রবিবার ১২ জুলাই ২০২০
Online Edition

কুমারখালীতে ভুট্টা চাষে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

কুমারখালী (কুষ্টিয়া) : নন্দলালপুর ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের একটি ভুট্টাক্ষেত -সংগ্রাম

মাহমুদ শরীফ, কুমারখালী (কুষ্টিয়া) : জেলার কুমারখালীতে এবছর ভুট্টা চাষে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি আশানুরূপ দাম না পাওয়ার আশংকাও রয়েছে কৃষকদের। দেশে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে তাল মিলিয়ে দানা জাতীয় খাদ্যের চাহিদা মেটাতে ধান ও গমের পাশাপাশি হাইব্রিড জাতের ভুট্টাচাষে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কৃষককুলে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা থাকায় বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা লক্ষণীয়। তথাপিও আবাদি খরচ অনুযায়ী দাম না পাওয়ার শংকা তদের মনে।
চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রবি মৌসুমী ফসল উৎপাদন কর্মসূচির আওতায় কৃষি-সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে গোটা উপজেলায় ভুট্টা আবাদে ৫শত হেক্টর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও তা ছাড়িয়ে আবাদ হয়েছে ৫শত ২১ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে চাপড়া ইউনিয়নে ২শত ১৭ হেক্টর জমিতে। এছাড়া শিলাইদহে ২২, যদুবয়রা ইউনিয়নে ৭৩, চরসাদিপুরে ২৩, সদকী ইউনিয়নে ৫, নন্দলালপুরে ৫, পান্টি ইউনিয়নে ১৪, চাঁদপুরে ১৮, বাগুলাট ইউনিয়নে ১শত, জগন্নাথপুরে ৩৭ এবং কয়া ইউনিয়নে ৭হেক্টর জমিতে  ভুট্টা আবাদ করা হয়েছে। প্যাসিফিক-৬০, প্যাসিফিক-৯৮৪, হিরা-৪০৫, ৯০-এমগোল্ড, সানশাইন ও পাইওনিয়ার-থ্রি, ভি-৯২ এবং পালওয়ান হাইব্রিড জাতের ভুট্টা আবাদ করেছে উপজেলার চাষিরা। তবে এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবাদ করা হয়েছে সানশাইন জাতের ভুট্টা।
কুমারখালী উপজেলা কৃষি-কর্মকর্তা সেলিম আহ্মদ জানান, পূর্বে থেকেই  ভুট্টাচাষে কৃষকদের মাঝে উৎসাহ-উদ্দীপনা থাকার কারণে এই মৌসুমে আশানুরূপ হারে  ভুট্টা আবাদ করা হয়েছে। দানাজাতীয় খাদ্য শস্যের মধ্যে  ভুট্টা অধিক লাভজনক ফসল।  ভুট্টার সাথি-ফসল হিসেবে গোল আলুর চাষ করলে আরো লাভবান হতো এতদাঞ্চলের কৃষকেরা।
উপজেলা সহকারী কৃষি-কর্মকর্তা ভুলেন্দ্রনাথ বালা বলেন- আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত জাত আবাদ আর আবহাওয়া ও পরিবেশ অনুকূলে থাকায়  ভুট্টা আবাদ অনেক ভালো হয়েছে। এবারে ফসল ঘরে ওঠা পর্যন্ত তেমন কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে বিঘা প্রতি অন্তত ৩০ মণ হারে ফলন হবে। রয়েছে ভুট্টার বাম্পার ফলনেরও সম্ভাবনা।
উপজেলার জোতমোড়া গ্রামের কয়েকজন কৃষক জানান, এখনকার আধুনিক ও উন্নত জাতের  ভুট্টা আবাদ করলে বেশ লাভ করা যায়। আবাদও হয়েছে অনেক ভালো। তবে  আবাদি খরচ অনুযায়ী দাম না পাওয়ার শংকায় আছেন তারা। প্রতি মণ কমপক্ষে ৯শত থেকে  ১২শত টাকা বিক্রি করতে পারলেই যথেষ্ট বলে কৃষকরা জানান।
 ভুট্টা আবাদের প্রতি তাদের উৎসাহ-উদ্দীপনাকে অব্যাহত রাখতে মৌসুমের পূর্বে থেকেই বাজারদর নিশ্চিতকরণে প্রয়োজনীয় ও উপযুক্ত ব্যবস্থার দাবি করেন এতদাঞ্চলের কৃষকেরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ