শনিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

বিস্ময় বালক মেহেদী হাসান মিরাজ

আব্দুর রাজ্জাক রানা : খুলনা মহানগরীর প্রাণকেন্দ্র ডাকবাংলো মোড় থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে যশোর রোড ধরে নগরীর দৌলতপুরের দিকে যেতে খালিশপুর নতুন রাস্তার মোড়। এখান থেকে খালিশপুর শিল্পাঞ্চলে যেতে মাত্র পাঁচ মিনিটের রাস্তা পেরুলেই ডান হাতে পড়ে ‘বরিশাল জেলা কল্যাণ সমিতির কার্যালয়।’ এ কার্যালয়ের পেছনেই টিনের দোচালা ভাড়া বাড়ি মিরাজদের। এখানেই পিতা মো. জালাল হোসেন তালুকদার, মা মিনারা বেগম ও ছোট বোন রুমানা আক্তার মিম্মাকে নিয়ে থাকেন মিরাজ। তবে মিরাজের বাড়িটি বাইরে বাঁশের বেড়া ও দোচালা টিনের ঘর হলেও ভেতরের অবস্থা বেশ পরিপাটি। তার থেকেও বড় কথা মিরাজের পরিবারের আথিয়েতা। মিরাজের বাড়ি গিয়ে মিষ্টি খেয়ে আসছেন না, এ রকম লোকের সংখ্যা খুবই কম। মিরাজের অমায়িক ব্যবহারের মতই তার পিতা-ও বোনের ব্যবহার। মা মিনারা বেগম ঘর থেকে বাইরে না বেরুলেও তিনিও আতিথেয়তার খোঁজ-খবর নিতে ভুলছেন না। বাড়ির সবাইকে মনে করিয়ে দিচ্ছেন কেউ যেন মিষ্টি না খেয়ে ফিরে না যায়।
কৃতিত্বপূর্ণ খেলার ধারাবাহিকতায় মিরাজ সুযোগ পেয়েছিলেন ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম টেস্টে। এ টেস্টেই তার অভিষেক হয়। সুযোগ পেয়েই তিনি তার বোলিং ধার দেখিয়েছেন। ছাপিয়ে গেছেন টাইগার বাহিনীর অন্যতম অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে। অভিষেক টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডকে কাঁপিয়ে দিলেন, পুরো ম্যাচে নিলেন ৭ উইকেট। দ্বিতীয় টেস্টে তার ঘূর্ণিতেই কাটা পড়লো টেস্টের ‘এলিট ক্লাস’ টিম বলে পরিচিত ইংল্যান্ড। দুই ইনিংসে ১২৯ বছরের রেকর্ড ভেঙে নিলেন আরও ১২ উইকেট। ‘মেহেদী হাসান মিরাজ’ পুরো সিরিজ জুড়ে কেবল এই নামটিই যেন আসছিল ঘুরে ফিরে। কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমানের পর দেশের নতুন বোলিং তারকা এই মিরাজই।
বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড টেস্ট ক্রিকেটের নায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ সপরিবারে গত ১৫ বছর ধরে খুলনা মহানগরীর খালিশপুর শিল্পাঞ্চলের কাশিপুরের হাইজিং স্টেটের বিআইডিসি রোডের নর্থ জোন বি-ব্লকের ৭ নম্বর প্লটের ছোট্ট একটি টিনের দোচালা ঘরে বসবাস করেন। এই বাড়িতেই তার বেড়ে ওঠা ক্রিকেট খেলার স্বপ্ন দেখা শুরু। ঘরের দু’টি রুমের মধ্যে একটি রুমের শোকেসের ওপরে এবং ভেতরে মিরাজের পাওয়া বিভিন্ন ট্রফি ও মেডেল রাখা। জায়গার অভাবে অনেক ট্রফি ও মেডেল অগোছালোভাবে শোকেসের মধ্যে একটি তাকে রাখা রয়েছে। মিরাজরা দুই ভাই-বোন। মিরাজের বোন রুমানা আক্তার মিম্মা নগরীর দৌলতপুরের সরকারি বিএল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীতে পড়ছে।
আর মিরাজ এ বছর এইচএসসি পাস করেছে। মিরাজ ছোটবেলা থেকেই ছিল ক্রিকেট পাগল। ও যখন আসমা সরোয়ার স্কুলে প্রাইমারীতে পড়তো তখন থেকেই ক্রিকেট খেলা শুরু করে। তারপরে হাজি শরীয়তুল্লাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং সর্বশেষ দৌলতপুর দিবা/নৈশ কলেজে সে পড়ালেখা করছে। মিরাজের পিতা মো. জালাল হোসেন তালুকদার একজন গাড়ীচালক। মা মিনারা বেগম একজন গৃহিণী। গরীব গাড়িচালক পিতার সংসারের দৈন্যতাকে খুব ভয় পেতেন। ছেলের অনিশ্চিত জীবনের শঙ্কায় বার বার ক্রিকেট খেলতে বাধা দিতেন। বললেন, ‘ছোটবেলা থেকে মিরাজ আমাকে ফাঁকি দিয়ে ক্রিকেট খেলতে যেতো। আমাকেই সে বেশি ফাঁকি দিয়েছে। স্কুল থেকে চুপি চুপি ক্রিকেট খেলতে মাঠে চলে যেতো আল মাহমুদের (প্রশিক্ষক) সাথে। কতবার খুঁজে খুঁজে বাড়িতে ধরে আনতে হয়েছে তাকে।’ আজ সেই ছেলের এমন অভাবনীয় সাফল্যে আনন্দে আত্মহারা পিতা জালাল হোসেন। নিজেই দোয়া চাইলেন মিরাজ ও বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের জন্য। কৃতজ্ঞতা জানালেন এক সময়ের দারুণ অপছন্দের মিরাজের সেই ক্রিকেট প্রশিক্ষকের প্রতি। তিনি আরো জানান, ১৯৯৭ সালের ১৬ই মে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার আওলিয়াপুর গ্রামে এক মুসলিম সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
জানা গেছে, খালিশপুর কাশীপুর ক্রিকেট একাডেমীর প্রশিক্ষক মো. আল মাহমুদের হাত ধরেই মিরাজের ক্রিকেট যাত্রা শুরু। পিতার বাধা থাকলেও মায়ের অনুপ্রেরণা ছিলো মিরাজের ক্রিকেট জীবনের শক্তি। প্রশিক্ষক আল মাহমুদ জানান, মিরাজের মধ্যে ছোটবেলা থেকে ক্রিকেটে মারকুটে ভাব ছিলো। ওর মধ্যে ক্রিকেটের সম্ভাবনা দেখেই তাকে প্রশিক্ষণ দিতে ভালো লাগতো। অসীম ধৈর্য্য আর চেষ্টায় সেই মিরাজ হয়েছেন আজকের মিরাজ। মিরাজের সাফল্যে অনুপ্রাণিত উল্লসিত সব বয়সী মানুষ। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে বিশাল জয়ের পর অনেকে ফোন করে তাদের অনুভূতি জানিয়েছেন। কাশীপুর ক্রিকেট একাডেমীর সভাপতি শেখ খালিদ হাসান বলেন, ২০০৭ সালে খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থা আয়োজিত অনূর্ধ্ব-১৩ খেলায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে প্রথম পুরস্কার ওঠে মিরাজের হাতে। বর্তমানে ওই একাডেমীর ক্রিকেট প্রশিক্ষক ও দলের ক্যাপ্টেন মিরাজ। মিরাজের প্রতিভা আছে। সুযোগ পেলে সে একসময় আরও ভালো খেলোয়াড় হয়ে উঠবে।
মিরাজের মা মিনারা বেগম বলেন, ‘ক্রিকেট ভাল না বুঝলেও ছেলেকে দেখার সুযোগ তিনি ছাড়েন না। দিনভর ছেলের খেলা দেখেছেন তিনি। ছেলের ধারাবাহিক সাফল্যে তিনি সবথেকে বেশি খুশি। যা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলে জানান তিনি। সে আরও ভাল করুক, দেশের সেরা খেলোয়াড় হোক, আল্লাহ্র কাছে এটাই কামনা করেন তিনি।’ মিরাজের বোন রুমানা আক্তার মিম্মা বলেন, ‘ভাইয়া যে বিশ্বরেকর্ড করেছে তার আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। তিনি বলেন, যুব বিশ্বকাপের খেলার চেয়েও এই টেস্টের গুরুত্ব অনেক বেশি। তার ভাই টেস্টে এতটা ভাল করেছে, যা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। ঘরে টিভি’র সামনে বসে খেলা দেখলেও যেন মাঠে বসেই খেলা দেখেছেন বলে মনে হয়েছে তার।’
খুলনা থেকে মিরাজ ঢাকা যাবেন জাতীয় দলের অনুশীলনে যোগ দিতে। ক্রিকেটের স্বরলিপি তৈরি যে কোচের কাছে, সেই মো. আল মাহমুদের কাছে যান বিদায় নিতে। শিষ্যের গর্বে তাঁর বুকের ছাতি ফুলে উঠেছে। উঁচু মাথা যেন ছাদ ফুঁড়ে আকাশ ছুঁয়েছে। কাশীপুর ক্রিকেট একাডেমীর সেই কোচ আশীর্বাদ করেন মিরাজকে। এই স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে ভারী হয়ে আসে আল মাহমুদের কণ্ঠ। তাঁর শিষ্য যে কথা রেখেছেন! না হয় প্রথম টেস্টে পারেননি, তবে দ্বিতীয় ম্যাচেই তো মিরাজের বীরত্বে জয় পায় বাংলাদেশ! এ অফস্পিনারের ১২ উইকেটে ইংল্যান্ডের আভিজাত্য-কৌলিন্যে বড় এক দাগ কেটে দিতে পারে লাল-সবুজের পতাকাধারীরা। আর ‘অর্জুন’ মিরাজের এমন সাফল্যে ‘দ্রোণাচার্য’ আল মাহমুদের আবেগের একতারা বেজে উঠবে না কেন! ঢাকা টেস্টে যখন তাঁর স্পিন বিষে নীল হয়ে ছটফট করে ইংল্যান্ড, তখনো শিষ্যের সঙ্গে চোখে চোখে কথা হওয়ার ব্যাপারটি জানান আল মাহমুদ, ‘মিরাজ একেকটি উইকেট নিচ্ছিল আর আমার কী যে আনন্দ হচ্ছিল! ৪ উইকেট হয়ে গেল। এরপর ওকে ইশারা করে দেখালাম, আরো অন্তত এক উইকেট চাই। নিয়ে নিল আরো এক উইকেট। আর মিরাজ শেষ উইকেট নেয়ার পর যখন বাংলাদেশ জিতে যায়, খুশিতে কী যে করব বুঝতে পারছিলাম না।’ কে জানে, তাঁর চোখের চিকচিকে আনন্দাশ্রুতে হয়তো তখন ছায়া পড়ে সেদিনের! যেদিন আট বছরের ছোট্ট ছেলেটি এমনই টলমলে চোখে এসে দাঁড়ায় সামনে! ক্রিকেট অন্তঃপ্রাণ এই কোচ তাঁর একাডেমী নিয়ে পড়ে থাকেন সারাক্ষণ। সেখানে ভীরু পায়ে দুরু দুরু বুক নিয়ে বছর আটেকের একটি ছেলে আসে একদিন। তা এমন তো কতজনই আসে! কিন্তু ওই বালকের কথা চমকে দেয় আল মাহমুদকে, ‘আমার খুব ইচ্ছে ক্রিকেটার হওয়ার। কিন্তু বাবা তা হতে দিতে চান না। আপনি যদি আমাকে একাডেমীতে অনুশীলনের সুযোগ করে দেন, তাহলে একদিন আমি বড় ক্রিকেটার হবো।’ ছেলেটির ব্যাট নাড়াচাড়া দেখেন; একটু-আধটু বোলিং। আর ওই টলমলে চোখে সবচেয়ে বেশি করে দেখেন প্রতিজ্ঞা। মিরাজের প্রতিভা চিনতে ভুল হয় না কোচের। নিয়ে নেন একাডেমিতে। নিজেই কিনে দেন ব্যাট-প্যাড-জার্সি। আল মাহমুদের সেদিনের সেই আস্থার ফসল এখন কিভাবেই না ঘরে তুলতে শুরু করেছে বাংলাদেশ!
কিন্তু বিনা মূল্যে একাডেমিতে ভর্তি করিয়েও কি রক্ষে আছে! গাড়িচালক বাবা এসে প্রায়ই যে পিটুনি দিয়ে নিয়ে যান মিরাজকে! কোচের মনের স্মৃতিচিত্রে এখনো ভেসে বেড়ায় তা, ‘ওর বাবা কিছুতেই চাইত না, ছেলেটি ক্রিকেট খেলুক। যে কারণে মারধর করে একাডেমি থেকে নিয়ে যেত। একরকম লুকিয়ে লুকিয়েই মিরাজকে অনুশীলন করাতাম।’ লুকানো সেই যক্ষের ধনের আলোতেই তো এখন ছাই হয়ে গেল ইংল্যান্ড!
রূপসাপাড়ের ছেলেটি কালক্রমে চলে যায় বুড়িগঙ্গাতীরে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের বয়সভিত্তিক দলে ঢুকে যায় অনায়াসে। সেখানে নজর কাড়তে সময় নেয়নি। ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং মিলিয়ে আগামীর এক সব্যসাচীর ছবি যে দেখা যায় মিরাজের ভেতর! আরেকটি কারণেও ওই বয়সে নিজেকে আলাদা করে নেয় ছেলেটি। বিসিবির ন্যাশনাল গেম ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার নাজমুল আবেদীন ফাহিম তা মনে করতে পারেন, ‘আমি ওকে পাই একটু পরে অনূর্ধ্ব-১৭ পেরিয়ে যাওয়া শেষে। আমাদের সব কোচ খেয়াল করেন, মিরাজের শরীরের তুলনায় হাতের মুঠো বড়; আঙ্গুলগুলো অনেক বড় বড়। বল খুব জোরে ধরতে পারে। চাপ দিয়ে পারে বল রোটেট করতে। এটি মিরাজকে অন্যদের তুলনায় ওই বয়সেই এগিয়ে দিয়েছে।’ এগিয়ে দেয়ার আরেক গুণের কথাও বলেন তিনি, ‘ও নিজের উন্নতি করতে চায় সব সময়। আর তা শক্তভাবে। ওই বয়সের সব ছেলেই তো জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন দেখে। কিন্তু সে জন্য যে অধ্যবসায়, পরিশ্রম, সাধনা করতে হয় তা করতে হয়তো রাজি না। মিরাজ ছেলেটি শতভাগ দিয়ে ওই চেষ্টাগুলো করে।’
ইংলিশদের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে ম্যান অব দ্য ম্যাচ হন। ১৯ উইকেট নিয়ে পেয়েছেন ম্যান অব দ্য সিরিজ পুরস্কারও। অভিষেকে এমন আলো ছড়ানো টাইগার অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজের গুণকীর্তন চলছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে। এরই মধ্যে এলো আরেক খবর। মিরাজ যে শুধু ব্যাট-বলে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে জানেন তা নয়, গান গেয়েও আনন্দ দিতে পারেন! সময় টিভি’র একটি অনুষ্ঠানে ইমরানের গাওয়া ‘বলতে বলতে চলতে চলতে’ গানটি খালি গলায় গেয়েছিলেন মিরাজ। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচ জেতার পর সেই গানটি নিজেদের পেজে শেয়ার করে সময় টিভি, যেটি এরই মধ্যে দেড় লাখ ভিউয়ার ছাড়িয়ে গেছে। শেয়ার হয়েছে আড়াই হাজারেরও বেশিবার। গানটি মিরাজের খুব পছন্দ। তাই শখের বশে সময় টিভির অনুষ্ঠানে গেয়ে শুনিয়েছেন। সেটিই এখন উপভোগ করছেন সবাই। গানটি নজরে এসেছে ইমরানেরও। নিজের ফেসবুকে শেয়ার দিয়ে মিরাজের প্রশংসাও করেছেন এই গায়ক। বলেন, ‘দুর্দান্ত পারফরম করে বাংলাদেশকে জিতিয়েছেন মিরাজ। সবার মুখেই এখন তাঁর নাম।
তিনি আমার গানটি পছন্দ করেন, টিভি অনুষ্ঠানে গেয়েছেন শুনে ভালো লাগছে। তাঁর জন্য অনেক অনেক শুভ কামনা।’ উল্লেখ্য, ইউটিউবে এখন পর্যন্ত (অফিশিয়াল লিংকে এক কোটি ১৬ লাখের ওপরে) সবচেয়ে বেশি ভিউয়ার হওয়া বাংলাদেশি গান এটি।
ঢাকা টেস্টের পর দুই দিনের ছুটিতে খুলনায় এসেছিলেন মিরাজ। জনপ্রতিনিধি, সরকারি-বেসরকারি, রাজনৈতিক সংগঠনের সংবর্ধনা আর হাজারো ভক্ত-সমর্থকের ফুলেল শুভেচ্ছা, সেলফি উৎসব ও ভালোবাসায় সিক্ত হন তিনি। সর্বশেষ গত ২ নবেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে বাড়ি উপহার দেবার ঘোষণা দেন। মিরাজের পছন্দীয় লোকেশনে বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা প্রণয়ন করে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে প্রেরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে জেলা প্রশাসন ও খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। খুলনা জেলা প্রশাসক মো: নাজমুল আহসান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জরুরি নিদের্শনা পেয়েই কেডিএ’কে বিষয়টি অবহিত করি। পরে কেডিএ এবং আমি নিজেও মিরাজের সাথে মোবাইলে কথা বলে জানতে চেয়েছি; কোন এলাকায় তিনি বাড়ি নিতে চান।
মিরাজ জানিয়েছেন, খালিশপুর-মুজগুন্নী এলাকাতে হলে তার যাতায়াত ও প্রতিবেশীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষার জন্য সুবিধা হবে। সে অনুযায়ী কেডিএ দু’টি লোকেশন ঠিক করে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে জমি ও স্থাপনার পরিকল্পনা প্রেরণ করা হবে। খুলনা জেলা প্রশাসন আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মিরাজের প্রথম কোচ আল মাহমুদ খুলনায় মিরাজ পরিবারের নিজস্ব বাড়ির ব্যবস্থা করে দেয়ার দাবি করেছিলেন। মিডিয়ার কল্যাণে বিষয়টি নজরে আসে প্রধানমন্ত্রীর। এরপরই তিনি খুলনায় মিরাজের পরিবারকে একটি বাড়ি দেয়ার জন্য খুলনা জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেন। গাড়ীচালক পিতা জালাল হোসেন বলেন, মিরাজ আরো ভালো খেলুক; বাংলাদেশকে বিশ্বের সবার উপরে উঠিয়ে নিয়ে যাক- সেটাই তার কাছে  চাওয়া। দু’দিনের সংক্ষিপ্ত সফর শেষে গত বুধবার সকাল ১১টায় বিমানযোগে খুলনা হয়ে যশোর থেকে ঢাকায় পৌঁছান মিরাজ।
প্রধানমন্ত্রীর বাড়ি দেয়ার নির্দেশনার খবর শুনে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মিরাজ। খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ মিজানুর রহমান মিজান বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রত্যেকটি নাগরিকের খবর রাখেন। দেশের সুখ্যাতি বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দিল বিশ্বখ্যাত অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ; আর তার নিজের বাড়ি থাকবে না! এটা প্রধানমন্ত্রীর কাছেই বেমানান মনে হয়েছে। শুধু ইংল্যান্ড নয়; বিশ্বের অন্যান্য শক্তিধরদের ধরাসায়ী করতে পারলেই দেশবাসীর স্বপ্নপূরণ হবে। আর শুধু মিরাজ নয়; দেশের প্রত্যেকটি গৃহহীনকে ঘর বেঁধে দেবার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পর্যায়ক্রমে দেশের কোন গরীব মানুষ থাকবে না। মিরাজকে বাড়ি দেয়ায় খুলনাবাসীর পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি। মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ও কেসিসি মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, মেহেদী হাসান মিরাজের স্বীকৃতি দেয়া রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। মিরাজ ভালো করলে, খুলনাবাসী খুশী হবে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। মিরাজের জন্য শুভ কামনা রইলো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ