বুধবার ০৩ মার্চ ২০২১
Online Edition

দু’দিন খুলনা মাতিয়ে ঢাকা গেলেন মিরাজ

খুলনা অফিস : পিতা-মাতার কাছ থেকে অশ্রুসিক্ত বিদায় নিলেন খুলনা থেকে ঢাকা গেলেন বাংলাদেশের উদীয়মান ক্রিকেট তারকা মেহেদি হাসান মিরাজ। দুইদিনের ছুটিতে খুলনার খালিশপুরের ভাড়াবাড়িতে এসে ব্যস্ত সময় পার করে বিশ্বের আলোচিত এই ক্রিকেটার বুধবার ফাস্ট ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছেছেন। ঢাকায় ফিরেই পেলেন নতুন বার্তা। এই খুশির মাত্রা এবার আরো বাড়িয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার তিনি মেহেদী হাসান মিরাজের পরিবারের জন্য বাড়ি নির্মাণের ঘোষণা দেন। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে খুলনার জেলা প্রশাসককে নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে।
সোমবার রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত হাজার হাজার ভক্তদের ভালোবাসায় সিক্ত হন মেহেদি হাসান মিরাজ। তার অবস্থা এমন ছিল বিশ্রামও পাননি। সারাক্ষণ তাকে পোহাতে হয়েছে ‘ভালোবাসার বিড়ম্বনা’। তবে এতো কিছুর মাঝেও তিনি একটুও বিরক্ত হননি। বুধবার সকাল ৬টায় ফাস্ট ফ্লাইটে ইউএসবাংলা এয়ার লাইন্সে ঢাকায় যান।
সোমবার ৩১ অক্টোবর রাতে নিজ শহর খুলনায় আসার পর থেকে ব্যস্ত সময় পার করেন মিরাজ। রাতে গাড়ি থেকে নেমে নিজ ঘরে প্রবেশের পর উৎসুক ভক্তদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, মঙ্গলবার সবার সাথে দেখা করবো। তার সে কথা রক্ষা করতে ভোর থেকে দিনভর ভক্তদের সাথে সাক্ষাৎ ও সেলফির সাথী হতে হাস্যোজ্জ্বল মিরাজ অনেকটা ক্লান্ত। ভক্তদের ভিড়ে খ্যাতির বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে তাকে। এলাকার সবাই নিজেদের ঘরের ছেলেকে কাছে পেয়ে উল্লাসে মেতে ওঠেন।
মঙ্গলবার রাতে খুলনা সার্কিট হাউজে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মিরাজ সংবর্ধনা দেয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন মিরাজের বাবা মো. জালাল হোসেন তালুকদার, এনডিসি আতিকুল ইসলাম, মিরাজের কোচ আল মাহমুদ, কর্মসংস্থান ব্যাংকের উপ-মহাব্যবস্থাপক জিএম রুহুল আমিনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এডিসি (সাধারণ) মনিরুজ্জামান, এডিসি (সার্বিক) জাহাঙ্গীর আলম, এডিসি (এল.এ) সুলতান আলম, এডিসি (শিক্ষা) গিয়াস উদ্দিন, নির্বাহি ম্যাজিস্ট্রেট ফেরদাউস ওয়াহিদ ও মিরাজের ঘনিষ্ঠ বন্ধু বিপুল আইচ। এ সময় তাকে জেলা প্রশাসনের ক্রেস্ট উপহার এবং ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘মিরাজকে নিয়ে আমরা আনন্দিত-উল্লসিত। আমরা চাই, মিরাজের ধারাবাহিকতায় যেন কোনো ছেদ না পড়ে। মিরাজের প্রথম কোচ আল মাহমুদ মিরাজদের জন্য এক খণ্ড জমির ব্যবস্থা করার বিষয়ে জেলা প্রশাসনকে অনুরোধ করেন।
অনুষ্ঠানে মিরাজ তার খেলোয়াড় হয়ে ওঠার পেছনের কাহিনী বর্ণনা করেন। সংবর্ধনার জবাবে অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ বলেন, ‘আব্বু আমাকে জজ-ম্যাজিস্ট্রেট বানাতে চাইতেন। আমি পালিয়ে গিয়ে ক্রিকেট খেলতাম। তবে আব্বু বাধা না দিলে হয় তো আমি কোনো দিনই আজকের মিরাজ হতে পারতাম না।’ মিরাজ বলেন, ‘আমি আনন্দিত। ইংল্যান্ডের মতো ক্রিকেটের বড় শক্তিকে হারানো বেশ বড় অর্জন। এই সিরিজে আমি মোটামুটি ভালো খেলেছি। আমার এই অর্জন সারা দেশের, এই অর্জন খুলনার।’ মিরাজ আরও বলেন, ‘আমি অনেক কষ্ট করে ক্রিকেট খেলেছি, আমার ক্রিকেটার হওয়ার পেছনে আমার কোচের, বড় ভাই, বন্ধুদের অবদান অনেক বড়। মিরাজ বলেন, ‘ইংল্যান্ড মনে করত, তাদের হারানো বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব নয়। সেই জেদ থেকেই তাদের হারাতে পেরেছি।’ এছাড়া ফুলতলা উপজেলার দামোদার মাঠে তাকে স্থানীয়ভাবে সংবর্ধনা, রাতে নৌ-পরিবহন মালিক গ্রুপের অডিটোরিয়ামে খুলনার বিভিন্ন স্পোর্টিং ক্লাবের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ