বুধবার ২০ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

আদালতে খালেদা জিয়া

স্টাফ রিপোর্টার : জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য আবারও সময় পেয়েছেন। আগামী ৫ জানুয়ারি নতুন করে দিন ধার্য করেছেন আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর বকশীবাজার এলাকার আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য হাজির হন খালেদা জিয়া। বেগম জিয়ার সঙ্গে আদালতে উপস্থিত ছিলেন তার নাতনি (ছেলে মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর বড় মেয়ে) জাফিয়া রহমান।  তিনি লন্ডনে থাকেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার খালেদা জিয়া আদালতে উপস্থিত হলে তার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন হাইকোর্টে করা ওই আবেদনের কথা তুলে ধরে সময়ের আবেদন করেন। তিনি বলেন, এ মামলার বাদী সাক্ষ্য দেয়ার শপথ নেয়ার সময় সৃষ্টিকর্তার নাম নেননি, যার ফলে শপথ আইন ভঙ্গ হয়েছে। আবেদনে বলা হয়, এ মামলার একটি আদেশ নিয়ে আমরা উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করেছি, যা শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। তাই সময় আবশ্যক।
এ সময় আইনজীবী প্যানেলে অন্যদের মধ্যে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, এজে মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, আবদুর রেজাক খান, অ্যাডভোকেট সানা উল্লাহ মিয়া উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল এর বিরোধিতা করে বলেন, এদিন আত্মপক্ষ সমর্থন করার কথা। অন্য কোনো বক্তব্য আসামিপক্ষ দিতে পারে না। তাছাড়া আসামিপক্ষের আবেদনে হাই কোর্ট যেহেতু স্থগিতাদেশ দেয়নি, সেহেতু মামলা চলতে কোনো বাধা নেই বলে যুক্তি দেন কাজল।
শুনানি শেষে বিচারক আবু আহমেদ জমাদার সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ৫ জানুয়ারি দিন নির্ধারণ করেন। এর আগে ১ ডিসেম্বর খালেদা জিয়া তাঁর আত্মপক্ষ সমর্থনের লিখিত বক্তব্যের আংশিক পড়ে শোনান। পরে ১৫ ডিসেম্বর খালেদা জিয়া ধার্য তারিখে আদালতে হাজির না হয়ে সময়ের আবেদন করেন। ওই দিন বিচারক সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে খালেদা জিয়াকে ২২ ডিসেম্বর আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন।
এদিকে বেগম জিয়ার আদালতে আগমন উপলক্ষ্যে বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ¯্রােত ছিল বকশীবাজার মুখী। একই কারণে আদালত ও আশপাশের এলাকায় মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত আইন শৃঙ্খলাবাহিনী বাহিনীর সদস্য। আদালতে যাওয়ার সময় নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়ার গাড়ির সামনে মিছিল করতে করতে এগিয়ে যান। এসময় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে দেখা যায়।
এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল কর্তৃপক্ষ বিআইডব্লিউটিএর নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।
এদিকে খালেদা জিয়া আদালতে পৌঁছানোর আগেই  জিয়া অর্ফানেজ ট্রাস্ট মামলার শুনানি হয় এ আদালতে। এ মামলার আসামি মাগুরার সাবেক সাংসদ কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামালের আইনজীবী এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক হারুন অর রশিদকে আংশিক জেরা করেন।
খালেদা জিয়া ছাড়া এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সালিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ