মঙ্গলবার ২৯ নবেম্বর ২০২২
Online Edition

ভর্তি বাণিজ্যের অতিরিক্ত অর্থ ফেরত প্রদানে ক্যাবের প্রচারণা কর্মসূচি শুরু

চট্টগ্রাম অফিস: চট্টগ্রামে ভর্তি বাণিজ্যে অভিযুক্ত ৪৬টি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ভর্তি নীতিমালার নির্ধারিত অতিরিক্ত অর্থ ফেরৎ প্রদানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করতে দিনব্যাপী প্রচারণা কর্মসূচি পরিচালনা করেন দেশের ক্রেতা-ভোক্তাদের জাতীয় প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠান কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ(ক্যাব) চট্টগ্রাম নগর কমিটি। গতকাল  সকাল ১০টায় ভর্তি বাণিজ্যে অভিযুক্ত সিডিএ চান্দগাঁও পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে চট্টগ্রামে ভর্তি বাণিজ্যে অভিযুক্ত ৪৬টি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সময় অভিভাবকরা অতিরিক্ত অর্থ ফেরৎ প্রদানে জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা বাস্তবায়নে অভিভাবকসহ সংস্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টিতে দিনব্যাপী প্রচারণা কর্মসূচি পরিচালনা করেন। কর্মসূচির আওতায় পর্যায়ক্রমে নগরীর ৪৬টি স্কুল পরিদর্শন ও অভিভাবকদের সাথে মতবিনিময়ের জন্য প্রচারণা কর্মসূচির আওতায় পর্যায়ক্রমে অভিযুক্ত (৪৬) সকল স্কুল পরির্দশন করবেন। প্রচারণা কর্মসূচিতে নেতৃত্ব প্রদান করছেন ক্যাব চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সহ-সভাপতি ইকবাল আলী আবকর, ক্যাব মহানগরের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস,যুগ্ন সম্পাদক জানে আলম,ক্যাব চান্দঁগাও থানার সহ-সভানেত্রী ফারহানা জসিম প্রমুখ।
উল্লেখ্য ভর্তি নীতিমালা ২০১৬ অনুযায়ি কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ তিন হাজার টাকার বেশী অর্থ আদায় করতে পারবে না। একই স্কুলে পুনঃভর্তির টাকা নেয়া যাবে না (অনেকে পুনঃভর্তি নাম না দিয়ে উন্নয়ন ফিসসহ বিভিন্ন নামে ফিস আদায় করছে, যা আইন নিষিদ্ধ)। টিউশন ফি আদায়ের বেলায় ও অভিভাবকদের সামর্থ বিবেচনা আনতে হবে। সেশন ফি বৃদ্ধি করতে হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমুহকে আগে অভিভাবকদের সাথে আলোচনা করতে হবে এবং পরবর্তীতে আয় ব্যয় খাতগুলি বিস্তারিত যৌক্তিক কারণ ব্যাখ্যা করে জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিতে হবে। সরকার নির্ধারিত ভর্তি ফিস এর বাইরে অতিরিক্ত টাকা  আদায়ের প্রমাণ পেলে নিবন্ধন বাতিল, সরকারি পাঠ্যবই দেয়া বন্ধ, সার্টিফিকেট পরীক্ষায় অংশ নেয়া বন্ধ, ম্যানেজিং কমিটি, এমপিও বাতিলসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। ১৭ জানুয়ারি  চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক এর সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক জেলা প্রশাসনের নির্র্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এর নেতৃত্বে ৫টি মনিটরিং কমিটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন, যেখানে ক্যাব প্রতিনিধিও অর্ন্তভুক্ত ছিলেন। কমিটি চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে ৪৬টি প্রতিষ্ঠানকে অভিযুক্ত করা হয়। এই ৪৬টি প্রতিষ্ঠিানকে নিয়ে বিগত ৮ ফেব্রুয়ারি  জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সিদ্ধান্ত গৃহিত হয় যে, অতিরিক্ত ফিস গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলিকে অতিরিক্ত অর্থ আাগামী ১০ (২৩ ফেব্রুয়ারি) দিনের মধ্যে ফেরত দিতে হবে নতুবা সমন্বয় করার জন্য বলা হয়েছে।
উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই
গত ১৮ ফেব্রুয়ারী বিকালে রিড কনসাল্টিং বাংলাদেশ লিমিটেড এর সহযোগিতায় বিজিএমইএ আঞ্চলিক কার্যালয়, চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত “Best Practices of Productivity and Efficiency Improvement in the RMG Sector” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ’র ১ম সহ-সভাপতি   মঈনউদ্দিন আহমেদ (মিন্টু)। সেমিনারে আরো উপস্থিত ছিলেন- বিজিএমইএ পরিচালক   কাজী মাহাবুব উদ্দিন জুয়েল, সাইফ উল্লাহ মনসুর, সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর, আমজাদ হোসেন চৌধুরী প্রমুখ। মঈনউদ্দিন আহমেদ (মিন্টু)   বলেন- উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই। গার্মেন্টস্ খাত বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান একটি চালিকা শক্তি। বাংলাদেশের মোট রপ্তানী আয়ের ৮০% এ খাত থেকে আসে। ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে এ’খাত থেকে আয়ের পরিমান- ২৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছে। যদিও আমরা বিশ্বের ২য় পোশাক রপ্তানীকারক দেশ তথাপি প্রথম রপ্তানীকারক চীন থেকে আমরা অনেক পিছিয়ে। যেখানে বিশ্ব বাজারে চীনের পোশাক রপ্তানী ৩৯% সেখানে আমাদের মাত্র ৫%, এ’ব্যবধান কমিয়ে আনতে হলে তৈরী পোশাক খাতে উৎপাদনশীলতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরী। এ’সেমিনার থেকে অর্জিত জ্ঞান স্ব স্ব কারখানায় প্রয়োগ করার জন্য তিনি অংশগ্রহণকারীদের প্রতি আহ্বান জানান।
সেমিনারের শুরুতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে থেকে আগত অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- বিজিএমইএ’র পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর। তিনি বলেন- এ’ধরনের সেমিনার থেকে চট্টগ্রামস্থ পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলি উপকৃত হতে পারে। বিশেষ করে বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে হলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমাদেরকে কাজ করতে হবে।
সেমিনার পরিচালনা করেন- রিড কনসাল্টিং বাংলাদেশ লিমিটেড-এর প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ারিং কনসালটেন্ট, ডক্টর মোহাম্মদ আব্বাস উদ্দিন ও তার সাথে ছিলেন- কনসালটেন্ট প্রোডাক্টিভিটি  মুহাম্মদ মাসুদ মিয়া।চট্টগ্রামস্থ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ১৫০ জন মালিক ও উৎপাদন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ অংশগ্রহণ করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ