শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

দীর্ঘদিন টিকতে ট্রাম্পকে দায়িত্ববান হওয়ার পরামর্শ ওবামার

১৮ নবেম্বর, দ্য গার্ডিয়ান/আল জাজিরা : ওবামা ও ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প কেমন হবেন তা নিয়ে ‘সতর্ক আশাবাদ’ জানালেন বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তার মতে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দীর্ঘদিন টিকে থাকতে হলে ট্রাম্পকে দায়িত্ববান হতে হবে। আর এ দায়িত্ব বা ভূমিকাই তাকে ‘যোগ্য’ প্রেসিডেন্ট প্রমাণ করতে পারে।
গত বৃহস্পতিবার বার্লিনে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন ওবামা।
ট্রাম্পের ব্যাপারে বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমার উত্তরসূরিকে নিয়ে যে বিষয়টি আমাকে সতর্ক আশাবাদী করে তোলে তাহলে নির্বাচনি প্রচারণা থেকে সরকার পরিচালনার দায়িত্বে ভিন্নতা। সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। কিছু বিশেষ দাবি-দাওয়া থাকে যেগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের নয়, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের। সেগুলোর দিকেও নজর দিতে হয়। এক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টকে দায়িত্ববান হতে হয়। আপনি যদি দায়িত্ববান না হন তবে সেখানে দীর্ঘদিন টিকে থাকা যায় না, বিভিন্ন সমস্যা তৈরি হয়।’
 দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্যও পরামর্শ দিয়েছেন ওবামা। তার মতে, যারা ভোট দেননি তাদেরও আস্থা অর্জন করতে হবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে।
বারাক ওবামা রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কোন্নয়নের ক্ষেত্রে নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করলেন বিদায়ী প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের ক্ষেত্রে ‘বাস্তববাদী রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি’ না দেখানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। সেইসঙ্গে মার্কিন মূল্যবোধের সুরক্ষায় বদ্ধপরিকর থাকার জন্যও আহ্বান জানিয়েছেন ওবামা। জার্মানিতে দেশটির চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন ওবামা।
ওবামা বলেন, তিনি আশা করছেন ট্রাম্প রাশিয়ার সঙ্গে একটি গঠনমূলক সম্পর্ক চাইবেন, যেখানে স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে মূল্যবোধকে উপেক্ষা করা হবে না।
তিনি বলেন, ‘আমি রাশিয়ার সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক চেয়েছি কিন্তু আমিও বাস্তবিকভাবে মেনে নিয়েছিলাম যে বিশ্বের এমন কিছু ক্ষেত্র রয়েছে যেখানে রাশিয়ার দৃষ্টিভঙ্গি ও আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবধান রয়েছে।’
ট্রাম্প গঠনমূলক নীতিমালা গ্রহণ করবেন এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও আইনের শাসনের সুরক্ষা নিশ্চিত করবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন ওবামা। যুক্তরাষ্ট্রের ‘মূল্যবোধ’ ও ‘আন্তর্জাতিক নিয়মের’ বাইরে গেলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে শক্তভাবে দাঁড়াতেও উত্তরসূরির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ওবামা।
যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার দীর্ঘদিনের তিক্ততা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চরম আকার ধারণ করে। কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে পাল্টাপাল্টি অবস্থান নিয়েছে ওবামার যুক্তরাষ্ট্র আর পুতিনের রাশিয়া। যার সর্বশেষ প্রকাশ ঘটেছে সিরিয়ায়।
সিরিয়ায় ২০১১ সালে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধে আড়াই লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১০ লাখের বেশি মানুষ। সিরিয়ার চলমান সংকট নিয়ে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বিপরীত ধর্মী। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণাকারী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করছে এবং ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে আসাদ সরকারের দাবি, আইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নামে যুক্তরাষ্ট্র মূলত বিদ্রোহীদের সহযোগিতা করতে সরকারি বাহিনীর ওপর হামলা চালাচ্ছে। আর রাশিয়া বাশার আল আসাদকে ক্ষমতায় দেখতে চায়। আসাদ সরকারের সমর্থনে রাশিয়াও আইএস ও বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালাচ্ছে। সিরিয়া সংকটকে কেন্দ্র করে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র প্রক্সি যুদ্ধে মেতে ওঠেছে বলে অনেকেই মনে করেন। তবে মার্কিন নির্বাচনে ট্রাম্পের জয়ের পর ওয়াশিংটন-মস্কো সম্পর্ক উন্নয়নের আভাস মিলছে।
৮ নভেম্বরের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয় নিশ্চিত হওয়ার পর পরই টেলিগ্রাম করে ট্রাম্পকে অভিনন্দিত করেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার সম্পর্ক উন্নত করার লক্ষ্যে একযোগে কাজ করার আশা ব্যক্ত করেছিলেন পুতিন। সদ্য অনুষ্ঠিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী ডোনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্র নীতিজনিত দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পররাষ্ট্র নীতির মিল রয়েছে বলে মনে করে রাশিয়া। আর সেকারণে ধীরে ধীরে যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া সম্পর্কন্নোয়নের আশা করছে দেশটি। সম্প্রতি নিউইয়র্কে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এসব কথা জানান। পেসকভ বলেন, তিনি ট্রাম্প ও পুতিনের পররাষ্ট্র নীতির মধ্যে অবিশ্বাস্যরকমের মিল দেখতে পেয়েছেন। মস্কো ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি অর্থপূর্ণ আলোচনা শুরুর ক্ষেত্রে এটি ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করেন তিনি।
এর আগেও ট্রাম্প নির্বাচনি প্রচারণায় পুতিনের প্রশংসা করতেন। বলতেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার চেয়ে অনেকগুণ এগিয়ে পুতিন। ওই সময় পুতিনও ট্রাম্পকে মেধাবী মানুষ হিসেবে অভিহিত করেন।
ট্রাম্প সিরিয়া ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির সমালোচনা করে আসছেন নির্বাচনী প্রচারণার সময় থেকে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পরও ট্রাম্প সিরিয়া ইস্যুতে মস্কোর নীতিকে সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘সিরিয়া নিয়ে অনেকের সঙ্গে আমার ভিন্ন মত রয়েছে। আমার কথা হচ্ছে, তোমরা সিরিয়ার সঙ্গে লড়াই করছ, সিরিয়া আইএসের বিরুদ্ধে লড়ছে এবং তোমাদের আইএস থেকে মুক্তি পেতে হবে।’
সম্প্রতি সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদও ট্রাম্পের মিত্রতা প্রত্যাশা করছেন। এক সাক্ষাৎকারে আসাদ বলেছেন, ট্রাম্পের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ অভিযান চালিয়ে গেলে তিনি সিরিয়ার ‘স্বাভাবিক মিত্রে’ পরিণত হতে পারেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ