ঢাকা, বৃহস্পতিবার 01 October 2020, ১৬ আশ্বিন ১৪২৭, ১৩ সফর ১৪৪২ হিজরী
Online Edition

'অপমানিত কিশোরীর ছবি' ফেসবুকে, পরে আত্মহত্যা

কিশোরীটির অপমানের দৃশ্য ফেসবুকে দেয় স্থানীয় এক যুবক

অনলাইন ডেস্ক: সাতক্ষীরায় 'প্রকাশ্যে অপমানিত হবার পর' এক কিশোরীর আত্মহত্যার জের ধরে ইউপি চেয়ারম্যান, চৌকিদার ও ফেসবুক ব্যবহারকারী সহ চার জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

অভিযোগ উঠেছে, গ্রাম্য শালিসের নামে ওই চেয়ারম্যান মেয়েটিকে প্রকাশ্যে মারধর করেছেন, তার আগে চৌকিদার মেয়েটিকে হাত বেঁধে টানতে টানতে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে গেছেন, আর ফেসবুক ব্যবহারকারী মেয়েটির সেই দুর্গতির ছবি তুলে ফেসবুকে প্রকাশ করেছেন।

আর এ ঘটনার পরদিনই আত্মহত্যা করে ষোল বছর বয়েসী দরিদ্র কিশোরীটি।

জানা গেছে কিশোরীটির নাম আফরোজা খাতুন, যিনি শনিবার গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন । আজ বিকেলেই ময়না তদন্ত শেষে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নে গ্রামের বাড়িতে তার মৃতদেহটি পাঠিয়ে দিয়েছে পুলিশ।

আফরোজার পিতা নেই, অত্যন্ত দরিদ্র তার পরিবার, সেখানে তার মা ও এক ভাই আছে। দুজনকেই কাজ করতে হয় সংসার চালানোর জন্য।

শনিবার তার আত্মহত্যার পর আফরোজার ভাই থানায় একটি মামলা করেন, যেখানে তিনি তার বোনের হত্যার প্ররোচনার জন্য একজন দোকানদার, স্থানীয় চেয়ারম্যান, চৌকিদার ও একজন ফেসবুক ব্যবহারকারীকে দায়ী করেন।

কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমদাদুল হক বলছিলেন, শুক্রবার দুপুরে আফরোজা মোবাইল ফোনে রিচার্জ করবার জন্য, হাসান নামে এক ব্যক্তির দোকানে যায়। হাসানের দোকান সংলগ্ন একটি ঘরে আগে থেকেই বসে ছিল পলাশ নামের আরেক যুবক, যার সাথে আর্থিক লেনদেনজনিত গোলমাল ছিল হাসানের।

হাসান এক পর্যায়ে আফরোজাকে সেই ঘরে ঢুকিয়ে তালা লাগিয়ে দেয়। তারপর এলাকাবাসীকে গিয়ে খবর দেয়, পলাশ আফরোজার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে লিপ্ত।সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনা সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলামের কানে যায়। তিনি পলাশ ও আফরোজাকে ধরে নিয়ে আসার নির্দেশ দিলে চৌকিদার ওই দোকান থেকে দুজনকে বেঁধে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে নিয়ে আসেন।

আনার পথে অনেক মানুষ জড়ো হয়। এদের মধ্যে জয়দেব কুমার দাস নামে একজন এই দুজনের হাত বেঁধে টেনে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্যের ছবি তোলেন এবং ফেসবুকে প্রকাশ করেন।

ওদিকে ইউপি চেয়ারম্যান, দুজনকে মারধর করেন, পলাশকে জরিমানা করেন এবং তাকে ছেড়ে দেন। এই ঘটনার পর থেকেই আফরোজা মুষড়ে পড়ে বলে জানান তার মা আনোয়ারা খাতুন।

চেয়ারম্যানের ওই শালিসে উপস্থিত ছিলেন এমন দুএকজনের সাথে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলেও তারা এ নিয়ে কোন বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান।

স্থানীয় সাংবাদিকরা বলছেন, ঘটনাটির সাথে স্থানীয় চেয়ারম্যানের নাম জড়িয়ে থাকায় কেউ কোন কথাবার্তা বলতে চাইছে না।

কলারোয়ার সাংবাদিক পলাশ চৌধুরী জানাচ্ছেন, প্রতি শুক্রবার ও শনিবার সোনাবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদে বিভিন্ন অভিযোগের শালিস মিমাংসা করেন চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম।

এসব শালিসের কার্যপ্রনালী নথিভূক্ত করবার নিয়ম থাকলেও আফরোজা খাতুনের ওই শালিসটির ক্ষেত্রে তা হয় নি।-বিবিসি বাংলা

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ