শনিবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২১
Online Edition

শেষ ওভারে নাটকীয় জয় পেল খুলনা টাইটানস

খুলানা টাইটানস-----১৩৩/৮
রাজশাহী কিংস----১৩০/১০
খুলনা টাইটানস ৩ রানে জয়ী।
স্পোর্টস রিপোর্টার : প্রথম ম্যাচেই এক নাটকীয় জয় পেলো খুলনা টাইটানস। শেষ ওভারে দলকে এই নাটকীয় জয় এনে দিলেন অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদই। না হলে লো স্কোরিং ম্যাচে পরাজয় দিয়েই শুরু হতে পারতো খুলনার পথচলা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হারতে হারতেই জয় দিয়ে বিপিএল শুরু করতে পেরেছে দলটি। আর জিততে জিততে শেষ পর্যন্ত পরাজয় দিয়েই শুরু করতে হলো রাজশাহী কিংসকে। দু-দলেরই এটি ছিল প্রথম ম্যাচ। ফলে জয় দিয়েই শুরু করতে চেয়েছিল খুলনা আর রাজশাহী। কিন্তু শেষ হাসি হাসল রিযাদের খুলনা টাইটানস। গতকাল মিরপুরে টসে জিতে আগে ব্যাট করে বড় স্কোর গড়ার টার্গেট নিয়েই মাঠে নেমেছিল খুলনা টাইটাসন। কিন্তু বড় স্কোর গড়া হয়নি দলটির। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে দলটি করেছিল ১৩৩ রান। ফলে জয়ের জন্য প্রথম ম্যাচেই ১৩৪ রানে সহজ একটা টার্গেট পেয়েছিল রাজশাহী কিংস। কিন্তু ব্যাট কররতে নেমে এই সহজ টার্গেট শেষ পর্যন্ত টপকাতে পারেনি ড্যারেন স্যামির রাজশাহী কিংস। মাত্র ১৩০ রানে রাজশাহী সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৩০ রান করলে খুলনা জয় পায় ৩ রানে। অবশ্য ম্যাচের হারের পথেই ছিল খুলনা। কারণ শেষ ওভারে জয়ের জন্য রাজশাহীর প্রয়োজন ছিল মাত্র ৭ রান। হাতে ছিল তিন উইকেট। তবে শেষ ওভারে রিয়াদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ম্যাচ জিতে নেয় খুলনার দলটি। শেষ ওভারে বল হাতে তুলে নেন রিয়াদ নিজেইে।  শেষ ওভারের তৃতীয় বলে আবুল হাসান রাজু, চতুর্থ বলে মোহাম্মদ সামি ও শেষ বলে নাজমুল ইসলামকে আউট করেন তিনি। ফলে জয়ের জন্য ৭ রান দরকার হরেও মাত্র ৪ রান করতে সক্ষম হয় রাজশাহী। ফলে ৩ রানের জয় পায় খুলনা। আর দলকে জয়ী করার পাশাপাশি ম্যান অব দ্য ম্যাচও হন অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ।
জয়ের জন্য রাজশাহীর সামনে টার্গেটা সহজই ছিল। মাত্র ১৩৪ রান। এই সহজ টার্গেট নিয়ে ব্যাট করতে নেমে সহজেই জয়ের স্বপ্ন ছিল রাজশাহীর। কিন্তু রাজশাহী কিংসের জয়ের পথটাকে কঠিন করে দেন খুলনা টাইটানসের জুনায়েদ খান। দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলে নুরুল হাসান সোহানকে আউট করে উইকেট নেয়া শুরু করেন জুনায়েদ। নুরুল হাসান আউট হওয়ার আগে করেন ৪ রান। চতুর্থ ওভারের চতুর্থ ও পঞ্চম বলে তিনি ফিরিয়ে দেন সাব্বির রহমান ও উমর আকমলকে। সাব্বির রহমানকে বোল্ড আর উমর আকমলকে কট বিহাইন্ড করে বিদায় করেন জুনায়েদ। সাব্বির ৪ ও উমর আকমল শূন্য রানে আইট হন। ফলে ২৪ রানে প্রথম তিন ব্যাটসম্যানকে আউট করে রাজশীকে ভালোই চেপে ধরেন জুনায়েদ। তবে একপ্রান্ত ধরে রেখে দলকে এগিয়ে নিতে থাকেন ওপেনার মুমিনুল হক। সামিত প্যাটেলকে নিয়ে চতুর্থ উইকেট জুটিতে ৩৫ রান যোগ করেন তিনি। সামিত প্যাটেলকে সাজঘরে পাঠান আসগর। কাট করতে গিয়ে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে আরিফুল হকের হাতে ধরা পড়েন ১০ রান করা ইংলিশ এই অলরাউন্ডার। দলের এই ব্যার্টিং বিপর্যয়ে ক্রিজে আসেন অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি। আর মুমিনুলের সাথে জুটি করে দলকে প্রায় জয়ের কাছেই নিয়ে যান। দলীয় ১১১ রানে এই জুটির ভাংগন ধরান শফিউল। আউট হওয়ার আগে ২৩ বলে তিন ছক্কায় ৩২ রান করেন স্যামি। শফিউল ইসলামের বলে বোল্ড হন তিনি। স্যামির বিদায়ের পর মমিনুল হককে ৬৪ রানে ফিরিয়ে দিয়ে ম্যাচটা জমিয়ে তুলেন শফিউল ইসলাম। দলীয় ১২০ রানে আউট হওয়ার আগে মুমিনুল ৮৮ বলে ৬ বাউন্ডারিতে করে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬৪ রান। এই দুই ব্যাসম্যান আউট হওয়ার পর আর কোন ব্যাসম্যানই দলের হয়ে ব্যাট চালাতে পারেনি। রাজশাহীর শেষ পাঁচ ব্যাটসম্যান ৮ রানের মধ্যে বিদায় নিলে পরাজয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় রাজশাহীকে। খুলনার পক্ষে জুনায়েদ খান ২৩ রানে ৪টি, শফিউল ইসলাম ২৯ রানে ২টি ও ২ ওভারে ৬ রানে ৩টি উইকেট নেন রিয়াদ। এর আগে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে পেসার আবুল হাসান রাজুর অসাধারন বোলিংয়ে সামনে ৮ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৩৩ রান করে খুলনা টাইটানস। বল হাতে আবুল হাসান রাজু একাই নিয়েছিলেন ২৮ রানে ৫ উইকেট। দলের হয়ে ওপেন করতে নেমে আবদুল মজিদ ও নিকোলাস দলকে ১৮ রানে নেয়ার পরই ওপেনিং জুটির পতন। নিকোলাসকে ১৪ রানে ফিরিয়ে দিয়ে দলের হয়ে প্রথম উইকেট নেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তবে দ্বিতীয় উইকেট হারানো আগেই দলটি পৌঁছে যায় ৬৫ রানে। ওয়ান ডাউনে ব্যাট করতে নেমে রিকি ওয়েসেলস ২২ বলে একটি ছক্কা ও চারটি চারে ৩২ রান করে দলকে এগিয়ে দিয়েই আউট হন। আবুল হাসান রাজুর প্রথম শিকার হন তিনি। দলের আর কোন রান যোগ হওয়ার আগেই ফিরতে হয় ওপেনার মাজিদকে। আউট হওয়ার আগে মাজিদ ককরেন ১৫ রান। ফলে ৬৫ রানে প্রথম তিন উইকেট হারানো দলের অধিনায়ক রিয়াদের ওপর ছিল রানের চাকা সচল রাখার দায়িত্ব। আর রিয়াদ অলক কাপালিকে নিয়ে দলকে এগিয়ে নেয়ার চেস্টা করেন। দলীয় ১১১ রানে আউট হন রিয়াদ। রাজুর বলে আউট হওয়ার আগে ২১ বলে ৩২ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। রিয়াদের পরে দলীয় ১১১ রানেই ফিরতে হয় কাপালিকে। ১১ রান করা কাপিালিকেও ফিরান রাজু। ফলে ১১১ রানেই দলটি হারায় প্রথম ৬ উইকেট। এর পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোর কারণে স্কোরটা বড় হয়নি খুলনার। আরিফুল হক আউট হওয়ার আগে করেন ১৪ রান। ফলে ৮ উইকেট হারিয়ে খুলনা করে ১৩৩ রান।  আবুল হাসান রাজু একাই ৫ উইকেট নিলেও অন্য কোন বোলার একাধিক উইকেট নিতে পরেননি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ