রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

রোহিঙ্গাদের সহযোগিতা করলে কঠোর ব্যবস্থার হুশিয়ারি

উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা : সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে বিজিবি’র কড়া নজরদারি ভেদ করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করছে তাদের সহযোগিতা করলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। গতকাল মঙ্গলবার মাসিক চোরাচালান, আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাঈন উদ্দিন এ কথা বলেছেন। 

পরিবার পরিজন নিয়ে একটু আশ্রয়ের সন্ধানে রোহিঙ্গারা কুতুপালং বস্তির আনাচে কানাচে, সড়কের ধারে ধারে এখানে ওখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে অবস্থান করছে। যাদের সহায় সম্বল আছে তারা শহরমুখী। কনকনে শীতের মধ্যে শিশু-কিশোরদের কাহিল অবস্থা। বিজিবি’র তথ্য অনুযায়ী এ পর্যন্ত ৪১০ জন রোহিঙ্গা বস্তিতে আশ্রয় নিয়েছে। রোহিঙ্গা নেতারা বলছে ১৭ হাজার রোহিঙ্গা কুতুপালং বস্তিতে আশ্রয় নিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে আনজুমানপাড়া সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশকালে ৫৮ জন রোহিঙ্গাকে আটক করেছে পালংখালী বিজিবি। 

গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় উখিয়া উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মাসিক আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে আলোচনায় উঠে আসে রোহিঙ্গা সম্পর্কে বিভিন্ন অভিযোগ। তৎমধ্যে গুরুত্ব পেয়েছে রোহিঙ্গাদের নগদ টাকা ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণের বিষয়টি। সভায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাঈন উদ্দিন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য। যেহেতু যারা ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করছে তারা অনুপ্রবেশে রোহিঙ্গাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে উৎসাহিত করছে। 

ইউএনও আরো বলেন, সীমান্ত এলাকায় যেসব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন দায়িত্ব পালন করছে তাদের আরো দায়িত্ববান হয়ে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ পুরোপরি প্রতিরোধ করতে হবে। তাছাড়া রাস্তার ধারে ধারে বসে যেসব রোহিঙ্গা নারী-শিশু দান খয়রাতের টাকা ও খাদ্যসামগ্রী নিচ্ছে তাদেরকে বস্তিতে পাঠিয়ে দিতে হবে। আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বিজিবি, পুলিশ কাস্টসম ও আনসার ভিডিপি প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। 

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার কুতুপালং বস্তি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, রাস্তার দু’ধারে শত শত পলিথিনের শেড নির্মাণ করা হয়েছে রোহিঙ্গাদের ভাড়া দেয়ার জন্য। নিবন্ধিত রোহিঙ্গা নেতা ফয়সাল আনোয়ার জানান, ৮ হাত জায়গা এক হাজার টাকা করে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। বাঁশ পলিথিন দিয়ে রোহিঙ্গারা নিজেরাই বেঁেধ নিচ্ছে ঝুপড়ি। এসব ঝুপড়ি কোন অবস্থাতেই নিরাপদ নয় মনে করে ওই রোহিঙ্গা নেতা বলেন, কতিপয় এলাকার অসাধু ব্যক্তি শেড বাণিজ্যের আড়ালে রোহিঙ্গাদের নিকট থেকে নগদ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। একটু দূরেই প্রধান সড়ক সংলগ্ন বাগানের পার্শ্বে দেখা গেল ১০/১২ জন রোহিঙ্গা নারী-শিশু। 

জানতে চাওয়া হলে, নছিমা খাতুন নামের এক বয়স্ক মহিলা জানায়, তার ছেলেকে বর্মী সেনা হত্যা করেছে। ছেলের বউ ও ৫ জন নাতিনাতনী নিয়ে কোন ভাবে এখানে পালিয়ে এসেছি। পেটের তাগিদে এখানে বসে আছি কিছু পাওয়ার জন্য। কারা টাকা দেয় জানতে চাওয়া হলে, ছমুদা বেগম (৪৫) নামের এক মহিলা জানান, গাড়িতে করে লোকজন আসে, তারাই টাকা বা খাদ্য সামগ্রী দেয়। পালংখালী বিজিবি’র সুবেদার জসিম উদ্দিন জানান, আটক রোহিঙ্গাদের খাদ্য ও মানবিক সেবা দিয়ে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়েছে। 

উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল খায়ের জানান, অবৈধভাবে টাকা বিতরণ বন্ধে এসব রোহিঙ্গাদের বস্তিতে ফেরত পাঠানো হলেও তারা পুনরায় সড়কের পাশে অবস্থান নেয়। কক্সবাজার ৩৪ বিজিবি’র অধিনায়ক লে.কর্ণেল ইমরান উল্লাহ সরকার জানান, রোহিঙ্গাদের অবৈধ ভাবে নগদ টাকা ও ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের কারণে অনুপ্রবেশে রোহিঙ্গারা আরো উৎসাহিত হচ্ছে। যে কারণে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হলেও তারা কোন না কোন সীমান্তের চোরাই পথ দিয়ে ফের অনুপ্রবেশ করছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ