শনিবার ১৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

মহম্মদপুরে সওজের ৪ সড়কে দুর্ভোগের শেষ নেই

মাগুরা মহম্মদুপুরে নহাটা বাজার থেকে পলিতা ব্রিজ পর্যন্ত সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী। অধিকাংশ স্থানে বড় বড় গর্ত। উঠে গেছে পিচ ও পাথর

মহম্মদপুর (মাগুরা) সংবাদদাতা: মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের ৪০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যেের চারটি সড়ক চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে রয়েছে।
সড়কগুলো হচ্ছে নহাটা থেকে পলিতা (৪ কিমি.), নহাটা থেকে লাহুড়িয়া (১২ কিমি), নহাটা থেকে মিঠাপুর (১০ কিমি) ও মহম্মদপুর থেকে কালীশংকরপুর (১৪ কিমি) সড়ক। জনগুরুত্বপূর্ণ এসব সড়ক উপজেলা থেকে উপজেলা এবং উপজেলা থেকে জেলার সাথে সংযোগ রয়েছে।
গ্রামীণ এসব সড়কের ৮০ ভাগ স্থান ভেঙে যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বেশির ভাগ স্থানে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। উঠে গেছে পিচ ও পাথর। যানবাহনগুলো অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। গাড়ি চললেই ধুলায় ঢেকে যায় চারপাশ। অন্তত পাঁচ থেকে দশ বছর ধরে সড়কগুলোর বেহাল অবস্থা। ফলে সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের যাত্রী ও পথচারীদের কষ্টের শেষ নেই।
মহম্মদপুর উপজেলা এলজিইিডির প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, গুরুত্বপূর্ণ এসব সড়ক এলজিইডির কাছ থেকে সওজের কাছে হস্তান্তর করা হয়। উপজেলা পর্যায়ে সওজের কার্যালয় নেই। নিয়মিত অর্থ বরাদ্দও পায় না তারা। তাদের দাবি এলজিডির হাতে থাকাকালীন এসব সড়কের এমন বেহাল অবস্থা হয়নি। অন্য দিকে নিয়মিত বরাদ্দ ও উপজেলা পর্যায়ে অফিস ও জনবল থাকায় এলজিইডির কোনো সড়কই চলাচলের অনুপযোগী নেই বলে জানান।
জানা গেছে, নহাটা থেকে পলিতা অংশে নবগঙ্গা নদীর ওপর ২০১৩ সালে সাড়ে আট কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০ মিটার দৈর্ঘ্যরে ব্রিজ নির্মাণ করে এলজিইডি। কিন্তু চার কিলোমিটার সড়কের দেখভালের দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয় সওজের কাছে। এই ব্রিজ পার হয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ মাগুরা শহর ও পাশের নড়াইল হয়ে যশোর-খুলনায় যাতায়াত করেন। সড়কটির এই বেহাল দশার কারণে এই ব্রিজ কোনো কাজে আসছে না।
সরেজমিন চারটি সড়কে দেখা গেছে, সড়কের সর্বত্র গর্ত তৈরি হয়েছে। কয়েক জায়গায় গর্ত ২-৩ ফুট পর্যন্ত গভীর। এসব বড় গর্তের কারণে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। কোনো কোনো স্থানে রাস্তা এতটাই খারাপ যে অনেক যানবাহনের চালক ভাঙা স্থান এড়িয়ে পাশের মাটির অংশ ব্যবহার করেন। আর মাটির ওপর দিয়ে যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচল করায় আরোহীরা ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। যানবাহন যাওয়ার সময় ধুলা উড়ে। সড়কের ধুলায় ঢেকে গেছে গাছের সবুজ। সড়কের দুই পাশের বাসিন্দা, পথচারী ও পরিবহনযাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
যাত্রীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দশ বছরের বেশি সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির বেহাল অবস্থা। সড়কের বেশির ভাগ স্থান ভেঙে রয়েছে। মাটির রাস্তা না পাকা রাস্তা তা দেখে বোঝার উপায় নেই।
নহাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী মিয়া বলেন, ‘চারটি সড়ক এখন এ অঞ্চলের মরণফাঁদ।
মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন হোসেন বলেন, ‘অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো দ্রুত সংস্কার করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে সওজ মাগুরার নির্বাহী প্রকৌশলী নূরুন্নবী তরফদার বলেন, সড়কের কিছু স্থানে অবস্থা বেশি খারাপ এটা ঠিক। সড়কের প্রকল্প প্রাক্কলন করে সংশ্লিষ্ট দফতরে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে শিগগিরই সড়কটি মেরামতের কাজ শুরু হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ