বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

বেঙ্গল শাস্ত্রীয় সঙ্গীত উৎসবে বিএটিবি’র তামাক প্রচারণা!

স্টাফ রিপোর্টার : ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ (বিএটিবি) বিদ্যমান আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এবছরও বেঙ্গল শাস্ত্রীয় সঙ্গীত উৎসবস্থলে তাদের পণ্যের প্রচারণা চালাচ্ছে। কোম্পানীটি উৎসবস্থলে সিগারেট বিক্রয় কেন্দ্রসহ ধূমপান এলাকা স্থাপন করে এই আয়োজনে তাদের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা প্রমাণ করেছে মন্তব্য করে তামাকবিরোধী সংগঠনগুলো এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।
তামাক বিরোধী সংগঠন ‘প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান)’ সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেছে, অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশের সময় ধূমপানের সকল উপকরণ বহন নিষিদ্ধ করা হলেও গেট পেরিয়ে ভিতরে প্রবেশ করলেই বিএটিবি’র সুসজ্জিত সিগারেট বিক্রয়স্থল সকল শ্রোতা-অতিথির দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন দ্বারা বাংলাদেশে যেকোন উপায়ে তামাক পণ্যের বিজ্ঞাপন এবং প্রচার-প্রচারণা নিষিদ্ধ থাকায় সুচতুরভাবে নিজেদের প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রেখেছে এই বহুজাতিক তামাক কোম্পানিটি। অতিসত্বর বিএটিবি’র এই আইনবিরোধী কর্মকাণ্ড বন্ধে আইন বাস্তবায়নকারী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তা না হলে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জন সম্ভব হবে না।
উল্লেখ্য, বহুজাতিক তামাক কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো (বিএটি) বিশ্বের ১৫০টির বেশি দেশে তাদের মৃত্যুবিপণন পরিচালনা করছে। বিএটি দক্ষিণ এশিয়ার তামাক ব্যবসায় সবচেয়ে বেশি আধিপত্য বিস্তার করে আছে। তামাক ব্যবসা বাড়াতে তারা নানা ধরনের অবৈধ পন্থা ও কূটকৌশল অবলম্বন করে। একইসাথে তামাক নিয়ন্ত্রণমূলক যেকোন পদক্ষেপ ঠেকাতে সদা মরিয়া থাকে কোম্পানিটি।
বাংলাদেশে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী তামাক পণ্যের বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা নিষিদ্ধ হলেও তামাক কোম্পানির কৌশলী বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা বন্ধ হয়নি। ভারতের বৃহত্তম তামাক কোম্পানি আইটিসি লিমিটেড (ভূতপূর্ব ইন্ডিয়া টোব্যাকো কোম্পানি লিমিটেড) ২০১২ সালের নবেম্বর মাসে ঢাকায় “ বেঙ্গল আইটিসি-এসআরএ ক্ল্যাসিক মিউজিক ফেস্ট-২০১২” নামে একটি যৌথ সঙ্গীত অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। আইটিসি সঙ্গীত রিসার্চ একাডেমি (আইটিসি-এসআরএ) এই ইন্ডিয়া টোব্যাকো কোম্পানি লিমিটেড (আইটিসি) এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান। তামাক কোম্পানির সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত এই সংগীত একাডেমি সারাবিশ্বে ভারতীয় সঙ্গীতের ঐতিহ্য তুলে ধরতে কাজ করে। উল্লেখ্য, বহুজাতিক তামাক কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো (বিএটি) এই ভারতীয় তামাক কোম্পানির ৩০ শতাংশ শেয়ারের মালিক।
এই শাস্ত্রীয় সঙ্গীত অনুষ্ঠানটি দেশ-বিদেশের অসংখ্য সঙ্গীতপ্রিয় মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা লাভ করায় অংশগ্রহণকারী শ্রোতার সংখ্যা প্রতিবছর বেড়েই চলেছে। প্রভাবশালী মন্ত্রী, গুরত্বপূর্ণ আমলা, সংসদ সদস্য ও রাজনীতিক এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন আয়োজক প্রতিষ্ঠানের আমন্ত্রণে। ভারতের শাস্ত্রীয় সঙ্গীত জগতের বিখ্যাত শিল্পীরা নিয়মিত অংশগ্রহণ করায় বেঙ্গল ফাউন্ডেশন আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। এই সঙ্গীত শিল্পীদের অধিকাংশই আইটিসি-এসআরএ অধীনে স্থায়ী কিংবা অস্থায়ীভাবে চুক্তিবদ্ধ হয়ে কাজ করে।
বেঙ্গল ফাউন্ডেশন এই সঙ্গীতানুষ্ঠানটি আইটিসি সঙ্গীত গবেষণা একাডেমির প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় (৫,৬) প্রতিবছর নিয়মিত আয়োজন করলেও ২০১৩ সালেই তারা অনুষ্ঠানের শিরোনাম থেকে ‘আইটিসি-এসআরএ’ অংশটুকু বাদ দিয়ে দেয়। ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন, ২০১৩’এর লংঘন এড়াতেই তারা এই পন্থা অবলম্বন করে থাকতে পারে। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের ৫(গ) ধারা অনুসারে, কোনো তামাক কোম্পানি এই ধরনের অনুষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতা করতে পারে না।
 বিএটি’র এদেশীয় প্রতিষ্ঠান ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ (বিএটিবি) ২০১৫ সালে উৎসবস্থলে একটি সিগারেট বিক্রয় কেন্দ্রসহ ধূমপান এলাকা স্থাপন করে যা পুরো আয়োজনে তাদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করে। অথচ এই অনুষ্ঠান কেন্দ্রস্থল বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়াম একটি পাবলিক প্লেস এবং আইন অনুযায়ী ধূমপানমুক্ত এলাকা।
বেঙ্গল ফাউন্ডেশন প্রতি বছরের মত এবারেও ২৪ থেকে ২৮ নবেম্বর এই অনুষ্ঠান আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ বিএটিবি’র প্রচ্ছন্ন ও প্রত্যক্ষ উপস্থিতি অব্যাহত থাকবে বলে তামাক বিরোধী সংগঠনসমূহ পূর্বেই আশংকা প্রকাশ করেছিল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ