বৃহস্পতিবার ২৬ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি

অধ্যক্ষ ডা. মিজানুর রহমান : ॥ পূর্বপ্রকাশিতের পর ॥
দৈনিক ইনকিলাব ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩ খ্রিঃ প্রকাশিত “হারবাল চিকিৎসার নামে চলছে এক ধরনের অপচিকিৎসা” শিরোনামে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে হারবাল চিকিৎসার নামে দেশব্যাপী বিশাল জনগোষ্ঠী প্রতিদিন এই অপচিকিৎসা শিকার হচ্ছেন। রাজধানীসহ সারাদেশের অলিগলিতে চিকিৎসার নামে হাজার হাজার কবিরাজি চিকিৎসাকেন্দ্র গড়ে উঠেছে। বিশ্রী লেখা পোস্টার, লিফলেট ও বিভিন্ন স্যাটেলাইট চ্যানেলে বিশ্রী বিজ্ঞাপন দিয়ে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতিনিয়ত প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে। একশ্রেণির মানুষ বিভিন্ন জটিল রোগের নাম করে ইউনানি, হারবাল, কবিরাজি, তদবির, দাওয়াখানা ইত্যাদি নানা স্টাইলে চিকিৎসার নামে চলছে চরম প্রতারণা। ঢাকা ও গাজীপুরের বিভিন্ন স্থানে ফুটপাতে চিরুনি, টুপি, নেইল কাটার সহ টুকিটাকি জিনিস ফেরি করে বিক্রিকারী সময়ের ব্যবধানে ভুয়া পরিচয় দানকারী সহকারী সহ হারবাল সম্রাট ইকবালের দাওয়াখানার মালিক কোটিপতি বনে গেছেন। এই হচ্ছে এক শ্রেণির ভুয়া ডাক্তারদের উত্থানের নমুনা। যার বিস্তারিত বিবরণ গত ১৬ অক্টোবর ২০১৬ খ্রিঃ দৈনিক সংগ্রামের প্রকাশিত হয়েছে।
দৈনিক প্রথম আলো ৩০ এপ্রিল, ২০১৬ খ্রিঃ “বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগ মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর উপায়”- শিরোনামে বিয়র্ন লোমবোর্গএর ধারাবাহিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশে স্ট্রোক, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে উপায় বিষয়ক প্রতিবেদনটি কল্যান কর।
দৈনিক ইত্তেফাক ০৬ মে, ২০১১ খ্রিঃ “নকল মশার কয়েলে সয়লাব সারাদেশ স্লো পয়জনিংয়ের শিকার মানুষ”- শিরোনামের খবরে বলা হয়েছে  রাজধানীসহ সারাদেশে শত শত নকল মশার কায়েল কয়েক তৈরির কারখানা গড়ে উঠেছে। খোদ রাজধানীর অলিগলি, পাড়া-মহল্লায় এইসব মশার কয়েল কারখানা রয়েছে। মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর নয় এমন কেমিক্যাল সংমিশ্রণে মশার কয়েল তৈরি নিয়ে কোন দ্বিমত নেই। এতে অনেক লোকের কর্মসংস্থান হচ্ছে। কিন্তু বিষাক্ত কেমিক্যাল ডিডিটি সংমিশ্রণে তৈরি মশার কয়েলের ব্যবহার বিষ প্রয়োগে ধীরে ধীরে মানুষ হত্যার সরমিল বলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা অভিমত ব্যক্ত করেছেন। এই বিষাক্ত কয়েলের তেজস্ক্রিয়ায় গর্ভবতী মায়ের সন্তানের গ্রোত হবেনা। এমনকি কয়েক মাসের অন্তঃসত্ত্বা হলে ভ্রুণ মোমের মত গলে যাবে। অর্থাৎ বিষাক্ত কয়েল ব্যবহারে পরিবারের সকল সদস্যের মরণ ব্যাধির ঝুঁকি একশ’ ভাগ বলে কিডনি, লিভার, গাইনি ও শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা সতর্ক করে দিয়েছেন। তারা বলেছেন জাতি ধ্বংসকারী এ ধরনের বাণিজ্যের । সঙ্গে জরিতদের মৃত্যুদ-ের মত কঠোর শাস্তি প্রদান করা জরুরি।
দৈনিক সংগ্রাম ০৭ এপ্রিল, ২০১৬ খ্রিঃ প্রকাশিত “বাংলাদেশে ৫.২% শিশু ডায়াবেটিসে আক্রান্ত” শিরোনামে প্রকাশিত খবরে বলা হয় আশংকাজনকভাবে বাড়ছে শিশুদের ডায়াবেটিস। এই অবস্থার পেছনে খাদ্যা এবং পরিবেশের দূষণ মূল ভূমিকা পালন করছে।
দৈনিক আমার দেশ ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১২ খ্রিঃ “স্বাস্থ্য খাতে হাজার কোটি টাকা দুর্নীতি” শিরোনামের খবরে বলা হয় স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির মহোৎসব চলছে। মহাজোট সরকারের সাড়ে তিন বছরের ও বেশী সময়ের মধ্যে এখাতে হাজার কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে। সরকারের শেষের দিকে এসে দুর্নীতি লাগাম ছাড়া হয়ে উঠছে। বিশেষায়িত হাসপাতাল থেকে শুরু করে জেলা-উজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্থাস্থ্য অধিদফতর হয়ে স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম পরিচালনায় কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যায়ের সব প্রতিষ্ঠানে প্রকাশ্যে লুটপাট চলছে। গত ২৮ আগস্ট ২০১২ তে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই দুর্নীতি খতিয়ে দেখার নির্দেশ ও দিয়েছেন।
দৈনিক ইত্তেফাক ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১১ খ্রিঃ “বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার ষড়যন্ত্র”- শিরোনামের খবরে বলা হয়েছে-এদেশ থেকে পার্শ্ববর্তী দেশসহ বিভিন্ন দেশের নামিদামি হাসপাতালে রোগী পাঠানোর ১৫টি এজেন্টের এজেন্সি বাতিল করা সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এসব এজেন্ট দীর্ঘদিন এদেশ থেকে রোগী বিদেশে পাঠানোর বাণিজ্যে লিপ্ত। দেশের বাইরে জয়েন্ট পুনঃস্থাপনে প্রতিটিতে নিম্নে ১২ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়। বাংলাদেশে মাত্র সর্বোচ্চ তিন রাখ টাকা ব্যয় হয়।
দৈনিক প্রথম আলো ১৪ অক্টোবর, ২০১৬ খ্রিঃ “ডেন্টাল ক্লিনিক ১১৫টি নিবন্ধিত মাত্র দু’টি” শিরোনামে বলা হয় সিরাজগঞ্জ জেলার ১১৫টি ডেন্টাল ক্লিনিকের মধ্যে মাত্র ২টির নিবন্ধন আছে। বাকি ১১৩টি ক্লিনিকেরই কোনো সরকারি অনুমোদন নেইল এ ছাড়া নামসর্বস্ব দন্ত চিকিংসক দিয়েই এসব ক্লিনিকের কার্যক্রম চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চিকিৎসক হিসেবে কাজ করা অধিকাংশই ডিপ্লোমা প্রশিক্ষণধারী অথবা হাতুড়ে চিকিৎসক। এ থেকেই বাংলাদেশই দন্ত চিকিৎসা ও ক্লিনিকের পরিস্থিত বুঝা য়ায়।
দৈনিক সংগ্রাম ১৫ অক্টোবর, ২০১৬ খ্রিঃ “পুষ্টিহীনতার কারেণে ৯২ লাখ শিশু রক্ত স্বল্পতায় ভুগছে”- শিরোনামে বলা হয় বাংলাদেশে প্রায় ২৪ শতাংশ নারী দীর্ঘমেয়াদি অপুষ্টির সমস্যায় ভুগছেন আর অপুষ্টির শিকার মায়েদের কারণে ৯২ লাখ শিশু রক্ত স্বল্পতায় ভুগছে প্রচুর শিশু খর্বকায়, কম ওজনের এবং শারীরিকভাবে দুর্বল হচ্ছে। অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জন করতে হলে সবার আগে মা ও শিশুদের পুষ্টিহীনতা দূর করতে হলে প্রতি দিন অন্তর একটি ডিম খাওয়া জরুরি।
দৈনিক ভোরের কাগজ ১ মে ২০১৫ খ্রিঃ “হেপাটাইটিস-বি প্রতিকারে হোমিওপ্যাথি”- শিরোনামে বলা হয় বাংলাদেশে মোট জনসংখার ৫% হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসের দীর্ঘমেয়াদি বাহক এবং ২০ ভাগ লিভার সিরোসিস বা ক্যান্সাারের কারণে মারা যায় । দিন দিন এই সংখ্যা বাড়ছে।
 দৈনিক নয়াদিগন্ত ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০১০ খ্রিঃ “সারা দেশে রেড অ্যালার্ট” শিরোনামে বলা হয় মহামারী আকারে এ্যানথ্রাক্স ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় সারা দেশে রেড অ্যালার্ট জরি করা হয়েছে। সাড়া দেশে মোট ৩২৭ জন এ্যানথ্রাক্স রোগে আক্রান্ত ।
দৈনিক সংগ্রাম ১৫ অক্টোবর ২০১৬ খ্রিঃ “খুলনায় র‌্যাব’র অভিযান গাজী মেডিকেল হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ১৩ লাখ টাকা জরিমানা”- শিরোনামে বলা প্যাথলজি বিভাগে মেয়াদ উত্তীর্ণ রি-এজেন্ট, ব্লাড ইনফিউশনের অনুমতি না থাকা এবং চিকিৎসকদের রেফারেন্স ছাড়া নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে খুলনার গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. গাজী মিজানুর রহমানসহ হাসপাতালের পাঁচজন এবং একজন ফার্মেসী মালিককে আটক করে র‌্যাব। এতে প্রাইভেট হাসপাতাল ক্লিনিক এর মালিক পক্ষ ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘট শুরু করে, ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়ে রোগীরা। 
দৈনিক নয়াদিগন্ত ০১ অক্টোবর, ২০০৯ খ্রিঃ “সবার জন্য স্বাস্থ্য ‘প্যাথি’র সমন্বয় চাই” শিরোনামে বলা হয় সবার জন্য স্বাস্থ্য-একটি বিনীত প্রস্তাব শিরোনামে এলোপ্যাথি ও হোমিওপ্যাথির সমন্বয় বিষয়ক প্রবন্ধে ‘স্থূল এলোপ্যাথি’ ও ‘সূক্ষ্ম হোমিওপ্যাথি’ উভয়ের সমন্বয়ে জাতীয় স্বাস্থ্য নীতি উন্নয়ন একান্ত জরুরী
 দৈনিক নবতান ২৭ আগস্ট, ২০১১ খ্রিঃ “খাদ্যে ভেজাল রোধে আইনের যথাযথ প্রয়োগ নেই কেন” শিরোনামের সম্পাদকীয়তে বলা হয় দেশে খাদ্য দ্রবে ভেজালের মাত্রা অতীতের সবরেকর্ড ভঙ্গ করেছে। খাদ্যে ভেজালে মানুষ শুধু অতীষ্ঠই নয় বরং তাদের জীবন এখন বিপদাপন্ন। ভেজাল প্রক্রিয়ায় স্বাস্থ্যের জন্য চরম ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্যাদি লাহামহীনভাবে ব্যবহার হচ্ছে। চাল ও মুড়িতে ইউরিয়া, মাছ ও দুধে ফরমালিন, ফলমূলে কার্বাইড, শুঁটকিতে ডিডিটি, ভাজা খাবারে পোড়া লুব্রিকেটিং, বিস্কুট, আইসক্রিম, কোল্ড ড্রিংকস, জুস, সেমাই, আচার, নুডলস এবং মিষ্টিতে টেক্সটাইল ও লেদার রং, চায়ে করাতকলের গুঁড়া, গুঁড়া মশলায় ভুসি, ইটের গুঁড়া ও বিষাক্ত গুঁড়া রং ইত্যাদি মিশ্রণের ফলে জীবন বাঁচানোর খাদ্যে অখাদ্যে পরিণত হয়। ফলে মানব দেহে নানা রকম রোগ বালাই আক্রমণ করে জীবন অবসান করে। বিশুদ্ধ খাদ্য অধ্যাদেশ, ১৮৬০, ১৯৫৭, ১৯৫৯, ১৯৬৬, ১৯৭৪, ১৯৮৫, ১৯০৫, সালে সংশোধিত বিশুদ্ধ খাদ্য অধ্যাদেশে, নাগরিকদের জন্য খাদ্যসহ জীবনধারণের মৌলিক উপকরণের ব্যবস্থা করা  রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব বিষয়ে সংবিধানের ১৫ অনুচ্ছেদে যা উল্লেখ করা হয় তা অনেক অংশে অমান্যকরণের প্রবণতা মাত্রাতিরিক্তভাবে বেড়ে গেছে।
দৈনিক কর্ণফুলী ১৩ মার্চ ২০১০ খ্রিঃ “চিকিৎসকের দায়িত্ব” শিরোনামে বলা হয় ১৯৪৮ সালে জেনেভায় অনুষ্ঠিত চিকিৎকদের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে হিপোক্রেটান ওথ বা হিপোক্রেটিসের অঙ্গীকারের ভিত্তিতে প্রণয়ন করা হয় জেনেভা নীতিমালা। এই নীতিমালায় বলা হয়েছে: চিকিৎসকরা শপথ করবেন যে মানুষর সেবায় তারা নিজ-নিজ জীবন উৎসর্গ করবেন। তারা বিবেক ও সম্মানের সঙ্গে নিজ-নিজ দায়িত্ব পালন করবেন। রোগীর স্বাস্থ্যই হবে তাদের কাছে প্রধান বিবেচ্য, বর্ণ, জাতীয়তা বা সামাজিক অবস্থান নয়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, আমাদের দেশের চিকিৎসকরা কী এই নীতিমালা সর্বাংশে মেনে চলছেন?
জেলা উপজেলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার সুবাদে শিক্ষা সুযোগ ও সম্প্রসারণ ঘটেছে। সরকারী বেসরকারী হাসাপাতাল ও মেডিক্যাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বৃদ্ধির ফলে চিকিৎসক সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে চিকিৎসা সেবা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। সড়ক মহাসড়ক এক থেকে আট লেইনে সম্প্রসারণ হওয়ায় কম সময়ে কম খরচে যাতায়াত সুবিধা হয়েছে। রেল পথের সম্প্রসারণে নিরাপদে যাতায়াতের সুবিধা বৃদ্ধি পেয়েছে। টেলিগ্রাফ, টেলিফোন এর পরিবর্তে মোবাইল, ই-মেইল, ফ্যাক্স, ফেসবুক, টেলিভিশনের বিভিন্ন চ্যালেন চালু হওয়ায় যোগাযোগের ক্ষেত্রে যথেষ্ট অগ্রগতি সাধিত হয়েছে।
উন্নত বিশে^র সাথে বন্ধুত্ব বজায় রেখে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হতে নানা রকম উন্নয়ন প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখে চলেছে। এধরনের একটি গতিশিল দেশে চিকিৎসা জগতে এমন ভয়াবহ চিত্র জনগণ আশা করে না।
দৈনিক সংগ্রাম ২৩ এপ্রিল, ২০১৬ খ্রিঃ “শিক্ষাব্যবস্থায় আদর্শ বিজ্ঞান হোমিওপ্যাথি উপেক্ষিত কেন”- শিরোনামে বলা হয়েছে চিকিৎসা বিজ্ঞানি হ্যানিম্যান জার্মানির স্যাক্সনি প্রদেশের মিশেন নামক গ্রামে ১০ এপ্রিল ১৭৫৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তার জন্মদিনকে আবর্তিত করে বিশ্ব হোমিওপ্যাথি দিবস পালন করা হয়। বিজ্ঞানী ডা. হ্যানিম্যান কর্তৃক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা প্রণালী সর্বপ্রথম প্রবর্তিত হয়। হ্যানিম্যানের জীবনকাহিনী এক মহান বিপ্লবের ইতিহাস। অষ্টাদশ শতাব্দীর চিকিৎসাজগতে যে নৈরাজ্য, নীতিহীনতা ও অমানবিক প্রথাসমূহ প্রচলিত ছিল হ্যানিম্যান তার বিরুদ্ধে ও সদৃপ্ত বিদ্রোহ ঘোষণা করেন।
এর জন্য তাকে সমকালীন স্বার্থান্বেষী মানুষের হাতে অশেষ লঞ্ছানা, অমানসিক নির্যাতন ও নিষ্ঠুর অত্যাচার ভোগ করতে হয়। তিনি সেই সব হাসিমুখে বরণ করে নেন এবং কঠোর সংগ্রাম ও সাধনার মধ্য দিয়ে আর্তমানবের দুঃখ মুক্তির জন্য এব ধ্রুব সত্য ও পথ আবিষ্কার করেন। তার সমগ্র জীবন অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রাম এবং সমগ্র মানবজাতির কল্যাণ সাধনে উৎসর্গীকৃত। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মনীষী ও মহাপুরুষের মধ্যে ক্রিশ্চিয়ান ফ্রেডারিক স্যামুয়েল হ্যানিম্যান চিকিৎসাশাস্ত্রে ১৯৭৯ খ্রিঃ আরলাংগেন বিশ্ববিদ্যালয় হতে চিকিৎসা বিজ্ঞানে এম.ডি (Doctor of medicine) ডিগ্রি লাভ করেন। ১৭৯৬ খ্রিস্টাব্দে আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত চিকিৎসাপদ্ধতি হোমিওপ্যাথি (সদৃশ্য বিধান) আবিষ্কার করেন।
শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে জগতে হোমিওপ্যাথির গ্রহণযোগ্যতা, প্রচার, প্রসার দিন দিনি বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাথে সাথে এই চিকিৎসা ব্যবস্থা আজ বাংলাদেশেও সমাদৃত। কিন্তু বিগত শতাব্দীর শেষ দশক থেকে রোগের জটিলতা বাড়ছে, জীবন-যাত্রার জটিলতাও বাড়ছে সমানভাবে। অর্থনীতি, তথ্যপ্রযুক্তি, শিক্ষাখাত, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও কৃষিতে যে পরিমাণ উন্নতি হয়েছে সে তুলনায় পিছিয়ে আছে দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা।
একটি সুস্থ্য জাতি গঠনে রাষ্ট্রের চিকিৎসা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা ও সমস্যা যতই বৃদ্ধি পাবে, আমরা পিছিয়ে পড়বো ততই। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে রোগীর চিকিৎসার জন্য এমন এক পদ্ধতির প্রয়োজন যা সহজে, স্বল্পতম ব্যয়ে জটিল-কঠিন-দীর্ঘস্থায়ী রোগের চিকিৎসা হয়। আমাদের দেশ বিদ্যায়-বিত্তে দরিদ্র, অধিকাংশজন অজ্ঞ-অনক্ষর-অসহায়-নিঃস্ব, নিরন্ন। যাঁদের দু’মুঠো ভাতের চিন্তায় দিন রাত মগ্ন থাকতে হয়। এক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা ব্যবস্থাকে জনগণ কেন্দ্রিক করতে পারলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় কল্যাণমুখী চেতনার উন্মেষ হতো। এজন্য প্রথমেই হোমিও শিক্ষাকাঠামো পরিবর্তন প্রয়োজন।
বাংলাদেশে হোমিওপ্যাথি শিক্ষা, চিকিৎসা জগতে সফলতা ও ব্যর্থতা : বর্তমানে বাংলাদেশে ঢাকার মিরপুরে একটি সরকারী হোমিওপ্যাথি মেডিকেল ডিগ্রী কলেজ রয়েছে এবং বেসরকারি দু’টি হোমিওপ্যাথিক ডিগ্রী কলেজ রয়েছে। এ কলেজগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড পূর্ণগঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ১ কোটি টাকা অনুদান দ্বারা ঢাকার নিকুঞ্জ-২ হোমিওপ্যাথি বোর্ড অফিসের জন্য একটি ৪ তালা ভবন ক্রয় করা হয়। বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক প্র্যাকটিশনার্স অর্ডিন্যান্স ১৯৮৩ এর ৪ (১) (এ), (বি), (সি), (ডি), ১৫ (৫) ধারা মোতাবেক হোমিওপ্যাথি বোর্ড সরকার কর্তৃক মনোনীত ১ জন চেয়ারম্যান, ৬ জন বিভাগীয় নির্বাচিত শিক্ষক প্রতিনিধি, ৬ জন বিভাগীয় সরকার মনোনীত প্রতিনিধি এবং ২ জন সরকার মনোনীত মহিলা প্রতিনিধির সমন্বয়ে হোমিওপ্যাথি বোর্ড গঠিত হয়ে থাকে। রেজিস্ট্রার বোর্ডের সচিব হিসাবে কাজ করেন।
বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড ৪ বছর মেয়াদী হোমিওপ্যাথিতে ডিপ্লোমা (ডিএইচএমএস) কোর্স পরিচালনা করে। ১ম বর্ষে পাঁচটি এবং বাকী ৩টি বর্ষে ৬টি করে মোট ২৩টি বিষয়ে ৭৫ নম্বর করে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এবং সবগুলো বিষয়ে ২৫ নম্বর করে ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়। এবং ডিএইচএমএস চূড়ান্ত বর্ষে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ৬ মাস ইন্টার্নী সমাপ্তির পর চিকিৎসক হিসেবে রেজিস্ট্রেশন প্রদান করা হয়।
বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড হোমিওপ্যাথিক ওষুধের উৎপাদন ও আন্তর্জাতিক মানকে বিবেচনা রেখে ২০০৬ সালে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক ফার্মাকোপিয়া প্রণয়ন করেছে যা বাংলাদেশ গেজেটে প্রকাশিত হয়েছে। মোট কথা জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা পরিধি বিস্তারে হোমিওপ্যাথিক শিক্ষা, চিকিৎসা ও শিল্পের গুরুত্ব অপরিসীম। এ উপলক্ষে ২২ এপ্রিল ২০০৯ খ্রিঃ ঢাকার শেরাটন হোটেলের মার্বল হলে সেমিনারে আয়োজন করা হয়। উক্ত সেমিনারে একটি কলেজের উপাধ্যক্ষ হিসাবে আমি অংশগ্রহণ করেছিলাম।  বিগত ২৪ বছর হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজে শিক্ষকতার পাশাপাশি হোমিওপ্যাথির চিকিৎসা জগতের নানা বিষয়ে লেখা লেখি করে জীবনের উল্লেখ যোগ্য সময় দান করেছি। সেই সুবাদে বিশ্ব চিকিৎসা এবং বাংলাদেশে চিকিৎসা জগৎ সম্পর্কে সম্যক ধারণা জন্মেছে। তারই অভিজ্ঞতার আলোকে আজকের এ লেখা।
বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড এর আওতায় ৫৪টি ডিপ্লোমা কলেজ পরিচালিত হয়। স্বাধীনতার ৪৫ বছর পেরিয়ে গেলেও এসব হোমিও মেডিকেল কলেজগুলো আজও এমপিওভুক্তিকরণ করা হয়নি। বর্তমানে ৫৪টি কলেজের ৪১টি কলেজেই অধ্যক্ষ এর পদ শূন্য রয়েছে। শত শত শিক্ষক, মেডিক্যাল অফিসার, কর্মকর্তা, কর্মচারীর পদ এখনো শূন্য। শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি এবং জালিয়াতি প্রচুর প্রমাণ রয়েছে। নতুন কলেজ অনুমোদনের ক্ষেত্রে এক শ্রেণীর স্বার্থান্বেষী মহল বাধা প্রদান সহ নানা রকম অনিয়ম, দুর্নীতি ও  উৎকোচ গ্রহণের যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে।
ডিপ্লোমাধারী শিক্ষার্থীদের সনদ ও রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্তিতে সরকারী বিধিমালা পালন সত্ত্বেও এক্ষেত্রে যথেষ্ট বিড়ম্বনা, দুর্ভোগ, ভোগান্তি ও ঘুষ গ্রহণের হাজার হাজার প্রমাণ বিদ্যামান। ইতিপূর্বে নিয়োগকৃত শিক্ষকদের নিয়োগের সময় কিংবা নিয়োগের পর সনদ যাচাই-বাছাই এর প্রক্রিয়া একবারও না করায় অনেক শিক্ষকদের সনদ জালিয়াতির প্রমাণ বেরিয়ে আসছে।
অধ্যক্ষ ও শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে সনদ যাচাই না করে  চট্টগ্রাম মহানগরীর প্রাণকেন্দ্রে একটি হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে একজন অধ্যক্ষ নিয়োগ প্রাপ্তির পর অভিজ্ঞতা ছাড়াই ১০ বছর অধ্যক্ষের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি যখন অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ প্রাপ্ত হন, তখন তিনি ডিপ্লোমা হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের ছাত্রও নন। তিনি কি করে একটি সরকার অনমোদিত হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ হলেন তা এখনো অজানা। শুধু অধ্যক্ষই নন, অভিজ্ঞতা পূর্ণ না হতেই  প্রধান পরীক্ষক বনেযান। সেই সাথে তিনি বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড এর একজন সদস্য ও মনোনীত হন। হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে অধ্যক্ষ হতে গেলে কমপক্ষে দেশের যে কোন বিশ্ববিদ্যালয় হতে ডিগ্রী পাশ সহ ডিএইচএমএস অথবা  বিএইচএমএস পাশ বাধ্যতামূলক। সেই সাথে বাংলাদেশের অনুমোদিত হোমিওপ্যাথিক কলেজ ও হাসপাতালে প্রথমে প্রভাষক পদে চাকুরিতে যোগদান পর কমúক্ষে ১৫ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা, প্রশাসনিক দক্ষতা, বিষয় ভিত্তিক গবেষণা ও প্রকাশনার বিশেষ যোগ্যতা অর্জন করতে হয়। ঐ অধ্যক্ষ সম্পূর্ণ বেআইনী ভাবে কোন অভিজ্ঞতা ছাড়াই অধ্যক্ষের পদে ১০ বছর চাকরির পর ৬০ বছর বয়স পূর্তিতে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেন।
অতঃপর তিনি সম্পূর্ণ বেআইনীভাবে সেই কলেজেরই অধ্যক্ষের সমমর্যাদায় আসিন থাকার মানসে  কাল্পনিক “রেক্টর” পদ আবিষ্কার করে কৌশলে উক্ত আসনে আসীন হয়ে ঐ কলেজের অধ্যক্ষের কক্ষ, চেয়ার ও পদবী ব্যবহার করে যাচ্ছেন। এমনিভাবে ময়মনসিংহ জেলায় অবস্থিত একটি হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যক্ষ, সরকারী বিধিমোতাবেক অধ্যক্ষ পদে আসিন না হওয়ায় তাকেও পদ ছাড়তে হয়। এমনিভাবে অনেক কলেজগুলোতে নানা রকমের অনিয়ম চলছে। যা স্থানীয় প্রশাসনের নজরের বাইরে। অনেক কলেজে অধ্যক্ষের পদে নিয়োজিত যোগ্য ও সৎ অধ্যক্ষকে নানা অযুহাতে অপসারণ করা হয়েছে। এদের মধ্যে অনেকেই ক্ষোভে-শোকে স্ট্রোক করে মারা যাবার খবর সংবাদ পত্রে প্রচারিত হয়েছে। চট্টগ্রামের উল্লিখিত কলেজের একজন উপাধ্যক্ষ দীর্ঘ ৭ বছর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন কালীন উক্ত কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও অন্যান্য শিক্ষকদের সনদ যাচাই কালে জালিয়াতির বিষয়গুলো বেরিয়ে আসলে কৌশলে তাকেও অপসারণ করা হয়েছে। তবে অপসারণের সিদ্ধান্তটি  বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড আজও অনুমোদন করেনি। 
হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের একাডেমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে বয়সের পরিসীমা নেই। অনিয়মিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা শতকরা ৮০ ভাগ। এর মধ্যে ৪০-৭০ বছর বয়সের শিক্ষার্থীরাও রয়েছেন। এদের মধ্যে অনেকেই নানা ধরনের পেশাজীবী ও চাকরি জীবি। শুধুমাত্র গড় হাজিরা দেখিয়ে পরীক্ষার সময় পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়। ফলে  নকলের প্রবণতা ব্যাপকভাবে প্রচলিত রয়েছে। যার কারণে যোগ্য ও আদর্শ ডিপ্লোমাধারী চিকিৎসক তৈরি না হওয়ায় রোগী সেবায় যথেষ্ট ভুল-ভ্রান্তির শিকার হয়ে আর্তমানবতা সুস্থতার পরিবর্তে অসুস্থ হয়ে প্রাণ হারাচ্ছে। যে কারনে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা জগতের ব্যাপক দুর্নাম ছড়িয়ে পড়ছে।
ডিপ্লোমা পাস করার পর হোমিও চিকিৎসকগণ মূল সনদ ও চিকিৎসক রেজিস্ট্রেশন সনদ সংগ্রহের উদাসীনতা ব্যাপকভাবে লক্ষ্য করা যায়। শতকরা ৩ থেকে ৫ জন ডিপ্লোমাধারী চিকিৎসক পেশাগতভাবে চিকিৎসক হিসাবে অংশগ্রহণের নজির রয়েছে। বর্তমানে দেশের অধিকাংশ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের হাসপাতাল বিভাগে যোগ্য ও অভিজ্ঞতার সম্পন্ন ভালোমানের চিকিৎসক না থাকায় এবং ভালোমানের ওষুধ ও ব্যবস্থাপনার অভাবে গুটিকয়েক হাসপাতাল ছাড়া দেশের সবগুলো হাসপাতালের অচল অবস্থা। দিন দিন রোগীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে।
অপরদিকে হোমিও ওষুধের গুণগত মান নিয়ে নানা প্রশ্ন এবং সন্দেহের জাল ছাড়িয়ে আছে সারাদেশে। যে সব প্রতিষ্ঠান হোমিওপ্যাথিক ওষুধ তৈরি করছে তাদের ওষুধের গুণগত মান যাচাইয়ের কোন পদক্ষেপ নেই বল্লেই চলে। বিদেশ থেকে যেসব হোমিও ওষুধ আমদানি করা হয় তা দেশে আসার সাথে সাথেই ডাইলেশন প্রক্রিয়া করে ওষুধের গুণগত মান নষ্ট করা হচ্ছে। ওষুধের মুল্য নির্ধারণ ক্ষেত্রে কোন বাধা নিষেধ করা হয় না। ওষুধ প্রস্তুত এবং আমদানি কারক অনেক প্রতিষ্ঠানই ওষুধের ফার্মাকোপিয়া ওষুধ উৎপাদন প্রক্রিয়া ও বাজার জাত করণ  আইন মেনে চলেন না। ফলে এসবের বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়ছে, ওষুধ ক্রেতা ও রোগী সাধারনের উপর। এর ফলে পরীক্ষিত অত্যাধুনিক ক্লাসিক্যাল হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা দিন দিন কমে যাচ্ছে।
কাজেই বিষয় গুলো সমাধানের পথ সুগম করতে সরকারের সু-দৃষ্টি ও যথোপযুক্ত পদক্ষেপ অতিব জরুরী। কারণ দেশের মানুষের স্বাস্থ্য সেবার মান বৃদ্ধিতে হোমিওপ্যাথি ৫০% ভূমিকা পালন করলে সরকারের স্বাস্থ্য সেবার খাতের ১০% বরাদ্দই যথেষ্ট। আগামীতে দেশের ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক এবং এলোপ্যাথিক চিকিৎসা জগতের পরিস্থিতি নিয়ে কিছু লেখার ইচ্ছা রইলো। [সমাপ্ত]

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ