শনিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়া

নাজমুল ইসলাম জুয়েল : বাংলাদেশের ক্রিকেট এখন সাফল্যের মহাসড়কে অবস্থান করছে। সর্বশেষ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট জয় অনন্য এক উচ্চতায় উঠিয়ে দিয়েছে টাইগারদের। অনেক অর্জনের সাক্ষী হয়ে আছে এবারের সিরিজটি। সে কারণেই ইংল্যান্ডকে হারিয়ে মহা আনন্দে মেতে আছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটভক্তরা। টাইগাররা এখন বীরের মর্যাদা পাচ্ছেন ক্রিকেটবিশ্বে। এতদিনকার অনিশ্চয়তার কালো মেঘ বুঝি চিরতরে বিদায় নিলো বাংলাদেশের আকাশ থেকে! ইংল্যান্ডকে হারালেও টেস্ট র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের স্থান এখনো তেমন মজবুত নয়। ১৬ বছর পেরিয়ে গেলেও জয়ের সংখ্যাও খুব একটা বেশি নয়। তবে বিশ্ব ক্রিকেটের পরাশক্তি হিসেবে বিবেচিত দলগুলোর কথা বিবেচনায় নিলে বাংলাদেশ অন্য অনেকের চেয়েই এগিয়ে আছে ঢের। প্রথম আট টেস্ট জয় করতে বাংলাদেশ ১৬ বছর সময় নিলেও ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দলগুলো নিয়েছে আরও বেশি সময়। বাংলাদেশ ৯৫তম টেস্ট খেলতে নেমে ১৬ বছরের ব্যবধানে তুলে নিল অষ্টম জয়। প্রথম আটটি টেস্ট জয় করতে বাংলাদেশের চেয়েও ঢের বেশি সময় নিয়েছে ক্রিকেট পরাশক্তি দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ভারত ও নিউজিল্যান্ড। সবচেয়ে কম সময়ে প্রথম আট টেস্ট জয় করেছে পাকিস্তান। এমনকি অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের চেয়েও কম সময় নিয়েছে তারা! ১৯৫২ সালে টেস্ট খেলা শুরু করে ১৯৫৯ সালের মধ্যেই আটটি টেস্ট জয় করে পাকিস্তান। প্রথম আটটি করে টেস্ট জিততে আট বছর করে সময় নেয় অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড। অবশ্য সে সময় কেবল এ দু’টি দেশই টেস্ট খেলত। ১৮৭৭ থেকে ১৮৮৫ সালের মধ্যে দুই দলই আটটি করে টেস্ট জিতে নেয়। প্রথম আটটি টেস্ট জিততে এক যুগ সময় নেয় জিম্বাবুয়ে। ১৯৯২ সালে টেস্ট খেলতে শুরু করে ২০০৪ সালের মধ্যেই তারা প্রথম আটটি টেস্ট জয় করে। অবশ্য এর পর থেকে গত এক যুগে মাত্র তিনটি টেস্ট জিতেছে তারা! প্রথম আট টেস্ট জয়ের দিক থেকে বাংলাদেশের চেয়ে কম সময় নিয়েছে শ্রীলঙ্কাও। তারা ১৪ বছরে এ মাইলফলক স্পর্শ করে। ১৯৮২ থেকে ১৯৯৬ সালের মধ্যে প্রথম আটটি টেস্ট জয় করে লঙ্কানরা। প্রথম আট টেস্ট জিততে সবচেয়ে বেশি সময় নিয়েছে নিউজিল্যান্ড। ১৯৩০ সালে টেস্ট খেলতে শুরু করে দীর্ঘ ৪৪ বছরে এ মাইলফলক স্পর্শ করে কিউইরা। ভারতের ৩০ বছর প্রয়োজন হয় প্রথম আটটি টেস্ট জয় করতে। ১৯৩০ সালে খেলতে শুরু করে ১৯৬২ সালে এ মাইলফলক স্পর্শ করে ভারতীয়রা। অবশ্য এ সময়ের মধ্যে বিশ্বযুদ্ধ লেগে যাওয়ায় ভারত ম্যাচও খেলেছে অনেক কম। আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম দল হিসেবে পরিচিত ওয়েস্ট ইন্ডিজেরও প্রথম আট টেস্ট জিততে প্রয়োজন পড়ে দীর্ঘ ২২ বছর! ১৯২৮ সালে টেস্ট খেলতে শুরু করে ১৯৫০ সালে এ মাইলফলক স্পর্শ করে ক্যারিবীয়রা। দক্ষিণ আফ্রিকা ১৮৮৯ সালে টেস্ট খেলতে শুরু করে। দীর্ঘ ২২ বছর সময় নিয়ে ১৯১১ সালে তারা অষ্টম টেস্ট জয় করে। টেস্ট ক্রিকেটের দীর্ঘ পথচলায় অনেককেই পিছু ফেলে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। টাইগাররা এ যাত্রাপথে টেস্ট ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের মতোই বধ করবে অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দলগুলোকেও। এভাবেই কোনো একদিন ওয়ানডেতে বিশ্বকাপ জয় করবে বাংলাদেশ এ স্বপ্নই দেখেন এখন ভক্তরা। সে কারণে বাংলাদেশের টেষ্ট ক্রিকেটে এগিয়ে যাওয়ার প্রমাণই বহন করছে।
দলীয় পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ব্যক্তিগত অর্জনেও অনেককিছুই পেয়েছে এবার। এবারের সিরিজে আলাদা করে বলতে হবে একজনের নাম, তিনি মেহেদী হাসান মিরাজ। জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন প্রথমবারের মতো। একেবারে অপ্রত্যাশিত হয়তো নয়, তবু মিরাজের ভুবনে রংধনুর সাত রঙের ছোপ লাগে হঠাৎ। বাংলাদেশ দলে খেলার সম্ভাবনা কী আর চাট্টিখানি ব্যাপার! এ জন্যই তো আশৈশবের সাধনা! আকৈশোরের তপস্যা! খুলনা থেকে মিরাজ ঢাকা যাবেন জাতীয় দলের অনুশীলনে যোগ দিতে। ক্রিকেটের স্বরলিপি তৈরি যে কোচের কাছে, সেই মোহাম্মদ আল মাহমুদের কাছে যান বিদায় নিতে। শিষ্যের গর্বে তার বুকের ছাতি ফুলে উঠেছে। উঁচু মাথা যেন ছাদ ফুঁড়ে আকাশ ছুঁয়েছে। কাশীপুর ক্রিকেট একাডেমির সেই কোচ আশীর্বাদ করেন মিরাজকে। সঙ্গে তাঁকে তাতিয়ে দেয়ার জন্যই হয়তো বলেন, ‘বাংলাদেশ দলের হয়ে প্রথম খেলবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। হার ছাড়া আর কী হবে!’ মিরাজের উত্তর? ‘আপনি শুধু আমার জন্য দোয়া করেন। আমরা হারব না। ইংল্যান্ডকে বাংলাদেশ হারাবে, আমিই ওদের হারাব’ প্রতিশ্রুতি দিয়ে যান তিনি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের সপ্তাহ দু’য়েক আগের সেই স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে ভারী হয়ে আসে আল মাহমুদের কণ্ঠ। তাঁর শিষ্য যে কথা রেখেছেন! না হয় প্রথম টেস্টে পারেননি, তবে দ্বিতীয় ম্যাচেই তো মিরাজের বীরত্বে জয় পায় বাংলাদেশ! এ অফস্পিনারের ১২ উইকেটে ইংল্যান্ডের আভিজাত্য-কৌলিন্যে বড় এক দাগ কেটে দিতে পারে লাল-সবুজের পতাকাধারীরা। আর ‘অর্জুন’ মিরাজের এমন সাফল্যে ‘দ্রোনাচার্য’ আল মাহমুদের আবেগের একতারা বেজে উঠবে না কেন! মিরাজে মাতোয়ারা এখন গোটা দেশ। কিন্তু তাঁর প্রতিভার প্রথম চোখে পড়ে মানচিত্রের এক কোণে পড়ে থাকা খুলনার কাশীপুর ক্রিকেট একাডেমির কোচ আল মাহমুদের। সেই কোচকে খুব করে গ্যালারিতে চান নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচের সময়। কিন্তু নানা কারণে প্রথম টেস্টের সময় চট্টগ্রাম যাওয়া হয়নি। মিরাজের পীড়াপীড়ি থামে না তবু। দ্বিতীয় টেস্টের আগে তাই ঢাকা চলে আসেন কোচ। ওঠেন মিরপুরে বন্ধুর বাসায়। ম্যাচের আগে সেখানে গিয়ে আশীর্বাদ নিয়ে আসেন মিরাজ। কোচকে দেন শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডের টিকিট। ঢাকা টেস্টে যখন তাঁর স্পিন বিষে নীল হয়ে ছটফট করে ইংল্যান্ড, তখনো শিষ্যের সঙ্গে চোখে চোখে কথা হওয়ার ব্যাপারটি জানান আল মাহমুদ, ‘মিরাজ একেকটি উইকেট নিচ্ছিল আর আমার কী যে আনন্দ হচ্ছিল! ৪ উইকেট হয়ে গেল। এরপর ওকে ইশারা করে দেখালাম, আরো অন্তত ১ উইকেট চাই। নিয়ে নিল আরো ১ উইকেট। আর মিরাজ শেষ উইকেট নেয়ার পর যখন বাংলাদেশ জিতে যায়, খুশিতে কী যে করব বুঝতে পারছিলাম না।’ কে জানে, তাঁর চোখের চিকচিকে আনন্দাশ্রুতে হয়তো তখন ছায়া পড়ে সেদিনের! যেদিন আট বছরের ছোট্ট ছেলেটি এমনই টলমলে চোখে এসে দাঁড়ায় সামনে! ক্রিকেট অন্তঃপ্রাণ এই কোচ তাঁর একাডেমি নিয়ে পড়ে থাকেন সারাক্ষণ। সেখানে ভীরু পায়ে দুরু দুরু বুক নিয়ে বছর আটেকের একটি ছেলে আসে একদিন। তা এমন তো কতজনই আসে! কিন্তু ওই বালকের কথা চমকে দেয় আল মাহমুদকে, ‘আমার খুব ইচ্ছে ক্রিকেটার হওয়ার। কিন্তু বাবা তা হতে দিতে চান না। আপনি যদি আমাকে একাডেমিতে অনুশীলনের সুযোগ করে দেন, তাহলে একদিন আমি বড় ক্রিকেটার হব।’ ছেলেটির ব্যাট নাড়াচাড়া দেখেন; একটু-আধটু বোলিং। আর ওই টলমলে চোখে সবচেয়ে বেশি করে দেখেন প্রতিজ্ঞা। মিরাজের প্রতিভা চিনতে ভুল হয় না কোচের। নিয়ে নেন একাডেমিতে। নিজেই কিনে দেন ব্যাট-প্যাড-জার্সি। আল মাহমুদের সেদিনের সেই আস্থার ফসল এখন কিভাবেই না ঘরে তুলতে শুরু করেছে বাংলাদেশ! কিন্তু বিনা মূল্যে একাডেমিতে ভর্তি করিয়েও কি রক্ষে আছে! গাড়িচালক বাবা এসে প্রায়ই যে পিটুনি দিয়ে নিয়ে যান মিরাজকে! কোচের মনের স্মৃতিচিত্রে এখনো ভেসে বেড়ায় তা, ‘ওর বাবা কিছুতেই চাইত না, ছেলেটি ক্রিকেট খেলুক। যে কারণে মারধর করে একাডেমি থেকে নিয়ে যেত। এক রকম লুকিয়ে লুকিয়েই মিরাজকে অনুশীলন করাতাম।’ লুকানো সেই যক্ষের ধনের আলোতেই তো এখন ছাই হয়ে গেল ইংল্যান্ড! রূপসাপারের ছেলেটি কালক্রমে চলে আসে বুড়িগঙ্গাতীরে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বয়সভিত্তিক দলে ঢুকে যায় অনায়াসে। সেখানে নজর কাড়তে সময় নেয়নি। ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং মিলিয়ে আগামীর এক সব্যসাচীর ছবি যে দেখা যায় মিরাজের ভেতর! আরেকটি কারণেও ওই বয়সে নিজেকে আলাদা করে নেয় ছেলেটি। বিসিবি’র ন্যাশনাল গেম ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার নাজমুল আবেদীন ফাহিম তা মনে করতে পারেন, ‘আমি ওকে পাই একটু পরে, অনূর্ধ্ব-১৭ পেরিয়ে যাওয়া শেষে। আমাদের সব কোচ খেয়াল করেন, মিরাজের শরীরের তুলনায় হাতের মুঠো বড়; আঙ্গুলগুলো অনেক বড় বড়। বল খুব জোরে ধরতে পারে। চাপ দিয়ে পারে বল রোটেট করতে। এটি মিরাজকে অন্যদের তুলনায় ওই বয়সেই এগিয়ে দিয়েছে।’ এগিয়ে দেওয়ার আরেক গুণের কথাও বলেন তিনি, ‘ও নিজের উন্নতি করতে চায় সব সময়। আর তা সদ্ভাবে। ওই বয়সের সব ছেলেই তো জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন দেখে। কিন্তু সে জন্য যে অধ্যবসায়, পরিশ্রম, সাধনা করতে হয় তা করতে হয়তো রাজি না। মিরাজ ছেলেটি শতভাগ দিয়ে ওই চেষ্টাগুলো করে।’ ওসব চেষ্টার সুফলে মিরাজ এখন বাংলাদেশ ক্রিকেটের নতুন বিস্ফোরণ। বয়সভিত্তিক দলগুলোয় অধিনায়কত্ব করা ছেলেটির অন্য গুণের কথাও মনে করতে পারেন ফাহিম, ‘ছোট থেকেই দেখেছি, ওর দায়িত্ববোধ খুব বেশি। সবার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক। সবার খোঁজখবর নেয়। খুব সচ্ছল পরিবার থেকে আসেনি মিরাজ। তার পরও নিজের ভাগ থেকে অন্যকে দিতে ওকে দ্বিধা করতে দেখিনি। এ ছাড়া পরিবার নিয়ে ও খুব ভাবে। বাবার জন্য কিছু করতে চেষ্টা করে। বিদেশ সফরে গিয়ে টাকা জমিয়ে ছোট বোনের জন্য উপহার কিনে আনে। একেবারে মাটির ছেলে।’ মাটির ছেলে মিরাজই এখন বাংলাদেশ ক্রিকেটের সোনার ছেলে। যার হাত ধরে আগামীতে অগণিত সোনালী সাফল্যের স্বপ্ন দেখছে এখন এই ক্রিকেট-মানচিত্র!
দেশ বাংলাদেশ ভালো খেলে এমন অভিযোগ যদিও বেশ পুরনো। তবে সর্বশেষ ওয়ানডে বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে তার জবাবও দিয়েছে মাশরাফি বিন মর্তুজা বাহিনী। অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনটি মোটেও পরিচিত ছিলনা বাংলাদেশের জন্য। দেশের বাইরে বিচ্ছিন্ন সাফল্য আছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের। পাকিস্তানের বিপক্ষে নর্দাম্পটনে জয়, অস্ট্রেলিয়াকে কার্ডিফে হারানো, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রিস্টলে জয়, শ্রীলংকার মাটিতে পাল্লেকেলেতে ওয়ানডে জয়, ত্রিনিদাদে ভারত এবং গায়ানায় দক্ষিক আফ্রিকাকে হারানোর মতো অতীত আছে বাংলাদেশের। এইসব বিচ্ছিন্ন সাফল্যকে ছাড়িয়ে বিদেশের মাটিতে নুতন বাংলাদেশের আবির্ভাব দেখেছে বিশ্ব। সম্পূর্ণ ভিন্ন কন্ডিশন এবং অনভ্যস্ত উইকেটে নিজেদের মেলে ধরে অন্য এক বাংলাদেশ দল হাজির হতে পেরেছে ২০১৫ বিশ্বকাপে। অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ওই বিশ্বকাপ থেকেই বিদেশের মাটিতে খেলার ভীতি কেটে গেছে বলে মনে করছেন বিশ্বসেরা অল রাউন্ডার সাকিব আল হাসান। সাকিব যেন সে কথাই বলেছেন, ‘আগে বিদেশ সফরে গেলে আমরা ভয়ে থাকতাম। কেমন করি, চিন্তা থাকতো। বিশ্বকাপে ভালো খেলায় আমাদের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। পেসারররা খুব ভালো করছে। স্পিন-পেস দু’টি বিভাগেই ভালো হচ্ছে। আশা করি সামনে ভালো কিছুই হবে।’ নিকট অতীতে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে দ্বি-পাক্ষিক সিরিজে ভাল করার দৃষ্টান্ত নেই অস্ট্রেলিয়ারও। উপমহাদেশের দলগুলোর অবস্থা নিউজিল্যান্ডে একটু করুণই বটে। তবে বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ২০১৫ বিশ্বকাপে স্বাগতিক দলের বিপক্ষে আসরটিতে সর্বোচ্চ ২৮৮ করায় আগামী ডিসেম্বর-জানুয়ারীতে নিউজিল্যান্ড সফরে দারুণ কিছুর ভরসা পাচ্ছেন সাকিব, ‘নিউজিল্যান্ড আমাদের জন্য সহজ হবে না। তাই নিউজিল্যান্ড সফরের জন্য প্রস্তুতিটা ভালো হওয়া উচিত। নিউজিল্যান্ড সফরে যাওয়ার আগে অস্ট্রেলিয়ায় আমাদের ক্যাম্প আছে, তা খুব কাজে দেবে। আশা করি ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে পারবো।’ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঢাকা টেস্ট জয় নিউজিল্যান্ড সফরে টনিক হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন সাকিব, ‘আমরা টেস্ট ম্যাচ তেমন একটা জিতি না। এটা অনেক বড় ব্যাপার। এজন্য সবাই এখন গর্ববোধ করে। টেস্টে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জয় এটা। তবে এটা তো কেবল শুরু। সামনের দিনগুলোতে এমন জয় আরো আসবে।’ ভবিষ্যতে যেন সাকিবের কথার প্রতিফলনই ঘটে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ