বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট ২০২০
Online Edition

সোনারগাঁয়ে গ্রামবাসীর ওপর হামলা, ঘর বাড়ী ভাংচুর ও লুটপাট ॥ নারীসহ আহত ১০

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার ছোট কোরবানপুর গ্রামে গতকাল সোমবার দফায় দফায় হামলায় বাড়ি ঘরে হামলা ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে নারীসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গত দুই দিনের হামলায় কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের ছোট কোরবানপুর গ্রামে শুক্রবার রাতে ওয়াজ মাহফিলের মধ্যে বড় কোরবানপুর গ্রামের মানছুর মিয়ার সঙ্গে কোরবানপুর গ্রামের লোকজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে বড় কোরবানপুর গ্রামের লোকজন গিয়ে ওয়াজ মাহফিল পণ্ড করে দেয়। পরে বাকবিতণ্ডায় শত্রুতার জের ধরে রোববার সন্ধ্যায় বড় কোরবানপুর গ্রামের আবু তাহের ও মানছুর মিয়ার নেতৃত্বে রফিক, ইউসুফ আলী, লতিফ মিয়া, তরুনসহ ১৫/২০ জনের একদল বাহিনী রামদা, ছোরা, টেটা, লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ছোট কোরবানপুর গ্রামে হামলা চালিয়ে রাসেল মিয়া ও প্রবাসী বাবুল মিয়ার বাড়ি ঘর ও একটি সমিতির অফিস ভাংচুর করে নগদ টাকা ও স্বর্নালংকার লুট করে নেয়। হামলাকারীরা ওই গ্রামের আমিনা বেগম, মাকসুদা বেগম, রাশিদা বেগম, লতা বেগম, ঝরনা বেগম, শিল্পী বেগমসহ ১০ নারীকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করে। এর জের ধরে গতকাল সোমবার দুপুরে মানছুর আলী ও আবু তাহেরের নেতৃত্বে ২০/২৫ জনের এক দল সন্ত্রাসী বাহিনী দেশিয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলা চালিয়ে আমিনা বেগম, রাশিদা বেগম, ঝর্না বেগম, লতা বেগম, মাকসুদা আক্তার ও শিল্পী বেগমসহ ১০ জনকে পিটিয়ে আহত করে। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিক ও সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ সময় রাসেল মিয়া ও বাবুল মিয়ার বাড়ীঘর ও একটি সমিতি অফিস কার্যালয় ভাংচুর ও লুটপাট চালিয়ে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা।
রাসেল মিয়া জানান, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মনছুর আলী ও আবু তাহেরের লোকজন গত দুই দিন যাবত তাদের বাড়ি ঘরে হামলা ভাংচুর ও লুটপাট চালিয়ে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েক করেছেন।
এদিকে মনছুর আলী ও আবু তাহেরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, হামলা ভাংচুর ও লুটপাটের সঙ্গে তারা জড়িত নয়।
সোনারগাঁ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ওবায়েদুল হক জানান, গত দুই দিনে হামলা ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনায় থানায় মামলা নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডে বাড়ি ঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভষ্মিভূত : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার বড় চেঙ্গাইন গ্রামে গতকাল সোমবার দুপুরে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে ওই ব্যবসায়ীর বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আগুনে পুড়ে ভষ্মিভূত হয়ে যায়। আগুন নিভাতে গিয়ে কমপক্ষে ৭ জন আহত হয়েছে। এ বিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ে করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে ওই ব্যবসায়ী উল্লেখ করেছেন, উপজেলার কাঁচপুর ইউনিয়নের বড় চেঙ্গাইন গ্রামের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাজুল ইসলামের দোকানে বিদ্যুৎ সর্কসার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। পরে আগুনের লেলিহান শিখা চারদিকে ছড়িয়ে পরে। এতে তার বসত ঘরে ও মুদি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে তার প্রায় ২ লক্ষ টাকার ক্ষতি সাধন হয়েছে। এ সময় এলাকাবাসীরা আগুন নিভাতে গিয়ে ডালিম মিয়া, গোলজার হোসেন, আবু তালেব, তামিম মিয়া, মাসুদা বেগমসহ ৭ জন আহত হয়েছে। আহতদের স্থানীয় ক্লিনিক ও সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
নিখোঁজের ৩ দিন পর লাশ উদ্ধার : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের শম্ভুপুরা ইউনিয়নের চরকিশোরগঞ্জ এলাকায় মেঘনা নদীতে ডাকাতিকালে ডাকাতদের অস্ত্রের আঘাতে নিখোঁজ আলী মাতাব্বারের লাশ তিন দিন পর উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় মুন্সিগঞ্জের চর মোক্তারপুর শাহ সিমেন্ট কারখানা এলাকায় ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। লাশ উদ্ধারের পর ময়না তদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। গত শুক্রবার রাতে মেঘনা নদীতে ডাকাতরা ৭ জনকে কুপিয়ে আহত করলে আলী মাতাব্বার আহত অবস্থায় ট্রলার থেকে নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় ট্রলার কর্মচারী আহত মুরাদ হোসেন বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় মামলা দায়ের করেন।
জানা যায়, উপজেলার চরকিশোরগঞ্জ এলাকার মেঘনা নদীতে শুক্রবার রাতে নৌ ডাকাতরা বিভিন্ন নৌযানে ডাকাতি করে। পরে মেঘনা নদীতে বিভিন্ন নৌযানের মালামাল লোড আন লোডের টাকা উত্তোলনের সময় ওই ট্রলারে ডাকাতরা আক্রমন করে। এসময় ডাকাতরা ওই ট্রলারে থাকা আলী মাতাব্বর, মুরাদ, আলম, আসাদ, ইসলাম, সুজন, ও বিল্লালকে কুপিয়ে জখম করে। ডাকাতরা নগদ ৫০ হাজার টাকাসহ মোবাইলসেট ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। আহতদের মুন্সিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ডাকাতদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নদীতে ঝাপিয়ে পরে আলী মাতাব্বর নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের ৩ দিন পর গতকাল লাশ উদ্ধার হয়। আলী মাতাব্বর চর হোগলা গ্রামের মৃত আজগর আলীর ছেলে।
সোনারগাঁ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাকসুদুর রহমান বলেন, মেঘনা নদীতে নিখোঁজের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ