বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ২০২০
Online Edition

দিনাজপুরে জোড়া খুনের ঘটনায় কুড়িগ্রামের পীরসহ আটক ৩

দিনাজপুর অফিস : দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার দরবার শরিফে কথিত পীর ও তার গৃহ পরিচারিকাকে গুলী করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুনের ঘটনায় অবশেষে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে। জড়িত সন্দেহে কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারী ও বোচাগঞ্জ থেকে পুলিশ ৩ জনকে আটক করেছে। হত্যা কা-ের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জন্য ইতোমধ্যে ৬ সদস্যের তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে এবং পুলিশের কাউন্টার টেরিরিজম ইউনিটের একটি দল জঙ্গীবাদসহ খুাঁটি-নাটি বিষয় খতিয়ে দেখছে।
গত ১৩ মার্চ সোমবার রাতে উপজেলা দৌলাগ্রামে ২০১০ইং সালে স্থাপিত কাদরিয়া মোহাম্মদী দরবার শরিফে দুর্বৃত্তদের গুলী ও ছুরিকাঘাতে নিহত হন দিনাজপুর পৌর বিএনপির সাবেক আহবায়ক কথিত পীর দৌলা গ্রামের মৃত আমিনুল ইসলাম চৌধুরীর পুত্র মোঃ ফরহাদ হোসেন চৌধুরী (৬২) এবং তার গৃহ পরিচারিকা পার্শ্ববর্তী মূলদুয়ার গ্রামের পাবনা পাড়ায় হাসের আলীর কন্যা রুপালী বেগম (১৯)। এদিকে এই নৃশংস চাঞ্চল্যকর হত্যাকা-ে জড়িত থাকার সন্দেহে পুলিশ কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবি ইউনিয়নের দক্ষিণ পাথর ডুবি গ্রামের মৃত পীর আজিমউদ্দীন পুত্র মোঃ ইসাহাক আলী শেখ পীরকে গ্রেফতার করে। এছাড়া স্থানীয় থানা পুলিশ উপজেলার মূলদুয়ার মৌজার পাবনা পাড়ায় সকমান ফকিরের পুত্র সাবেক মুরিদ সমের আলী (৫৫) এবং মনিপুর মৌজার মোঃ ফয়জুল হক ঘটুলুর পুত্র উক্ত দরবারে খাদেম মোঃ সাইদুর রহমান (৫২)কে আটক করে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
জানা গেছে, হত্যার ১৫ দিন আগে কথিত পীর ইসাহাক আলী দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে আসেন। তিনি ফরহাদ চৌধুরীর দরবারে না উঠে অন্য এক ভক্ত দৌলা গ্রামের আজিম উদ্দীনের পুত্র মোঃ শফিকুল ইসলাম বাবুর বাসায় উঠেন। সেখানে এক রাত থেকে আবার কুড়িগ্রামে ফিরে যান। তার দিনাজপুরে আসা এবং ফিরে যাওয়ার বিষয়টি অনেকের কাছে রহস্যজনক মনে হয়েছে। তাই পুলিশ উক্ত বাবু (২৮)কে হন্যে হয়ে খুঁজছে। শফিকুলের অবস্থান জানাতে পুলিশ তার স্ত্রী নূর জাহান বেগম ও তার মা মুসলিমা বেগমকে গত ১৪ মার্চ সকালে দিনাজপুরে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। অপরদিকে পুলিশের কাউন্টার টেরিরিজম ইউনিটসহ সিআইডি, ডিবি, র‌্যাবসহ বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত কাজে সহায়তা ও ক্লু উদ্ধারের জন্য বিভিন্ন বিষয় তলিয়ে দেখছেন। এদিকে নিহত পীর ফরহাদ হোসেন চৌধুরীর পুত্র আবু ফরহাদ আশিকুর রহমান চৌধুরী আশিক জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে নিহতের একমাত্র কন্যা মোছাঃ ফাতিহা ফারহানা (এমি) বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের নামে বোচাগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে বলে নিশ্চিত করেছেন। বোচাগঞ্জ থানার ওসি আরজু মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন জানায়, প্রাথমিক অবস্থায় কুড়িগ্রাম ভুরুঙ্গামারী থানার গ্রেফতার হওয়া পীর মোঃ ইসাহাক আলী ও হত্যাকাণ্ডের শিকার কথিত পীর ফরহাদ হোসেন চৌধুরীর মধ্যে পীরবাদ নিয়ে সৃষ্ট দ্বন্দ্বের বিষয়টি তদন্তে সর্বাধিক প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। ঘটনার দিন ও ঘটনার পরদিন পুলিশের রংপুর রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির ও দিনাজপুর পুলিশ সুপার হামিদুল আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এহেন লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ