বুধবার ১২ আগস্ট ২০২০
Online Edition

সড়ক দুর্ঘটনার আইন কাগুজে বাঘ

জিবলু রহমান : [গত কালের পর]
নিষিদ্ধের পরও মহাসড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও নসিমন-করিমনের মতো বিপজ্জনক যানবাহন এখনো চলছে; সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে সড়কে এ ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ করা খুব জরুরি। সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনা রোধে ভ্রাম্যমাণ পুলিশের টহল বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের প্রো-অ্যাকটিভ করতে হবে। বিআরটিএর জনবল বাড়াতে হবে, প্রতিষ্ঠানটিকে আধুনিক, যুগোপযোগী ও কার্যকর করতে হবে। পুরনো, লক্কড়ঝক্কড় মার্কা ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তা থেকে তুলে নিতে হবে। ফিটনেস ছাড়া কোনো গাড়ি পাওয়া গেলে জরিমানাসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ কমাতে সড়কে প্রয়োজন মতো ‘পাবলিক ট্রান্সপোর্ট’ বা ‘গণপরিবহন’ নামাতে হবে, প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, প্রয়োজনে প্রাইভেট কারে গ্যাস-সুবিধা বাতিল করতে হবে। সারা দেশে সড়ক-মহাসড়কগুলোতে অত্যন্ত ধীর গতিতে চার লেনের কাজ চলছে, এতে বাড়ছে যানজট, ঘটছে দুর্ঘটনা; তাই দ্রুত গতিতে চার লেনের কাজ শেষ করতে হবে। (সূত্রঃ দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন ১০ নবেম্বর ২০১৫)
বিশৃঙ্খলার চরমে পৌঁছেছে দেশের পরিবহন খাত। তা যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে ট্রাফিক আইন মেনে চলার বিষয় হোক বা নিয়ম মেনে ভাড়া আদায়ের বিষয়ই হোক। পরিস্থিতি এখন এতটাই খারাপ যে শৃঙ্খলা আনার কোনো উদ্যোগই এখন আর কাজে আসছে না।
যাত্রীদের তরফে অভিযোগ আছে যে সরকার-নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে গণপরিবহনগুলোতে বেশি ভাড়া নেয়া হচ্ছে। এই সমস্যার সমাধান হচ্ছে ভাড়ার হালনাগাদ তালিকা বাসে রাখা ও যাত্রীদের তা দেখানো। কিন্তু চালক বা তাঁদের সহকারীরা তা মানেন না।
গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়সহ নানা অভিযোগে ১৯ অক্টোবর ২০১৫ এক গণশুনানির আয়োজন করে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। তাদের পর্যবেক্ষণ বলছে, ঢাকা শহরের ৮৭ ভাগ যানবাহন যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে। সমিতির সভাপতি বিবিসিকে বলেছেন, এখানে মালিকদের এমন একটা শক্তিশালী সিন্ডিকেট কাজ করছে, যারা রাজনৈতিক আশ্রয়ে দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
প্রতিদিন রাজধানীর শতাধিক পয়েন্টে চাঁদাবাজি এখন অপ্রতিরোধ্য রূপ নিয়েছে। একশ্রেণির পরিবহন শ্রমিক, চিহ্নিত সন্ত্রাসী, পুলিশ ও ক্ষমতাসীন মহলের আশীর্বাদপুষ্টদের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে সম্মিলিত চাঁদাবাজ চক্র। তাদের কাছেই জিম্মি হয়ে পড়েছে যানবাহন চালক, মালিকসহ সংশ্লিষ্ট সবাই। চাঁদাবাজির অত্যাচার নিয়ে পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলোর মধ্যেও দ্বন্দ্ব-সংঘাত সৃষ্টি হয়েছে। এসব নিয়ে বিভিন্ন রুটে পরিবহন ধর্মঘট পর্যন্ত করা হয়েছে। তবু চাঁদাবাজির ধকল থেকে রেহাই মিলছে না।
বেবিট্যাক্সি, টেম্পো, বাস, মিনিবাস, ট্রাক থেকে জোরজবরদস্তিভাবে টাকা আদায়ের বিষয়টি বিভিন্ন বিশেষণে চিহ্নিত। সন্ত্রাসীরা সরাসরি ‘চাঁদা’ তুললেও পরিবহন শ্রমিকরা চাঁদা নেয় শ্রমিক কল্যাণের নামে। ট্রাফিক সার্জেন্টরা টাকা তোলে মাসোহারা হিসেবে। এ ছাড়া আছে বেকার ভাতা, রাস্তা ক্লিয়ার ফি, ঘাট ও টার্মিনাল সিরিয়াল, পার্কিং ফি নামের অবৈধ চার্জ। এমন নানা নামে, নানা কায়দায় চলছে এ চাঁদাবাজির ধকল। সামাল দেয়ার যেন কেউ নেই। রাজধানীসহ ঢাকার প্রবেশমুখগুলোতে চলছে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা।
নানামুখী চান্দা-ধান্দার কবলে চালক, মালিক, শ্রমিক সবার জীবনই অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। যাত্রীরা হচ্ছেন নানা দুর্ভোগের শিকার। মহাখালী, গাবতলী, সায়েদাবাদসহ অন্যান্য বাস ও ট্রাক টার্মিনালের অবস্থা আরও দুর্বিষহ। এসব স্থানে গাড়ি ঢুকতেও লাগে, বেরোতেও লাগে টাকা। ইদানীং প্রায়ই কোনো না কোনো স্থানে ‘বেকার ভাতা’ আদায় করা হচ্ছে। নিজেদের বেকার পরিবহন শ্রমিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে একটি চক্র গাড়িপ্রতি ৩০ টাকা পর্যন্ত আদায় করে থাকে। বিভিন্ন টার্মিনালমুখে অবস্থান নিয়ে তারা রীতিমতো রংবেরঙের স্লিপের মাধ্যমে চাঁদা তুললেও বাধা দিচ্ছে না কেউ। রাজধানীর মোড়ে মোড়ে চলছে চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য। বিশেষ চেকিং আর মাসোহারা আদায়ের ব্যাপারে তারা রীতিমতো প্রতিযোগিতা শুরু করেছেন। রাজধানীর একপাশ দিয়ে ঢুকে অন্য পাশ দিয়ে বেরিয়ে যেতে ট্রাকপ্রতি ৫০০-৬০০ টাকা গুণতে হয়।
আগে সাধারণত ঢাকার যে কোনো একজন সার্জেন্টকে ১০০ টাকা দিয়ে স্লিপ সংগ্রহ করলে সিটির মধ্যে আর কোথাও পুলিশকে চাঁদা দিতে হতো না। কিন্তু বর্তমানে এক সার্জেন্ট অন্য সার্জেন্টের স্লিপকে পাত্তা দেয় না, আলাদা আলাদাভাবেই টাকা দিতে হয়।
ঈদ সামনে রেখে পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যায় নজিরবিহীনভাবে। চাঁদাবাজদের অপতৎপরতা রোধে র‌্যাব-পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েও তা বাস্তবায়ন করা যায়নি। ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা পরিবহন চাঁদাবাজদের পক্ষে অবস্থান নেয়ায় র‌্যাব-পুলিশের সব উদ্যোগ ভেস্তে যায়।
সায়েদাবাদ থেকে দেশের পূর্ব-উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলাসমূহের ৪৭টি রুটে চলাচলরত দুই সহস্রাধিক যানবাহন থেকে দৈনিক ফ্রিস্টাইলে চলছে চাঁদাবাজি। এর মধ্যে চট্টগ্রাম, সিলেট, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চাঁদপুর, যশোর, খুলনা, বরিশাল, ফরিদপুরসহ ৩২টি রুটে প্রতিদিন এক হাজার ২০০ কোচ চলে। এছাড়া রাজধানীর গাবতলী টার্মিনাল, মহাখালী, উত্তরা, গাজীপুর, টঙ্গী, কালীগঞ্জ, শ্রীপুর, কাপাসিয়াসহ শহর ও শহরতলির অন্যান্য রুটে সহস্রাধিক বাস-মিনিবাসের চলাচল রয়েছে।
কোনো রুটের যানবাহনই চাঁদামুক্ত নয়। বরং চলাচলকারী সব গাড়িকে প্রতি ট্রিপেই ‘নির্ধারিত অঙ্কের চাঁদা পরিশোধের পর টার্মিনাল ছাড়তে দেয়া হয়’। সে ক্ষেত্রে দূরপাল্লার কোচ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদাবাজি চলছে এবং লোকাল সার্ভিসের প্রতিটি গাড়ি থেকে ট্রিপে আদায় করা হচ্ছে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা।
কমিটি দখল ও মাত্রাতিরিক্ত চাঁদাবাজির অত্যাচারে মালিকরা পথে বসতে চলেছেন। শ্রমিকদের আয়ও কমে গেছে। লাকসাম, কিশোরগঞ্জ, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন রুটে এখন গাড়িপ্রতি ১২৫০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে হচ্ছে। পরিবহন-সংশ্লিষ্ট একটি কেন্দ্রীয় ফেডারেশনের নামে ৫০ টাকা, মালিক সমিতি ৮০ টাকা, শ্রমিক ইউনিয়ন ৪০ টাকা, টার্মিনাল কমিটি ২০ টাকা, কলার বয় ব্যবহার বাবদ ২০ টাকা, কেরানির ভাতা ২০ টাকা, মালিক-শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণের নামে ৫০ টাকা এবং একটি রাজনৈতিক দলের স্থানীয় দুই প্রভাবশালী নেতার নামে ৫০ টাকা করে চাঁদা নেয়া হচ্ছে।
চাঁদা না দিয়ে কোনো গাড়ি টার্মিনাল থেকে বাইরে বের করার সাধ্য কারও নেই। চাঁদা নিয়ে টুঁশব্দ করলে নির্যাতনসহ টার্মিনাল ছাড়া হতে হয়।
বাংলাদেশে পণ্যবাহী ট্রাক থেকে প্রতিদিন গড়ে এক কোটি টাকা চাঁদা আদায় করে পুলিশ। বাংলাদেশ ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ রুস্তম আলী খান এ তথ্য জানিয়ে বলেছেন, এর প্রতিবাদ করলে হয়রানি আরও বেড়ে যায়। দেশে প্রতিদিন ৯০ হাজার পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান চলাচল করে। এর কোনোটিই পুলিশকে চাঁদা না দিয়ে চলতে পারে না। সড়ক বা মহাসড়কে এই ট্রাক চলাচল করতে গিয়ে একেকটি স্পটে ৫০ থেকে ১,০০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে হয়। এই চাঁদা যেমন হাইওয়ে পুলিশ নেয়, তেমনি মালিক ও শ্রমিক সমিতির নামেও আদায় করা হয়। তবে চাঁদাবাজি নিশ্চিত করতে গিয়ে যেসব প্রশাসনিক হয়রানি চালানো হয়, এতে ট্রাক মালিক-শ্রমিকরা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। পণ্যবাহী ট্রাক ট্রাফিক জ্যামে পড়লে একটি গ্রুপ আছে যারা ভাঙচুরের হুমকি দিয়েও চাঁদাবাজি করে থাকে।
বগুড়া থেকে ঢাকা আসতে একটি ট্রাককে অন্তত ১২ জায়গায় চাঁদা দিতে হয়। এগুলো নির্দিষ্ট চাঁদা। এর ওপর ‘হঠাৎ’? চাঁদাও রয়েছে। গড়ে একটি ট্রাককে কমপক্ষে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা চাঁদা গুণতে হয়। এক হিসাবে দেখা গেছে, সারা দেশে পুলিশ ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান থেকে প্রতিদিন এক কোটি টাকা চাঁদা আদায় করে। আর ঈদ-কোরবানি বা কোনো উৎসবে এ চাঁদা আদায়ে পুলিশ আরও হয়ে ওঠে বেপরোয়া। (সূত্রঃ দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন ২৩ জুন ২০১৬)
দেশের প্রায় প্রতিটি বাস ডিপোতে চাঁদা দিতে হয়, না হলে গাড়িতে যাত্রী তুলতে দেয়া হয় না। এ থেকে বাদ যায় না সরকারি মালিকানাধীন বিআরটিসির বাসও। বাস মালিক সমিতির লোকজনের এসব কর্মকাণ্ড বন্ধে স্থানীয় প্রশাসনের কোনো সহযোগিতাও পাওয়া যায় না। আর এ চাঁদা দেয়ার কারণেই বিআরটিসি কাক্সিক্ষত রাজস্ব আদায় করতে পারছে না।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি গঠিত এক সাব-কমিটির প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নারী যাত্রীদের বাসে ওঠানো ও নামানোর ক্ষেত্রে বাসের কন্ডাক্টর ও হেলপারদের হাতে অহেতুক হয়রানির শিকার হতে হয়।
৩১ জুলাই ২০১৬ সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে সাব-কমিটির ওই প্রতিবেদন এবং সুপারিশের বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা হয়। সাব-কমিটি দেশের বিভিন্ন স্থানের বাস ডিপোগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করে এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে। সারা দেশেই বাস মালিক সমিতির পক্ষ থেকে বিআরটিসির (বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন) বাস চলাচলে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এ বিষয়ে কমিটির সুপারিশগুলো আমলে নেয়ার ব্যাপারে মন্ত্রণালয় নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিল।
একাব্বর হোসেনের সভাপতিত্বে বৈঠকে আরও অংশ নেন ওবায়দুল কাদের, এ কে এম এ আউয়াল, রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক, ফয়জুর রহমান, মোঃ মনিরুল ইসলাম ও লুৎফুন নেছা।
নাজমুল হক প্রধানের নেতৃত্বে গঠিত এই সাব-কমিটির অন্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক, নুরুজ্জামান আহমেদ ও মোঃ মনিরুল ইসলাম। সাব-কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিটি ডিপোর ক্ষেত্রেই অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। কোনো চালু গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হলে বিকল গাড়ি থেকে পার্টস নিয়ে লাগানো হয় এবং ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।
কমিটির সুপারিশে প্রতিটি ডিপো ম্যানেজারকে জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমন্বয় বৈঠকের সদস্য করতে বলা হয়েছে। এছাড়া বিআরটিসির দেয়া লিজ বাতিল করে প্রতিষ্ঠিত পরিবহন কোম্পানিগুলোকে লিজ দেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এতে মালিক সমিতির বাধা দেয়ার বিষয়টি এড়ানো সম্ভব হবে।
সাব-কমিটির পক্ষ থেকে গাড়ির কন্ডাক্টর ও হেলপারদের নৈতিক শিক্ষায় আনার পরামর্শ দেয়ার পাশাপাশি মালিক সমিতির চাঁদাবাজি প্রতিরোধে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ যাত্রীদের সমন্বয়ে ‘বিআরটিসি যাত্রী সেবা সংঘ’ নামে সংগঠন গড়ে তোলার সুপারিশ করা হয়েছে।
তা ছাড়া চুঙ্গির প্রচলন এখনো রয়েছে জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, একটি গাড়ি প্রতি ট্রিপে তিন হাজার টাকা আয় করলেও দেখানো হয় দেড় হাজার টাকা। এটাকে চুঙ্গি বলা হয়। এ বিষয়ে বিআরটিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে কমিটি জানতে চাইলে বলা হয়, মালিক সমিতিকে চাঁদা দেয়াসহ অন্য খরচ মেটাতেই চুঙ্গির প্রচলন রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রতিটি ডিপোতে বিপুল অঙ্কের অজমাকৃত অর্থ রয়েছে। এই অর্থ আদায়ে আরও তৎপর হতে হবে। জমা নেয়ার দায়িত্বে থাকা ম্যানেজারসহ অন্যদের বেতন/ভাতা/গ্র্যাচুইটি/পেনশন থেকে এই অর্থ কর্তন করে রাখতে হবে। দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। এ বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায় না হওয়ার জন্য বিআরটিসির তদারকির অভাব রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশব্যাপী জেলা সদরের সঙ্গে সংযুক্ত রাস্তাগুলোকে ২৪ ফুট থেকে ৩০ ফুট এবং থানা সদরের সঙ্গে সংযুক্ত রাস্তাগুলো ১৮ ফুট থেকে ২৪ ফুট করতে সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কমিটিকে জানান হয়েছে, দেশের ২৩ জেলায় বিআরটিসির বাস চলাচল করছে। আরও নতুন বাস সংগ্রহের পরে প্রতিটি জেলায় কমপক্ষে একটি করে ঢাকা থেকে বাস চালানো হবে। ঢাকা শহরে দৃষ্টিনন্দন বাস চালানোর বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, গত দু-তিন বছরে রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় ৪৪৭টি বাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এগুলো মেরামতের জন্য বেসরকারি বাস মালিকদের মতো প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে অর্থ চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু অর্থ বরাদ্দ না হওয়ায় নিজস্ব তহবিলের অর্থে মেরামতের কাজ করা হচ্ছে। (সূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো ১ আগস্ট ২০১৬)
পরিবহন খাতের আজকের এই অবস্থা অবশ্য এক দিনে হয়নি। আর এর দায় শুধু পরিবহন মালিক বা শ্রমিকদেরও নয়। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর যথাযথ নজরদারির অভাব, নানামুখী দুর্নীতি, অনিয়ম, অদক্ষতা ও দায়িত্বহীনতার ফলেই আজকের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। শীর্ষ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ এবং পরিকল্পিত ও ধারাবাহিক উদ্যোগ ছাড়া এর থেকে উত্তরণের পথ নেই।
স্বার্থান্বেষী মহলের অন্যায় আবদার উপেক্ষা করে সরকার সেটি করতে প্রস্তুত আছে কি? [সমাপ্ত]
jiblu78.rahman@gmail.com

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ