শনিবার ২৪ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

‘১৯৯৬ সালের পানি বণ্টন চুক্তি জাতীয় স্বার্থবিরোধী’

স্টাফ রিপোর্টার: ১৯৯৬ সালে ভারতের সাথে আওয়ামী লীগ সরকারের করা পানি বণ্টন চুক্তি জাতীয় স্বার্থবিরোধী বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক পানিসম্পদ মন্ত্রী মেজর (অব.)  হাফিজউদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম। তিনি বলেন, এ চুক্তির কোনো গ্যারান্টি ক্লজ এবং কোনো আরবিটারি ক্লজ নেই।
গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘হিমালয় অঞ্চলে পানি বণ্টন সমস্যা : টেকসই মডেলের অনুসন্ধান’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন। সাউথ এশিয়া ইয়ুথ ফর পিস এন্ড প্রস্পারিটি সোসাইটি আয়োজিত এ সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতিসংঘের সাবেক পানি বিশেষজ্ঞ ড. এস আই খান। বিশিষ্ট পরিবেশবাদী মো. মোস্তফা মজুমদারের সভাপতিত্ব ও আয়োজক সংগঠনের সভাপতি সাজ্জাদুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, সাবেক পরিবেশমন্ত্রী মোস্তফা জামাল হায়দার, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, রাষ্ট্রদূত আশফাকুর রহমান, রাষ্ট্রদূত মো. সিরাজুল ইসলাম, নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর (অব.) জিল্লুর রহমান, বিশিষ্ট সাংবাদিক মাহফুজুল্লাহ, বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন অধ্যাপক ড. আব্দুর রব খান, পানি বিশেষজ্ঞ শহিদুল হাসান প্রমুখ।
মেজর (অব.)  হাফিজ বলেন, আন্তঃনদী পানি বণ্টনের ক্ষেত্রে একটি সফল পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। যার ফলে ৬০ শতাংশ পানি প্রবাহ নিশ্চিত হয়েছিল। তিনি রাজনীতিবিদদের দোষারোপ করে বলেন, তারা এ বিষয়ে কোন জ্ঞান ছাড়াই কথা বলেন যা কোন প্রভাব তৈরি করতে পারে না। বাংলাদেশের পানি বণ্টন সংক্রান্ত অবস্থান দেশের ক্ষমতার পরিবর্তনের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়। কিন্তু ভারতে এ ধরনের পরিবর্তন দেখা যায় না।
তিনি আরো  বলেন, সবাইকে এ বিষয়ে একত্রিত হয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে আমাদের নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় করা উচিৎ এবং প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের পূর্বে সকল শ্রেণির মানুষের স্বাক্ষর সম্বলিত একটি স্বারকলিপি তার হাতে তুলে দেয়া উচিত যা পানি ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বাংলাদেশের পানি সমস্যা সমাধানের প্রয়োজনীয়তা বুঝতে সহায়তা করবে।
ড. এস আই খান তার প্রবন্ধে বলেন, ভারতের উচিৎ তার আধিপত্যবাদী মনোভাব থেকে বেরিয়ে এসে বাংলাদেশের পানি সমস্যা সমাধানে আগ্রহী হওয়া। তিনি এ ব্যাপারে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
ড. আসিফ নজরুল বাংলাদেশের পানির ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠায় ভারতের সাথে দরকষাকষির ক্ষেত্রে পানি বিশেষজ্ঞ, পররাষ্ট্র এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ব্যাক্তিবর্গ এবং রাজনীতিবিদদের দক্ষতার উপর গুরুত্তবারোপ করেন। তিনি আমাদের এই অঞ্চলেও ইউরোপের ন্যায় অববাহিকাভিত্তিক পানি কমিশন গঠনের প্রস্তাব করেন।  
অন্যান্য বক্তারা সুশীল সমাজের বিভাজন দূরীকরণ, তরুণ সমাজের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, নতজানু পররাষ্ট্রনীতি পরিহার পানি আগ্রাসন প্রতিরোধে জরুরি পদক্ষেপ বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ