রবিবার ১২ জুলাই ২০২০
Online Edition

আবারো খুলনাকে শেষ ওভারে জয় এনে দিল রিয়াদ ­

খুলনা টাইটান্স : ১২৭/৭ (২০ ওভার )
চিটাগাং ভাইকিংস : ১২৩/৯, (২০ ওভার)
ফল : খুলনা টাইটান্স ৪ রানে জয়ী।
স্পোর্টস রিপোর্টার : আবারো শেষ ওভারে খুলনাকে জয় এনে দিলেন অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। রিয়াদের বোলিং ক্যারিশমায় চিটাগাং ভাইকিংসের বিপক্ষে ৪ রানে অবিস্মরণীয় এক জয় পেল খুলনা টাইটানস। গতকাল শেষ ওভারে বল হাতে চিটাগাংয়ের তিন উইকেট নিয়েই অধিনায়ক রিয়াদ খুলনার জয় নিশ্চিত করে। তিন ম্যাচে খুলনার এটা দ্বিতীয় জয়। আর জয়ের খুব কাছে এসেও জয় থেকে বঞ্চিত হল তামিমের চিটাগাং ভাইকিংস। চিটাগাংয়ের তিন ম্যাচে এটা টানা দ্বিতীয় পরাজয়। নিজেদের প্রথম ম্যাচেই খুলনাকে এমন একটা জয় এনে দিয়েছিলেন রিয়াদ। রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে শেষ ওভারে তিন উইকেট নিয়েই খুলনাকে প্রথম ম্যাচে তিন রানে জয় এনে দিয়েছিলেন তিনি। গতকাল নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে আবারো সেই রিয়াদই শেষ ওভারে তিন উইকেট নিয়ে খুলনাকে জয় এনে দিলেন। আর দলকে জয়ী করা ম্যাচে রিয়াদরই হন ম্যান অব দ্য ম্যাচ। গতকাল টস জিতে চিটাগাং ভাইকিংসের অধিনায়ক আগে ব্যাট করার সুযোগ দেয় খুলনা টাইটানসকে। আগে ব্যাট করে খুলনা টাইটাসন ৭ উইকেটে করে ১২৭ রান। জয়ের জন্য চিটাগাং ভাইকিংসের সামনে টার্গেট ছিল ১২৮ রান। ব্যাট করতে নেমে চিটাগাং ৯ উইকেটে ১২৩ রান করলে খুলনা টাইটানস জয় পায় ৪ রানে।
জয়ের জন্য ১২৮ রানের সহজ টার্গেটই পেয়েছিল তামিমের ভাইকিংস। তবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো করতে পারেনি দলটি। কারণ ৩৩ রানের মধ্যে চিটাগাং ৪ উইকেট হারিয়ে প্রথমেই বিপদে পড়ে। দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ডোয়াইন স্মিথ উভয়কেই ৩ রানে ফিরিয়ে দেন খুলনার ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলোয়াড় কেভন কুপার। আর শোয়েব মালিককে ৪ রানে ও জাকির হোসেনকে ৮ রানে থামিয়ে দেন পেসার শফিউল ইসলাম। ফলে শুরুতে বোলিং আক্রমণে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় খুলনা। তারপরও ম্যাচে ফেরার চেষ্টায় লড়াই শুরু করেন এনামুল হক ও জহিরুল ইসলাম। কিন্ত তারা কেউ বড় স্কোর গড়তে পারেনি। এনামুলকে ১৪ ও জহিরুলকে ২৫ রানে ফিরিয়ে দেন শফিউলই। ফলে ৭৮ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে অনেকটাই ব্যাকফুটে যায় চিটাগাং ভাইকিংস। কারণ তখন ২৯ বলে জয়ের জন্য দরকার ছিল ৫০ রান। তবে সপ্তম উইকেটে চাতুরঙ্গা ডি সিলভাকে নিয়ে আফগানিস্তানের মোহাম্মদ নবী দলকে জয়ের স্বপ্ন দেখান। ২৫ বলে ৪৫ রানের জুটি গড়ে জয়ের খুব কাছেই দলকে নিয়ে যান তারা। ফলে শেষ ওভারে জয়ের জন্য দরকার ছিল মাত্র ৬ রান। দলের এই কঠিন সময়ে শেষ ওভারে আবারো বল হাতে আক্রমণে আসেন খুলনার অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ।এবারও আগের ম্যাচের মতোই ম্যাজিক দেখালেন তিনি শেষ ওভারের দ্বিতীয়, চতুর্থ ও শেষ বলে তিন উইকেট নিয়ে আবারো খুলনাকে অসাধারন এক জয় এনে দেন এই অধিনায়ক। বাকী ৩ বল থেকে মাত্র ১ রান নিয়ে ৯ উইকেটে ১২৩ রানেই থামে চিটাগাং-এর ইনিংস। ফলে ৪ রানের জয় পায় খূলনা।
শেষ বলে আউট হবার আগে চিটাগাং-এর পক্ষে সর্বোচ্চ ২৩ বলে ৩৯ রান করেন মোহাম্মদ নবী। খুলনার পক্ষে শফিউল ৪টি ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ৩টি উইকেট নেন। এর আগে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালোই করে খুলনা। উদ্বোধণী জুটিতে ৩৪ রান পায় দলটি। এরপরই খুলনার ব্যাটসম্যানরা যাওয়া-আসার মিছিল শুরু হয়। ৩৪ থেকে ৫২ রানে পৌছাতে ৪ উইকেট হারায় তারা। ইংল্যান্ডের রিকি ওয়েসেলস ২৮, হাসানুজ্জামান ৮, শুভাগত হোম ৩ ও অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ৬ রান করে ফিরেন।
এরপর মিডল-অর্ডারদের কল্যাণে সম্মানজনক স্কোরে পৌছায় খুলনা। অলক কাপালির ২৩, উইকেটরক্ষক ওয়েস্ট ইন্ডিজের নিকোলাস পোরানের ২৯ ও আরিফুল হকের অপরাজিত ২৫ রানে ৭ উইকেটে ১২৭ রান করে খুলনা। এ্র আগের ম্যাচে খুলনা মাত্র ৪৪ রানেই অল আউট হয়েছিল। ফলে এই ম্যাচে খুলনার করা ১২৭ রানটা দলটির কাছে বড় স্কোরই ছিল। চিটাগাং-এর আফগানিস্তানের খেলোয়াড় মোহাম্মদ নবী ৩টি ও তাসকিন আহমেদ ২টি উইকেট নেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ