রবিবার ১২ জুলাই ২০২০
Online Edition

৫ বছরে পোশাকশিল্পের সমান সফলতা অর্জন করবে পাটশিল্প -মির্জা আজম

স্টাফ রিপোর্টার : বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম বলেছেন, পাটশিল্প আগামী ৫ বছরে পোশাকশিল্পের সমান সফলতা অর্জন করবে। এজন্য সরকার সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত রাখবে।
গতকাল শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) ‘অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে পাট খাতের সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রতিমন্ত্রী এ কথা জানান। ইআরএফের সভাপতি সাইফ ইসলাম দিলালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমানসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।
পাটশিল্পে সরকারের সুদৃষ্টি রয়েছে জানিয়ে পাট প্রতিমন্ত্রী বলেন, আশা করছি পাটশিল্প আগামী ৫ বছরে অনেক দূর এগিয়ে যাবে। বস্ত্র শিল্প বিগত ৩০ বছরে যে সফলতা অর্জন করেছে, আগামী ৫ বছরে পাটশিল্প তার সমান (সফলতা) অর্জন করতে সক্ষম হবে।
দেশি ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের কবলে দেশের পাটশিল্প হারিয়ে গিয়েছিল মন্তব্য করে মির্জা আজম বলেন, এই ষড়যন্ত্রে বিশ্ব ব্যাংক ও তৎকালীন বিএনপি সরকার জড়িত। তবে বর্তমান সরকার এই শিল্পের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, পাট শিল্পকে ধ্বংস করার জন্য বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনকে (বিজেএমসি) দুর্নীতিপরায়ণ করা হয়। এক্ষেত্রে ২ হাজার টাকা মণ পাট কিনে ২ হাজার ৩০০ টাকার ভাউচার, নারায়ণগঞ্জ থেকে কিনে পঞ্চগড়ের যাতায়াত খরচের ভাউচার, কেনার চেয়ে কম পাট জমা ইত্যাদি ছিল দূর্নীতির অন্যতম মাধ্যম। এই দূর্নীতি ছিল রুটিন মাফিক। এতে বিজেএমসি একটি হতাশার খাত হয়ে দাঁড়ায়। ৩ বছর আগে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার সময়ও এ চিত্র নিজে দেখেছি।
তিন হাজার জনবলের বিজেএমসিতে ৫ হাজার জনবল নিয়োগ দেওয়া হয় জানিয়ে পাট প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ ছাড়া বেসরকারি তুলনায় সরকারি কর্মীদের বেতন ছিল তিনগুণ বেশি। ফলে লোকসান হওয়া স্বাভাবিক। এই লোকসান কমাতে জনবল বাদ দেওয়া দরকার হলেও তা সহজ না।
দুর্নীতি রোধের কারণে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে লোকসানের পরিমাণ গত বছরের (গত বছরের লোকসান ৬১৯ কোটি টাকা) চেয়ে ২০০ কোটি টাকা কম হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী।
দেশে প্রতি বছর ৬ হাজার মেট্রিকটন পাটের বীজ দরকার হয় জানিয়ে মির্জা আজম বলেন, নিজস্বভাবে এই চাহিদার ১০ শতাংশ পূরণের সক্ষমতা আছে। বাকিটা আমদানি করতে হয়। কিন্তু ১৯৭৫ সালের আগে এ খাতে কোন ঘাটতি ছিল না।
খুব শিগগিরই পাট পণ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক মেলার আয়োজন করা হবে জানিয়ে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেখানে বিশ্বের অন্যান্য দেশের পাট পণ্য তুলে ধরা হবে। এক্ষেত্রে অন্যসব দেশের পণ্যের বৈশিষ্ট্য দেখে নিজেদের পণ্যের মান বাড়ানো সহজ হবে।
খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম তার মূল প্রবন্ধে বলেন, পাটশিল্পকে এগিয়ে নিতে হলে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব আনতে হবে। অন্যথায় এই শিল্পটি ব্যর্থ হবে। একইসঙ্গে মেশিনারিজগুলো নিয়মিতভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে। দেশে প্রতি বছর ২৯২ কোটি পাট বস্ত্রের প্রয়োজন হয় বলে মূল প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ