইফ উদ্দিন বল হাতেও আবাহনীকে সাফল্য এনে দেন শুরুতে। তুলে নেন ইমরুল কায়েসকে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি যাত্রার আগে শেষ ম্যাচে ইমরুল করেছেন ৮ রান। পরের জুটিতেই অবশ্য ধাক্কা সামাল দেয় শেখ জামাল। ১০৪ রানের জুটি গড়েন ফজলে রাব্বি ও প্রশান্ত চোপড়া। ভারতীয় ব্যাটসম্যান চোপড়া ফেরেন ৫৭ রানে। শেখ জামাল একটু শঙ্কায় পড়ে গিয়েছিল ফজলে রাব্বি ও রাজিন সালেহকে পরপর হারিয়ে। ৬৩ রান করে পায়ের পেশিতে টান লাগায় মাঠ ছাড়েন রাব্বি। রান আউট রাজিন। রান প্রয়োজন তখন ওভারপ্রতি ছয়ের বেশি। নুরুল ও জিয়া শুধু জুটিই গড়লেন না, রানের হিসাবও মেলালেন। দুজনের ৮৫ বলে ১০২ রানের জুটিই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয় পাকাপাকিভাবে। ৪২ বলে ৪৬ রান করে জয়ের কাছে গিয়ে ফিরেছেন নুরুল। জিয়া ফিরেছেন জয় সঙ্গে নিয়েই। ৫৭ বলে অপরাজিত ৭৩। জিয়ার এমন ইনিংস মানেই ছক্কার ছড়াছড়ি। এদিন ছক্কা ৬টি। চার ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আবাহনী হারল প্রথমবার। সমান ম্যাচে শেখ জামালের জয়ও সমান, তিনটি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ