বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সভাপতি হতে পারেবেন না এমপিরা

স্টাফ রিপোর্টার : বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটিতে (গভর্নিং বডি) সভাপতি পদে সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব পালন অবৈধ ঘোষণার হাইকোর্টের দেয়া রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সংসদ সদস্যরা (এমপি) আর সভাপতি হতে পারবেন না।

গতকাল সোমবার এ সংক্রান্ত তিনটি লিভ টু আপিল খারিজ করে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ এই আদেশ দেন। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার, ভিকারুন নিসা নুন স্কুল এন্ড কলেজ, এর গভর্নিং বডির সাবেক সভাপতি এবং বেসরকারি বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন পৃথক তিনটি লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি) আবেদন করেন।

আদেশের পর আইনজীবী ড. ইউনুছ আলী আকন্দ বলেন, এটি একটি ঐতিহাসিক রায়। এর মাধ্যমে এমপিরা আর বিশেষ কমিটির মাধ্যমে আর সভাপতি হতে পারবেন না। যিনিই সভাপতি হোন না কেন, তাকে নির্বাচিত হয়ে আসতে হবে। আদালতের এই রায়ের মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির সুযোগ অনেকাংশে বন্ধ হবে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে ভিকারুন নিসা নুন স্কুল এন্ড কলেজের বিশেষ ব্যবস্থাপনা কমিটি বাতিল হয়ে গেল। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন।

গত ১ জুন বেসরকারি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পরিষদ ও ম্যানেজিং কমিটি প্রবিধানমালা, ২০০৯-এর ৫ (১), (২) অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের অধিকার সংক্রান্ত ধারা ও বিশেষ কমিটি সংক্রান্ত ৫০ ধারা বাতিল ঘোষণা করে রায় দেন আদালত। বিচারপতি জিনাত আরা ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হক সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ ওই রায় দেন। পরে ৩১ জুলাই জুলাই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারপক্ষ, ভিকারুন নিসা নুন স্কুল এন্ড কলেজ এবং রাশেদ খান মেনন লিভ টু আপিল করেন। গতকাল আপিল বিভাগ তিনটি আবেদনেই খারিজ করে দেন।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের প্রবিধানমালা ২০০৯ এর ৫ ধারা অনুযায়ী স্থানীয় সংসদ সদস্যরা ৪টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হিসেবে থাকতে পারবেন। আর ৫০ ধারায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন না দিয়ে বিশেষ কমিটির মাধ্যমে গঠনের বিধান রয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের প্রবিধানমালার ৫ ও ৫০ ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত বছর ৩১ ডিসেম্বর রিট আবেদন দায়ের করেন আইনজীবী ড.ইউনুছ আলী আকন্দ। রিটে বলা হয় এ দুটি ধারা সংবিধানের ৭, ২৬, ২৭, ২৮, ৩১, ৬৫ এর সংঙ্গে সাংঘর্ষিক। রিটের প্রেক্ষিতে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সংসদ সদস্যদের থাকা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে গত ১৩ এপ্রিল রুল জারি করেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে নির্বাচন ছাড়া কমিটি গঠন কেন অবৈধ হবে না এবং এই ধারা দুটি ধারা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছিল। এই রুলে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করে ১ জুন রায় দেন হাইকোর্ট।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ