বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

সুন্দরবনে কাঁকড়া আহরণে নীতিমালা নেই : রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

খুলনা অফিস : সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদ কাঁকড়া থেকে সরকারের কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হচ্ছে। লাখো মানুষের জীবন-জীবিকা আর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের এ প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবসায়ীরা আজ এক শ্রেণীর স্বার্থান্বেষী মহলের হাতে জিম্মি।
একাধিক কাঁকড়া ব্যবসায়ী, চাষি, জেলেদের সূত্রে জানা যায়, সুন্দরবন বাংলাদেশ তথা বিশ্বের একটি অন্যতম প্রাকৃতিক সম্পদ। সুন্দরবনের গাছ, মাছ, পশু পাখি ছাড়াও একটি প্রাকৃতিক মূল্যবান সম্পদ হচ্ছে কাঁকড়া। সুন্দরবন থেকে কাঁকড়া আহরণ করে এ অঞ্চলের প্রায় ৫০ থেকে ৭০ হাজার জেলে তাদের জীবিকা নির্বাহ করছে।
গবেষকদের মতে, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে কাঁকড়ার প্রজনন কাল। এই দুই মাস বাদে প্রায় দশ মাস কাঁকড়া আহরণ করে সেগুলো কিছু বাজারজাত ও বাকী কাঁকড়া স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন চাষিদের হ্যাচারীতে মজুত করতে সহায়তা করে। চাষিরা উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে কাঁকড়া মোটাতাজা করে আন্তর্জাতিক বাজারের বিভিন্ন দেশে রফতানি করে থাকে। তাতে সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে থাকে। দীর্ঘ দশ মাস ধরে কাঁকড়া আহরণ করে জেলেরা দক্ষিণাঞ্চলের মংলা, দিগরাজ, চালনা, পাইকগাছা, কয়রাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ঘের ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে। সরকার এ কাঁকড়া চাষিদের বিনা সুদে মজুত করার জন্য বিভিন্ন ব্যাংক থেকে লোন দেয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়ে থাকে। কাঁকড়া প্রজননের সময় জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে নদীতে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়ে প্রজনন কাল সম্পর্কে জেলেদের বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করে।
উপজেলার চালনা এলাকার কাঁকড়া মজুত ব্যবসায়ী মিল্টন শেখ বলেন, আমি চলতি জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি মাসে কাঁকড়া বিক্রির জন্য কম দামে নিজের হ্যাচারীতে প্রায় ১০ টন কাঁকড়া মজুত করেছি। যার বর্তমান মূল্য এক কোটি টাকা। কিন্তু কাকঁড়াগুলি বিদেশে রফতানিতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
সুন্দরবনের কাঁকড়া আহরণকারী জেলে মুজিবর শেখ বলেন, আমাদের আর দুঃখের শেষ নেই। কখনো ডাকাত, কখনো কতিপয় অসাধু প্রশাসনের হাতে জিম্মী হয়ে পড়তে হয়। তাদের টাকা না দিলে আর সুন্দরবন করা হয় না। কাঁকড়া ধরে আমরা যে টাকা পাই তার ভাগ সকলে খায়। কিন্তু সরকার কোনো সঠিক নিয়ম আজ পর্যন্ত না করায় কোটি কোটি টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি প্রজনন মওসুম থাকায় এবং প্রশাসন খুব কড়া নজরদারী থাকায় কোনোভাবেই সুন্দরবনে যাওয়া সম্ভব হচ্ছেনা।
চালনা বাজার কাঁকড়া ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ বলেন, কাঁকড়া রফতানি করার জন্য সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের একটি সঠিক নিয়মের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের সহায়তা করলে সরকারের রাজস্ব আদায় বাড়বে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ