শুক্রবার ৩০ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

নীলফামারীর জলঢাকায় ৮শ’ বছরের পুরানো মসজিদের সন্ধান

নীলফামারী সংবাদদাতা: নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় সুলতানী আমলের আটশ’ বছরের পুরানো ৪২ গম্বুজ বিশিষ্ট একটি মসজিদের সন্ধান পেয়েছে প্রতœতত্ত্ব অধিদফতর। জেলার জলঢাকা উপজেলার ধর্মপাল ইউনিয়নের পাইটকাপাড়া সতীশেরডাঙ্গা নামক স্থানে প্রতœতত্ত্ব বিভাগ খনন করে এই প্রাচীন নিদর্শনের সন্ধান পায়। জানা যায়, ২০১৫-১৬ অর্থবছরের গত নবেম্বর থেকে প্রতœতত্ত্ব অধিদফতরের রাজশাহী বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক নাহিদ সুলতানার নেতৃত্বে সাত সদস্য বিশিষ্ট একটি দল ধর্মপাল ইউনিয়নের গড় ধর্মপাল ও সতীশেরডাঙ্গা নামক স্থানে খনন কাজ শুরু করে। এতে পাল বংশীয় নিদর্শন উদ্ধার করেন তারা। পরবর্তীতে ওই ইউনিয়নে সতীশেরডাঙ্গায় খনন কাজ শুরু করলে সুলতানী আমলের ৩০টি পিলারের সন্ধান পায় তারা। শুধু মসজিদ নয় সেইসঙ্গে এখানে উদ্ধার করা হয়েছে ১৫০০ বছরের আগের শিলাপাথরের বদনা, পানির পাত্র ও বড় বড় শিলাপাথর এবং পাতকুয়া। খনন কাজে নিয়োজিত পাহাড়পুর কস্টোডিয়ান ছাদেকুজ্জামান জানান, বাগেরহাটে দৃশ্যমান রয়েছে ষাট গম্বুজ মসজিদ। তার পরের স্থানটি হিসেবে আমরা মাটির নিচ হতে আবিস্কার করলাম ৩০টি পিলারের উপর ৪২ গম্বুজ মসজিদ। যা সুলতানী আমলের বলে প্রতীয়মান হয়েছে। যার দৈর্ঘ্য ২৪ দশমিক ৭৬ ও প্রস্থ ২০ দশমিক ৫৭ মিটার পরিমাপের এই মসজিদে চারদিকে দেয়াল ছিল। যার ইটগুলো চুরি হয়ে গেছে। মাটি খুঁড়ে মসজিদের ধ্বংসপ্রাপ্ত সবকিছুই আজ বিলীন হলেও এখনও রক্ষিত রয়েছে পাতকুয়া, শিলাপাথরের বদনা, পানিপানের পাত্রসহ বিভিন্ন নির্দশন। তিনি বলেন, খননকারীরা যতই লালমাটির নিচে যাচ্ছেন, ততই বেরিয়ে আসছে একের পর এক ইটের তৈরি নকশায় অলঙ্কৃত নিদর্শন, দেয়ালের বাইরে হাতে কাটা ইটের জালি নকশা ও বিভিন্ন স্থাপনা। গত বছরের ১৫ নবেম্বর হতে সন্ধানের পর এসব মিলেছে। গত বৃহস্পতিবার এ নিদর্শনটি পরিদর্শন করেন, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সচিব ইব্রাহীম হোসেন খান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, প্রতœতত্ত্ব অধিদফতরের মহাস্থান জাদুঘর কস্টোডিয়ান মুজিবুর রহমান, তাজহাট জমিদার বাড়ি কস্টোডিয়ান আবু সাইদ ইনাম তানভীরুল, মহাস্থানগড় যাদুঘর অ্যাসিস্ট্যান্ট কস্টোডিয়ান এস.এম হাসানাত বিন ইসলাম, জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহ. রাশেদুল হক প্রধান প্রমুখ। অপরদিকে জেলার সদর উপজেলার ঐতিহাসিক নিদর্শন গোড়গ্রাম ইউনিয়নে অষ্টম খ্রিস্টাব্দের রাজা বিরাটের বিন্নাদীঘির প্রতœতাত্বিক নিদর্শণ উদ্ধারের কাজ শুরু হয়েছে। কথিত আছে অষ্টম খ্রিস্টাবে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে পরাজিত প-বদের পানি পানের জন্য রাজা বিরাট নীলফামারী জেলার সদও উপজেলার গোড়গ্রাম ইউনিয়নে ওই দীঘিটি খনন করেন। দিঘীর আয়তন ৫৩ দশমিক ৯০ একর। গভীরতা ২৮ ফুট থেকে ৩২ ফুট পর্যন্ত। ১৯৮৩ সালে ওই দিঘীর নামকরণ করা হয় নীলসাগর। অনেকের মতে দিঘীর পানি দেখতে নীল এ কারণে নামকরণ নীলসাগর। আবার অনেকে মনে করেন নীলফামারী নামের সাথে মিলিয়ে নীলসাগর নামকরণ করা হয়েছে। ১৯৯৮ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত দিঘীটি সংস্কারের মাধ্যমে দৃষ্টিনন্দন করে গড়ে তোলা হয়। বর্তমানে সেখানে বসে প্রতিবছর হিন্দু ধর্মের অনুসারীদের পূণ্য¯œান মেলা। পাখির অভয়ারণ্য হিসেবে গড়ে তোলায় সেখানে প্রতিবছরের শীত মওসুমে আসে সাইবেরিয়া থেকে অতিথি পাখি। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রতœতাত্ত্বিক ওই খননের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। বর্তমানে ওই দীঘি নীলসাগর নামে পরিচিত। এ সময় মন্ত্রী বলেন, প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন আমাদের সংস্কৃতির অংশ। সরকার এসব নিদর্শন রক্ষায় কাজ করছে। দেশের যে সকল স্থানে প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন পাওয়া যাবে, সেখানে একটি করে প্রতœতাত্ত্বিক জাদুঘর নির্মাণ করা হবে। ঐতিহাসিক নিদর্শন হওয়ায় নীলফামারীর বিন্নাদীঘি এলাকায় প্রতœতত্ত্ব জাদুঘর নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নীলফামারীসহ আশপাশের জেলার যেসব স্থানে এমন নিদর্শন আছে পর্যায়ক্রমে খনন করে তা উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ