সোমবার ২৫ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

রামগড়ে পাহাড়ী ছাত্রদের হামলায় ৬ বাঙ্গালি ছাত্র আহত

খাগড়াছড়ি সংবাদদাতা : জেলার রামগড়ে উপজাতীয় পাহাড়ী ছাত্রদের অতর্কিত হামলায় চৌধুরীপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ বাঙ্গালি ছাত্র আহত হয়েছে। ঘটনার পরপর বিদ্যালয় এলাকায় পুলিশ ও বিজিবি নিরাপত্তা জোরদার করে।
বিদ্যালয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চৌধুরী পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে সোমবার সকাল সাড়ে নয়টার সময় ছাত্ররা যথারীতি বিদ্যালয়ে এলে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী উপজাতীয় পাহাড়ী ছাত্রদের ১৮ থেকে ২০ জনের একটি দল বিদ্যালয়ের পাশের বটতলায় বাঙ্গালি ছাত্রদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। ওদের চিৎকারে বিদ্যালয়ে শিক্ষক, ছাত্র ও স্থানীরা এগিলে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনায় আহতরা হলেন, নবম শ্রেণীর মোজাম্মেল, আফসার হোসেন, ওমর ইবনে ওবায়েদ ও অষ্টম শ্রেণীর মোবারক হোসেন, মোঃ সেলিম ও সাজ্জাদ হোসেন।
আহত মোজাম্মেল জানায়, শনিবার বিদ্যালয়ে ক্লাসের প্রথম সারিতে বসাকে কেন্দ্র করে নবম শ্রেণীর হলাচাই মারমার সাথে কথা কাটাকাটি হলে বিষয়টি শ্রেণী শিক্ষক তাৎক্ষণিক মীমাংসা করে দেন। পরবর্তীতে আজ সোমবার বিদ্যালয়ে আসলে হলাচাই মারমার নেতৃত্বে বহিরাগত ও বিদ্যালয়ের সাথৈপ্রু মারমা, ক্যরী মারমা, মংক্যচিং, মারমা, খ্যাইচিং মারমা, কার্তিক, গণেশ, আলুঅং, থোয়াইপ্রু, বাইল্যা মারমা, উথাই মারমাসহ ১৮ থেকে ২০ জনের একটি দল ব্লেড, চাকু, চাবুক, লাঠি দিয়ে আমাদের উপর হামলা করে আহত করে।
ঘটনার পরপর হাসপাতাল ও বিদ্যালয়ে ছুটে যান উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) তামান্না নাসরীন উর্মি, অফিসার ইনচার্জ মাইন উদ্দিন খান, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মংপ্রু চৌধুরীসহ স্থানীয় কাউন্সিলর, অভিভাবক আহতদের দেখতে যান। পরবর্তীতে দুপুরে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে ইউএনও এর নেতৃত্বে একটি জরুরী  বৈঠকে মিলিত হন।  বৈঠকে ইউএনও বলেন, ঘটনা যা শুনলাম তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ঘটনায় জড়িত কোন পক্ষকে ছাড় দেয়া হবে না। তবে এ ইস্যুকে কেন্দ্র করে পাহাড়ী-বাঙ্গালি সম্প্রীতি নষ্ট করার কোন সুযোগ নেই।
রামগড় থানা ইনচার্জ মাইন উদ্দিন খান জানান, এ ঘটনায় জড়িত হামলাকারীদের মূল হোতা হলাচাই মারমাকে আটক করা হয়েছে। অন্যান্য হামলাকারীর ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ