সোমবার ১৩ জুলাই ২০২০
Online Edition

লুটপাট চালাতেই গ্যাসের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার

বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গতকাল সোমবার সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : লুটপাট চালাতেই সরকার গ্যাসের দাম আবার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এই সিদ্ধান্তকে গণবিরোধী ও অযৌক্তিক আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, গ্যাসের দাম বাড়ানো হলে নিত্যপণ্যের দাম আরও বাড়বে। গতকাল সোমবার সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সরকার আগামী জানুয়ারি থেকে গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে আবাসিকে দুই চুলার গ্যাসের দাম ৬৫০ থেকে বাড়িয়ে এক হাজার এবং সিএনজির দাম ঘনমিটারে ৩৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৩ বা ৪৫ টাকা করা হতে পারে। একইভাবে বাড়ানো হবে বাণিজ্যিক গ্যাসের দামও। এ নিয়ে নয় মাসের মধ্যে দ্বিতীয় দফা দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল সরকার।

সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, সহদফতর সম্পাদক মুনির হোসেন,সহজলবায়ু বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, নির্বাহী কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির এ নেতা বলেন, সম্পূর্ণ অযৌক্তিকভাবে গ্যাসের মূল্য দ্বিগুণ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে মাত্র ৯ মাসের ব্যবধানে অবৈধ সরকারের আবারও গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত মানুষকে হতবাক করেছে। তিনি বলেন, গ্যাস খাতে সরকারের কোনো লোকসানতো নেই-ই বরং মোটা অংকের মুনাফা হচ্ছে। কোম্পানিগুলো যেমন মুনাফা করছে, তেমনি সরকারের কোষাগারে দিচ্ছে মোটা অংকের অর্থ। তারপরও কেন গ্যাসের দাম বাড়ানো হচ্ছে? বছর ঘুরতে না ঘুরতেই গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করা হচ্ছে। গড়ে ৮৮ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে গ্যাস খাতের কোম্পানিগুলো। এর মধ্যে সর্বোচ্চ দাম বৃদ্ধি হচ্ছে গৃহস্থালি কাজে ব্যবহৃত গ্যাসের যা ১৪০ শতাংশ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৩০ শতাংশ দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে ক্যাপটিভ বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত গ্যাসের। বিদ্যুতে ব্যবহৃত গ্যাসের ক্ষেত্রে ৬৩ শতাংশ, সারে ব্যবহৃত গ্যাসের ক্ষেত্রে ৭১ শতাংশ, শিল্পে ব্যবহৃত গ্যাসের ক্ষেত্রে ৬২ শতাংশ, বাণিজ্যিকে ব্যবহৃত গ্যাসের ক্ষেত্রে ৭২ শতাংশ, সিএনজিতে ব্যবহৃত গ্যাসের ক্ষেত্রে ৮৩ শতাংশ। এর ফলে বাসাবাড়ির গ্যাসের দাম এক চুলার জন্য মাসিক বিল ৬০০ টাকা থেকে বেড়ে ১১০০ টাকা এবং দুই চুলার জন্য মাসিক ৬৫০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা হতে পারে। এ ছাড়া সিএনজির দাম প্রতি ঘনমিটার ৩৫ থেকে বেড়ে ৪৩-৪৫ টাকা, গৃহস্থালিতে মিটারভিত্তিক গ্যাসের দাম ৭ থেকে বেড়ে ৯-১০ টাকা এবং শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত ক্যাপটিভ বিদ্যুতের জন্য প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দামও বৃদ্ধি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির সংবাদে আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষ। এমনিতে সাধারণ মানুষ নিদারুণ কষ্টে জীবনযাপন করছে তার ওপর বছরের শুরু থেকে গ্যাসের দাম বাড়ালে তাদের জীবনযাত্রার ব্যয়ভার বেড়ে যাবে । গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সাথে সাথে এর সরাসরি প্রভাব পড়বে জনগণের অতি প্রয়োজনীয় নিত্যব্যবহার্য সবকিছুর ওপর। অতিষ্ঠ হবে জনজীবন। বাসা ভাড়া থেকে শুরু করে পরিবহন ভাড়া সেই সাথে দাম বাড়বে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের। ব্যবসা বাণিজ্যের খরচ বৃদ্ধির সাথে সাথে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকা কষ্টকর হবে। গ্যাসের দাম বাড়ালে তা ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারকে ব্যাহত করবে। গ্যাসের দাম বাড়ালে উৎপাদন খরচ বাড়বে। পরিবহন ভাড়াও বাড়িয়ে দেবেন মালিকরা। ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ বাড়বে। মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাবে। চাপে পড়বে অর্থনীতি। এমনিতে মানুষ নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস পাচ্ছেন না। দিনের বেশিরভাগ সময় গ্যাসের পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় কারখানা চালু রাখাই কঠিন হয়ে পড়েছে। বাসা বাড়িতেও রান্নার কাজ ব্যহত হচ্ছে। অথচ প্রতি মাসে গ্যাসের বিল ঠিকই গুণতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত বছর গ্যাসের দাম বাড়ানোর ফলে বস্ত্র খাতের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেছে ব্যাপকভাবে। ফলে তাদের অন্য দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা মুশকিল হয়ে পড়েছে। তাদের মতে গ্যাস উৎপাদান ও সরবরাহের এ সংকটকালে সর্বোচ্চ প্রস্তাবিত ১৪০ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধি দেশের তৈরি পোশাক রফতানি, চামড়া শিল্প, জাহাজ নির্মাণ শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পসহ অন্যান্য গ্যাস নির্ভর শিল্প-কলকারখানার উৎপাদনকে ব্যহত করবে। এর প্রভাবে বাংলাদেশের রফতানি সমতা ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ নিরুৎসাহিত হতে পারে। তৈরি পোশাক খাত এবং অন্যান্য আমদানি বিকল্প রফতানি নির্ভর শিল্প পণ্যের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় তাদের আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকার সম্ভাবনা কমে আসবে। গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির সাথে সাথে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি হবে যার সরাসরি প্রভাব পড়বে কৃষি উৎপাদনের ওপর।

রিজভী বলেন, এমনিতে সরকারের দুর্নীতি, লুটপাট আর সন্ত্রাসের ছোবলে সারা দেশের মানুষ অতিষ্ট। আওয়ামী শাসকবৃন্দের দুর্নীতির দুর্ণাম বিশ্ব মিডিয়ায় এতই প্রচার পেয়েছে যে, বঙ্গপসাগরের সব পানি দিয়ে ধুলেও সে কালিমা মুছবে না। বাংলাদেশে এখন ব্যবসায়ীরা পথে বসতে শুরু করেছে। পোশাক শিল্পসহ বিভিন্ন শিল্পে বিপজ্জনক ধস নেমেছে। এখন নীলনকশা অনুযায়ী পোশাক শিল্পকে ধ্বংস করে কোন শক্তির পক্ষে কাজ করা হচ্ছে বলেও এখন অনেকে বিশ্বাস করে। তার ওপর গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করা হলে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠবে। ব্যবসা বাণিজ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিএনপির পক্ষ থেকে আমি অযৌক্তিক গণবিরোধী গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এ ধরনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার জোরালো আহ্বান জানাচ্ছি। 

রিজভী বলেন, সরকারের এই সিদ্ধান্ত হবে গণবিরোধী ও অযৌক্তিক এবং বেআইনি। তিনি বলেন, গ্যাসের দাম বৃদ্ধির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে লুটপাট। সরকারি দল ও ক্ষমতাসীনদের স্বজনদের পকেট ভারী করার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে। 

গ্যাসের দাম বৃদ্ধি হলে বিএনপি কোনো কর্মসূচি দিবে কি না এমন প্রশ্নে রিজভী বলেন, দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত হলে জানানো হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ