ঢাকা, বুধবার 23 September 2020, ৮ আশ্বিন ১৪২৭, ৫ সফর ১৪৪২ হিজরী
Online Edition

সমালোচনার মুখে ভিয়েতনাম যুদ্ধের ছবি ফিরিয়ে আনল ফেইসবুক

অনলাইন ডেস্ক: নগ্নতার অভিযোগ তুলে ভিয়েতনাম যুদ্ধের প্রতীকে পরিণত হওয়া একটি ছবি সেন্সর করে সমালোচনায় পড়ার পর তা আবার শেয়ার করার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফেইসবুক কর্তৃপক্ষ।

ভিয়েতনাম যুদ্ধ নিয়ে পুলিৎজার পুরস্কারজয়ী আলোকচিত্র ‘নাপাম গার্ল’, যাতে নাপাম বোমা হামলার পর নগ্ন নয় বছরের একটি মেয়েসহ কয়েকটি শিশুর রুদ্ধশ্বাসে দৌড়ানোর চিত্র উঠে আসে, তা সেন্সর করে ফেইসবুক।

এর প্রতিক্রিয়ায় ফেইসবুকের প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার নরওয়ের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক ‘অফটেনপোস্টেন’র প্রথম পৃষ্ঠায় একটি খোলা চিঠি প্রকাশ হয়। এতে ‘বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর সম্পাদক’ হিসেবে জাকারবার্গকে কাজ চালিয়ে যেতে বলা হয়।

ফেইসবুক প্রথমে ছবিটি সরানোর পক্ষে যুক্তি দেয়: “এই ছবিটি আইকনিক হিসেবে আমরা বুঝতে পারলেও একই সঙ্গে একটি নগ্ন শিশুর আলোকচিত্র অনুমোদন করা এবং অন্যদের ক্ষেত্রে তা না দেওয়ার বৈষম্য করাটা কঠিন।”

এরপর বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সংবাদ সংস্থা ও গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞদের সমালোচনার পর শুক্রবার ফেইসবুক কর্তৃপক্ষ তাদের সিদ্ধান্ত বদলায় বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান।

গার্ডিয়ানকে  পাঠানো একটি বিবৃতিতে ফেইসবুক বলেছে, “আমাদের কমিউনিটির বক্তব্য শোনার পরে আমরা পুনরায় দেখি, এক্ষেত্রে আমাদের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ডস কীভাবে কাজ করে। একটি নগ্ন শিশুর ছবি স্বাভাবিকভাবে আমাদের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড লংঘন করে বলে ধরে নেওয়া হয় এবং কিছু কিছু দেশে এমনকি তা শিশু পর্নগ্রাফি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

“এই ক্ষেত্রে আমরা ছবিটির ইতিহাস এবং সময়ের বিশেষ মুহূর্ত তুলে আনতে এর বৈশ্বিক গুরুত্ব বুঝতে পেরেছি।”

উত্তর ভিয়েতনাম বাহিনীর অধিকৃত এলাকা ফিরে পেতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনপুষ্ট দক্ষিণ ভিয়েতনামি বাহিনী ১৯৭৩ সালের ৮ জুন তাদের দেশেরেই একটি এলাকায় ভুলবশত নিজেদের সৈন্যদের লক্ষ্য করে নাপাম বোমা নিক্ষেপ করে। দাহ্য পদার্থ দিয়ে তৈরি এই বোমায় আক্রান্তদের শরীর পুড়তে থাকে।

ওই বোমা হামলার পর গ্রামের আরও কয়েক শিশুর সঙ্গে দৌঁড়াতে থাকে নয় বছরের কিম পুফ, যার শরীরে কোনো কাপড় ছিল না।

এই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করে যুদ্ধের ভয়াবহতা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরে সাড়া ফেলেন এপির আলোকচিত্রী নিক ইউটি।

‘নাপাম গার্ল’ শিরোনামের ওই ছবি দিয়ে সম্প্রতি ফেইসবুকে একটি পোস্ট দেন নরওয়ের লেখক টম এগল্যান্ড। পোস্টে ‘যুদ্ধের ইতিহাস পাল্টে দেওয়া সাতটি ছবি’ নিয়ে আলোচনা করা হয়।

ফেইসবুক কর্তৃপক্ষ এগল্যান্ডের পোস্টটি সরিয়ে দেয় এবং নোটিশ আকারে পাঠানো ব্যাখ্যায় বলে, “কোনও ছবিতে যদি মানুষের যৌনাঙ্গ বা নিতম্ব অথবা নারীর স্তন সম্পূর্ণরূপে উন্মুক্ত থাকে তবে সেই ছবি সরিয়ে ফেলা হবে।”

এরপর দৈনিক অফটেনপোস্টেনে এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। ওই প্রতিবেদনটি ‘নাপাম গার্ল’ ছবিসহ পত্রিকাটির ফেইসবুক পাতায় পোস্ট করা হয়।

পরবর্তীতে ফেইসবুক কর্তৃপক্ষ এগলানের একাউন্ট বন্ধ করে দেয় এবং অফটেনপোস্টেনকে ওই ছবি সরিয়ে অথবা অস্পষ্ট করে দিয়ে প্রতিবেদনটি পোস্ট করতে বলে।

অফটেনপোস্টেন কর্তৃপক্ষ তার জবাব দেওয়ার আগেই ফেইসবুক কর্তৃপক্ষ ওই প্রতিবেদন ও ছবি পত্রিকাটির ফেইসবুক পাতা থেকে সরিয়ে ফেলে।

এর প্রতিক্রিয়ায় অফটেনপোস্টেনের প্রধান সম্পাদক ও সিইও এস্পেনে গিল হানসন ফেইসবুকের সমালোচনা করে বলেন, “তারা শিশু পর্নগ্রাফি ও যুদ্ধের স্মৃতি বহনকারী ঐতিহাসিক ছবির পার্থক্য করতে ব্যর্থ হয়েছে।

“এমনকি তারা জ্ঞানভিত্তিক আলোচনার জন্যও জায়গা দিতে ইচ্ছুক নয়।”

ফেইসবুকের প্রধান নির্বাহী জাকারবার্গ অবিবেচকের মতো ‘নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার’ করেছেন বলে অভিযোগ করেন হানসন।

তিনি বলেন, “আমি বিপর্যস্ত, হতাশ… আসলে আমি আতঙ্কগ্রস্তও। আমাদের গণতান্ত্রিক সমাজের একটি প্রধান অবলম্বন নিয়ে আপনি কি করতে চান?

“বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বাড়ানোর পরিবর্তে স্বাধীনতা হ্রাস করছে দেখে আমি চিন্তিত। স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থায় মাঝেমধ্যে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে দেখা যায়।”

জাকারবার্গের উদ্দেশে হানসন বলেন, “নরওয়ের সর্বাধিক প্রচারিত পত্রিকার প্রধান সম্পাদক হওয়ার পরও আমার মনে হচ্ছে, নিজের কক্ষে বসে সম্পাদক হিসেবে আমার দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আপনি আমার উপর বাধ্যবাধকতা আরোপ করছেন। আমার ধারণা, আপনি আপনার ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন।”

গার্ডিয়ান বলছে, এমন একটি সময়ে সংবাদ মাধ্যম ও ফেইসবুক এই বিতর্ক জড়ালো যখন এই দুইয়ের প্রভাব নিয়ে উত্তেজনা বাড়ছে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৪ শতাংশ নাগরিক ফেইসবুক থেকেই খবর পেয়ে থাকেন বলে তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ